ডা. আহমদ মরতুজা চৌধুরী
করোনার
জালে বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবন
তবু কি খুলবে না মনের বাতায়ন?
সারা পৃথিবীব্যাপী বিপদ ধাবমান,
গাছপালা
সৃষ্টিকুল মৃতপ্রায় কম্পমান।
সৃষ্টিকুল বসেছে মহাসভায়। হে প্রভু! পৃথিবী এতো বিপদের মুখোমুখি হয় নি। পৃথিবী সাজানোর জন্য আল্লাহ আদমকে জ্ঞান বুদ্ধি স্বাধীনতা দিয়ে অভিষিক্ত করেছিলেন। হে প্রভু! তুমি তো জানো, সেই অভিষেকে সৃষ্টিকুলে কী আনন্দ ছড়িয়ে পড়লো!

হায় এ কী হলো, আদম সন্তানেরা দানবীয় খেলায় মেতে উঠলো! পৃথিবীর সব সম্পদ কয়েকজনের হাতে চলে গেল। লোভের মুলা ঝুলিয়ে দেনার জালে ক্রেডিট কার্ডের ফাঁদে ফেলে পৃথিবীর সব সম্পদ লুটে নিয়ে গেল। পৃথিবীর অর্ধেক সম্পদ কয়েকজনের হাতে। তারপর চলে যাবে পাঁচজনের হাতে। তারা পৃথিবী ভরিয়ে দিচ্ছে বিষে। গাছগাছালি অ্যামাজন সব শেষ। অক্সিজেন শেষ হয়ে যাচ্ছে দানবদের হাতে। হাতির দাঁতের জন্যে পশু হত্যার উৎসব। ঘরের ডেকোরেশনের জন্য বাঘ হরিণ মেরে সাফ! কাঠি দিয়ে ভাত খাবার জন্য লক্ষ লক্ষ গাছ সাফ! হীরক সোনা তেলের লোভে পাহাড় মরু ঝাঁঝরা! পুড়ে যাচ্ছে জনপদ! পাখির মতো মরছে শিশু নারী মানব! হে প্রভু! যদি মানুষ না থাকে, গাছপালা না থাকে, পশুপাখি না থাকে, কী হবে এ পৃথিবী দিয়ে!
চারদিকে
বারুদের গন্ধ। মেয়েদের উলঙ্গ করে ফেললো পশুর দল! ফ্যাশন শো করে যাতে শরীরের ভাঁজ দেখা যায়। কচি শিশু বলে, হি হি হি উলঙ্গ মেয়ে হেঁটে যায়।
রাসুল
(দ:) বলেন, এমন একদিন আসবে, যেদিন মানুষ এমন ভাবে কাপড় পরবে মনে হবে তারা উলঙ্গ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এখন কী উপায়? নাকি আমরা পশুরা পাছা তুলে ফ্যাশন শো করবো যাতে মানুষ অবাক হয়ে যায়। নাকি লুকিয়ে যাব মাটির নীচে লজ্জায়!
হে প্রভু! তুমি তো সবই জানো। জলে জমিনে পাতানো আণবিক বোমা! এক টিপে পৃথিবী বারুদ হয়ে যাবে। বাতাস ভরে যাবে আণবিক বিষ কণায়। শিশুদের গেমসের ফাঁদে ফেলে সন্ত্রাসী বানানো হচ্ছে। পাখির গাছে জিপিআরএস। ভ্যাকসিন দিয়ে মানুষের গায়ে যদি লেগে যায় ডিজিটাল চিপস, তাহলে মানুষ হবে রোবট। লোভী দানব সুইচ টিপে নাচাবে মানুষ। হে প্রভু! পৃথিবী কি হয়ে যাবে চাঁদের মতো গাছপালা পশুহীন প্রান্তর! হে প্রভু! তুমি কি পাঠাবে নুহের প্লাবন, আদ জাতি বিনাশকারী নিনাদ, বাতাসের কাঁপন, ওলটপালট করে দেওয়া ভূকম্পন!
