English
ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

প্রকাশঃ ২০২৬-১০-২৬ ১৫:৫১:১০
আপডেটঃ ২০২৬-১০-২৬ ২০:১১:০৭


প্রগতির প্যারাডক্স; বাইরে উন্নয়ন, ঘরে টানাপোড়েন

প্রগতির প্যারাডক্স; বাইরে উন্নয়ন, ঘরে টানাপোড়েন

ফাতেমা আক্তার


ঢাকার শিক্ষিত কর্মজীবী নারীদের অপ্রকাশিত সংকট

কর্মজীবী মায়েদের কয়েক শতক ক্লান্ত আর অসম পরিচর্যার রাত:

 দৃশ্যটি কল্পনা করুন!  ঢাকার একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্য রাত;  বারোটা ৪৫ মিনিট!  নিশি (ছদ্মনাম) বয়স ৩০ সারাদিন অফিসের নানা ডেডলাইন সামলে, তীব্র যানজটের ধকল শয়ে, ঘরে ফিরে একটু বিশ্রাম না নিয়ে ঘরের কাজ সামলে, বাচ্চাকে ঘুম পাড়িয়ে ভীষণ ক্লান্ত শরীর নিয়ে বিছানায় গেলেন ,তার পাশেই তার আড়াই বছরের মেয়েও ঘুমে ছিল !পাশেই নিশির স্বামী তখনও বেড সাইড ল্যাম্পের আলোয় বই পড়ছিলেন! সারাদিনের ধকলে ক্লান্ত নিশি বিছানায় যাওয়া মাত্রই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল ! হঠাৎ শিশুটির অস্বস্তি টের পেয়ে নিশির স্বামী নিশিকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুললেন , বোধহয় বাচ্চাটির ডায়াপার ভারী হয়ে গেছে, তার ডায়াপার চেঞ্জ করতে হবে!  নিশি ধড়ফড় করে উঠে পড়ল, মেয়ের ডায়াপার চেঞ্জ করলো ! কাঁচা ঘুম থেকে ওঠার কারণে ইতিমধ্যে মাথাব্যথাও শুরু হয়ে গেছে! ডায়াপার চেঞ্জ করে নিশি আবার বালিশে মাথা দিল কিন্তু ততক্ষণে তার ঘুম উধাও হয়ে গেছে ! শুয়ে শুয়ে নিশির মনের মধ্যে তখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগলো: আচ্ছা আমরা দুজনেই তো এই বাচ্চাটার বাবা-মা, অভিভাবক!  আমার স্বামী তো তখন জেগেই ছিলেন , তাহলে কেন আমাদের বাচ্চাটার অস্বস্তি বুঝেও ডায়াপার তিনি চেঞ্জ করলেন না;  তিনি নিজে থেকে চেঞ্জ করার তাগিদ অনুভব না করে আমাকে কেন জাগিয়ে তুললেন ? মেয়ের ভিজে ডায়াপার চেঞ্জ করার বিষয়ে তার স্বামী কেন  দায়িত্ববোধ ফিল করলেন না? সব সময় কেন আমাকে তা করতে হবে? এমনকি ঘুম ভাঙিয়েও তা আমাকে করতে হয় ?

এভাবে নানা প্রশ্ন নিশির মনের মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে! আমার স্বামী কেন আমার সারাদিনের ক্লান্তি দেখতে পান না ? কিভাবে তার চোখ এড়িয়ে যায়? এই যে আমি এত দেরি করে ঘুমাতে আসি সব গুছিয়ে আবার অনেক ভোরে উঠে সব গুছিয়ে অফিসের জন্য বের হয়ে যাই! এভাবে নানা ভাবনায়, প্রশ্ন, উত্তর খুঁজতে খুঁজতে নিশি একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো!

এখানে,  এই যে মধ্যরাতে ঘুম ভেঙে, যে কাজটি নিশি করলেন তার ছোট্ট মেয়ের জন্য- দৃশ্য বা অদৃশ্য, সেটা ছিল তার সম্পূর্ণ একার এবং খুব চুপিসারে অথচ হৃদয়ে  বিঁধে থাকা একটা নীরব দুঃখের মতো!

এখানে গল্পটা শুধুমাত্র কে ডায়াপার চেঞ্জ করছে সেটা না, গল্পটা সেখানেই , কে দায়িত্ব নিচ্ছে? কাকে দায়িত্বশীল করা হচ্ছে? কার সারাদিনের ক্লান্তি এবং অবসাদকে acknowledged করা হচ্ছে, কার দায়িত্ব, শ্রম সাইলেন্টলি এক্সপেক্ট করছে এই পরিবার, সোসাইটি !

এই যে মুহূর্তটা, যা ক্যাপচার করেছে একজন কর্মজীবী মায়ের  ইমোশনাল এবং সিম্বলিক টেনশন!  মধ্যরাতের এই দৃশ্যটা সেই দ্বন্দ্বকে ইঙ্গিত করে যা প্রতিদিন একজন কর্মজীবী মহিলা প্রতিদিন নেভিগেট করে যা ফাতেমা আক্তারের করা পিএইচডি গবেষণা " Women Labour Force Participation and the Status Conflict Within the Family: A Case Study in Dhaka Metropolitan City " এর মূল কথা!

এই গবেষণায় ফাতেমা আক্তার ঢাকার শহুরে জীবনের বাস্তবতা বোঝার জন্য ৩০ জন কর্মজীবী নারীর জীবনের lived experience পর্যবেক্ষণ করেছেন। তাদের দৈনন্দিন জীবন, household management, সন্তান লালন‑পালন, অফিসের চাপ, এবং পারিবারিক প্রত্যাশার মধ্যে যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়—সবকিছুই তিনি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।

 

ভূমিকা ও গবেষণার ভিত্তি:

সমস্যার বিবৃতি (Statement of the Problem)

ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের নারীদের পরিচয় মূলত গৃহস্থালির চারদেওয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, যেখানে পুরুষের অধীনতা একটি স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে মেনে নেওয়া হতো এবং গৃহস্থালি যত্নকে তাদের সহজাত দায়িত্ব মনে করা হতো।ঐতিহ্যবাহী সমাজে দৃশ্যপট ছিল একরকম! ট্রেডিশনালি বাংলাদেশী নারীদের পরিচয় মূলত গড়ে উঠেছে কঠোর জেন্ডার নিয়মের (rigid gender norms) ভেতর দিয়ে—যেখানে একজন নারী মানে একজন মা, একজন স্ত্রী, এককথায় একজন পরিচর্যাকারী (caregiver)। এই ভূমিকা নারীরা শৈশব থেকেই সামাজিকীকরণের (socialization) মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ করে নেন। পুরুষ মানে পরিবারের উপার্জনকারী (bread earner), আর নারী মানে পরিচর্যাকারী (care‑giver)। কিন্তু আধুনিক সমাজে সেই দৃশ্যপট বদলেছে। ঔপনিবেশিক সময়ে আধুনিক শিক্ষার (modern education) প্রবর্তন এই ঐতিহ্যবাহী ধারাকে ব্যাহত করে। আধুনিক শিক্ষার প্