English
ঢাকা, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

প্রকাশঃ ২০২৬-১১-০৪ ২০:২৩:৩৮
আপডেটঃ ২০২৬-১১-০৪ ২২:১০:৪৬


শিক্ষার্থীদের হাতে মোবাইল ফোন

শিক্ষার্থীদের হাতে মোবাইল ফোন

নজরুল ইসলাম লিখন


গেমে আসক্তি, গতি হারাচ্ছে শিক্ষা


রূপগঞ্জ থেকে

 নিত্য নতুন প্রযুক্তিতে ঝুকছে গোটা বিশ^| যুগের সাথে তাল মিলাতে থেমে নেই রূপগঞ্জের শিক্ষার্থীরাও| খেলাধুলা ও বইয়ের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে এখন ইন্টারনেট মোবাইল ফোন রয়েছে| বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ| ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন এখন শুধু শহরেই নয়, মফ¯^ল শহর রূপগঞ্জের গ্রামের ঘরেও পৌঁছে গেছে| একদিকে এটি যেমন যোগাযোগ, শিক্ষা ও তথ্যপ্রাপ্তির দারুণ একটি সুযোগ ˆতরি করেছে, অন্যদিকে কিছু নেতিবাচক দিকও সামনে এনে দিয়েছে| তার মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক একটি হলো— মোবাইল গেমে শিক্ষার্থীদের আসক্তি, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ প্রবণতা দিনদিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে|

আওলাদ হোসেন নামে একজন অীভভাবক বলেন, শিক্ষার্থীরা সারাদিন মোবাইল গেমে আসক্ত থাকে, অনেকে আবার অনলাইন জুয়ায়ও জড়িয়ে পড়েছে| তাই লেখাপাড়া এখন হারিয়েই যাচ্ছে| ইদানিংকালে প্রকাশিত এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সরকারী মুড়াপাড়া স্কুল এবং কলেজের ফল বিপর্যয়ই তার প্রমাণ|

একটা সময় রূপগঞ্জের শিশু-কিশোররা খেলাধুলা, গল্পগুজব, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে উঠত| কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ছোট ছোট শিক্ষার্থীর হাতেও স্মার্টফোন| সকাল-সন্ধ্যা চোখ মোবাইলের পর্দায়—ফ্রি ফায়ার, পাবজি, ক্ল্যাশ অফ ক্ল্যানস কিংবা নানা ধরনের  হ্যাশ অ্যাডিকটিভ’ গেমে ডুবে থাকে তারা| পড়াশোনা, ˆনতিকতা, ঘুম, পরিবার, এমনকি নিজের শরীরের যত্ন নেওয়ার কথা ভুলে যাচ্ছে তারা|

অনেক অভিভাবক এখন অভিযোগ করছেন, সন্তানদের পড়ার টেবিল ফাঁকা থাকে, কিন্তু মোবাইল সারাক্ষণ ব্যস্ত| অনলাইনে ক্লাসের নাম করে গেম খেলে সময় কাটানো, পড়ার সময় মনোযোগ না দেওয়া, পরীক্ষায় ফলাফল খারাপ হওয়া—সবকিছুই এক ভয়াবহ চক্রে পরিণত হয়েছে| বিশেষ করে গ্রামের শিক্ষার্থীরা যেখানে পড়াশোনার সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলকভাবে কম, সেখানে এই আসক্তি ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে|

গেমের মধ্যকার সহিংসতা, প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, অতিরিক্ত উত্তেজনা শিক্ষার্থীদের আচরণে প্রভাব ফেলছে| তারা ˆধর্য হারাচ্ছে, পরিবার ও শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ কমছে, এবং বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে|

মুড়াপাড়া সরকারী মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোস্তফা মিয়া বলেন, চেতনতা, দিকনির্দেশনা ও ভালোবাসার মাধ্যমে তাদেরকে গেমের আসক্তি থেকে মুক্ত করে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনবে| অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে—শিশুর হাতে মোবাইল তুলে দেওয়ার আগে ভাবতে হবে এর পরিণতি|

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সিদ্দিক নুর আলম বলেন, বিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক আলোচনার মাধ্যমে বিকল্প বিনোদনের সৃষ্টি করে—খেলার মাঠ, পাঠাগার, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দিলে শিক্ষার্থীরা গেম থেকে দূরে সরে আসবে| সহমর্মিতার সাথে পরামর্শমূলক আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের বোঝাতে হবে—মোবাইল গেম জীবনের লক্ষ্য হতে পারে না|

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম আব্দুল্লা বিন শফিক বলেন, ১৮ বছরের নীচে কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না| স্কুলে মোবাইল ব্যবহার সম্পূর্ন নিষিদ্ধ| এটা কেউ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে|


 লেখক পরিচিতি


 নজরুল ইসলাম লিখন

 সাংবাদিক 

 

 


ক্যাটেগরিঃ জীবনধারা,


আরো পড়ুন