উত্তর চাই। সুনশান নীরবতা। সবাই প্রভুর দয়ার আশায় অপেক্ষমান।
এলো শুভক্ষণ। মুকুটের বেশে ভাইরাসের আগমন।
দানবের
থেমে গেল উল্মফন।
মেকি সভ্যতার কুৎসিত চেহারা
দেখা যায় বিলক্ষণ।
যাচাই বাছাই হবে
মানবতার
কতটুকু রয়ে গেল বন্ধন।
কেউ হয়ে যাবে পশুর মতন
আর কেউ হবে পবিত্র ফেরেশতার চেয়েও দামি রতন।
সন্তর্পনে
এলো করোনা। চীনের উহানে কয়েক শত রঙিন মুকুট নিয়ে নামলো। প্রথমে ঢুকলো নাকে, তারপর বংশ বিস্তার। উপসর্গ সামান্য কাশি। কতো শক্তিশালী। আল্লাহর অদৃশ্য বাহিনীর একটি। আরএনএ ভাইরাস। সে একাই যথেষ্ট। আর কোনো ব্যাক্টেরিয়ার সাহায্য লাগে না। ফুসফুসে বিস্তার ঘটায়। টের পাবার আগে ছড়িয়ে যায়। ফুসফুসের কোষগুলি চুপসে দেয়। ফুসফুসের বেলুন চুপসে যায়। অক্সিজেনের আদান প্রদান কমে যায়। দম বন্ধ হয়ে যায়। আর যদি রক্ত জমাট বাঁধা শুরু হয় তাহলে রক্ষা নাই। রক্তের প্রবাহ বন্ধ হয়ে বিবিধ অঙ্গ অবশ হয়ে যায়। যার শরীরে ডায়াবেটিস কিডনির অসুখ হার্টের অসুখ তার জটিলতা বাড়ে। আইসিইউর দরকার হয়। এতো আইসিইউ মানুষ পাবে কোথায়। যারা অক্সিজেন পায় না তারা মারা যায়। উহানের ঘরে মানুষের লাশ। বিশ্বনেতারা বল্লেন ‘চীনা ভাইরাস’। কিচ্ছু হবে না। চীনা থেকে ফ্লাইট চলবে না। ভাইরাস কি আটকানো যায়?
এক চীনা পর্যটক ইটালির হাসপাতালে করোনা নিয়ে ঢুকলো। হাসপাতালে করোনা ছড়ালো। আর যায় কই। শহরে শত মানুষের শরীরে করোনা। পরদিন ফুটবল ম্যাচ। লক্ষ মানুষের গাদাগাদি। বনফায়ারের মতো করোনা ছড়ালো। পরদিন স্পেনে উইমেন ডে র্যালি। ইটালি থেকে লাখ লাখ নারী স্পেনে। হাতে হাত ধরে ভাইরাসের বিস্তার। শুরু হলো লাশের মিছিল। ঘরে ঘরে বেওয়ারিশ লাশ। যারা বুড়ো, তাদের জন্য হাসপাতালের দুয়ার বন্ধ। যারা মরবে তাদের জন্য অক্সিজেন খরচ করে কী লাভ। ইউরোপীয় সমাজ যে কতো অমানবিক তা বিশ্ববাবাসী দেখলো। যে বুড়ো সারাজীবন দেশের সেবা দিলো, সে কুকুরের চেয়ে খারাপ দশায় পড়ে রইলো। গণকবরে গাদাগাদি মানুষ। করোনা ঠেকানো গেল না। সে ঢুকলো রাজার প্রাসাদে, ব্রিটেনের রাণীর প্রাসাদে, চার্লসের শরীরে, প্রধানমন্ত্রীর শিরায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ফুসফুসে। সমুদ্রে ভাসমান বিমানবাহী জাহাজ রুজভেল্টের নাবিকের শরীরে। হই হই রই রই।
করোনা ঢুকে গেল আমেরিকায়। ঘরে ঘরে লাশ। ট্রাম্প হতাশ। বাংলাদেশ থেকে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেশ ছেড়ে পাড়ি দিলেন আমেরিকার স্বর্গে। তিনি আর স্ত্রী থাকেন এক ফ্লাটে। ছোট ভাই উপর তলায় সপরিবারে। বড় ভাই করোনা আক্রান্ত হয়ে সিঁড়িতে নামার সময় মারা গেলেন। স্ত্রী লাশ নিয়ে চার দিন দাফনের অপেক্ষায়। ছোট ভাই সিঁড়িতে নেমে লাশ দেখতে এলো না, পাছে করোনায় আক্রান্ত হয়ে যায়।
হায়রে মানুষ! পয়সার উপর দিয়ে হেঁটে অমানুষ হয়ে গেল। কী দরকার ছিল জান কুরবান করে আমেরিকান হবার, স্বর্গ ভেবে নরকে পা রাখার! পাশের বাড়ির ভদ্রলোক হাসপাতালে মারা গেল। তার প্রিয় কুকুর সাতদিন না খেয়ে হাসপাতালের বারান্দায় মনিবের অপেক্ষায়! কিছু মানুষ যে কুকুরের চেয়ে খারাপ হতে পারে, তা করোনা দেখিয়ে দিল। কেন যে কিছু কিছু মানুষ কুকুরের চেয়ে অধম হয়ে যায়! নিউ ইয়র্কের রাস্তায় কুকুরের করুণ কান্নার হৃদয় দুমড়ানো আওয়াজ শোনা যায়। ফ্রয়েডের গলায় সাদা পুলিশ চাপ দিয়ে বর্ণবাদের বিষ ছড়ায়। কিছু সাদা পশুর হাতে মানুষ মারা যায়। হিংস্র হায়েনা