English
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রকাশঃ ২০২৬-০৯-০৪ ০১:২৮:৫০
আপডেটঃ ২০২৬-০৯-২২ ১৪:৫৯:৪০


ব্রাহ্মা: চট্টগ্রামের নাম জড়িয়ে থাকা এক রাজকীয় মুরগির জাত

ব্রাহ্মা: চট্টগ্রামের নাম জড়িয়ে থাকা এক রাজকীয় মুরগির জাত

মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান


বিশাল দেহ, ঘন পালক, পালকে ঢাকা পা আর গম্ভীর ভঙ্গিব্রাহ্মা মুরগিকে দেখলে সাধারণ মুরগির সঙ্গে এর পার্থক্য সহজেই চোখে পড়ে। আকার সৌন্দর্যের কারণে একসময় এই জাতকে বলা হতোমুরগির জাতগুলোর রাজা কিন্তু ব্রাহ্মার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক শুধু তার বিশাল আকৃতি নয়; এর ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে চট্টগ্রাম, ব্রহ্মপুত্র এবং বাংলা অঞ্চলের নাম

 


ব্রাহ্মা মুরগি

 

ব্রাহ্মাকে বর্তমানে মূলত একটি আমেরিকান জাত হিসেবে বর্ণনা করার চেষ্টা করা হলেও  এর বংশগঠনের ইতিহাস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। প্রচলিত ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ১৮৪০-এর দশকে চীনের সাংহাই বন্দর থেকে বড় আকারের পালকযুক্ত কিছু মুরগি আমেরিকায় পৌঁছায়। একই সময়ে পূর্ব বাংলার চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে পাওয়াগ্রে চট্টগ্রামবা Grey Chittagong ধরনের মুরগিরও ব্রাহ্মার বিকাশে প্রভাব ছিল বলে মনে করা হয়।

এই কারণেই ব্রাহ্মার পুরোনো নামগুলোর মধ্যে ‘Chittagong’, ‘Grey Chittagong’, ‘Shanghai’ এবং ‘Brahmapootra’ পাওয়া যায়। অর্থাৎ আজকের বাংলাদেশের চট্টগ্রামের নামটি এই মুরগির ইতিহাসে নিছক কাকতালীয়ভাবে আসেনি।

 

চট্টগ্রাম থেকে ব্রাহ্মার গল্প

ব্রাহ্মার উৎপত্তি নিয়ে উনিশ শতক থেকেই নানা মত প্রচলিত ছিল। কেউ মনে করতেনমুরগিগুলো সরাসরি বাংলা অঞ্চল থেকে আমেরিকায় গিয়েছিল। আবার অন্য মত ছিল, চীনের সাংহাই থেকে আসা বড় মুরগির সঙ্গে চট্টগ্রাম অঞ্চলের মালয়-ধরনের মুরগির সংকরায়ণের ফলেই পরবর্তীতে আমেরিকায় ব্রাহ্মা গড়ে ওঠে

পুরোনো একটি ঐতিহাসিক বিবরণে ব্রহ্মপুত্র নদপথের কাছাকাছি লাকিপুর (Luckipoor) নামের একটি স্থানের কথাও পাওয়া যায়। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, ব্রাহ্মার পূর্বপুরুষসদৃশ মুরগি ব্রহ্মপুত্র নদপথের কাছাকাছি ওই অঞ্চল থেকে জাহাজে আমেরিকায় গিয়েছিল। যা মূলত লক্ষীপুরের কথাই প্রমাণ করে।

বাংলার পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে চট্টগ্রামের মুরগির বংশগত বৈশিষ্ট্য ব্রাহ্মার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল বলে ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। ব্রাহ্মার মাথার আকৃতি, ছোট মটরদানার মতো ঝুঁটি এবং চোখের ওপর এগিয়ে থাকা ভ্রুর মতো বৈশিষ্ট্যগুলো চট্টগ্রামের Grey Chittagong-এর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ব্রিড-ইতিহাসে উল্লেখ করা হয়।

আর এখানেই বাংলাদেশের জন্য ব্রাহ্মার ইতিহাসটি বিশেষ আকর্ষণীয়। আজ যে জাতটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শৌখিন প্রদর্শনী মুরগি হিসেবে পরিচিত, তার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র এসে মিশেছে ঐতিহাসিক পূর্ব বাংলা চট্টগ্রামে

 

 

১৮৫২: ব্রাহ্মা নামের প্রতিষ্ঠা

উনিশ শতকের মাঝামাঝি আমেরিকায় এই বিশাল আকারের মুরগি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। তখন একই ধরনের মুরগিকে বিভিন্ন নামে ডাকা হতো। ‘Shanghai’, ‘Chittagong’, ‘Brahmapootra’—এমন একাধিক নাম প্রচলিত ছিল

১৮৫২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে ব্রিডারদের মধ্যে আলোচনার পর ‘Brahmapootra’ নামটি গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে নামটি সংক্ষিপ্ত হয়ে ‘Brahma’ হয়। নামটির সঙ্গে বাংলার ব্রহ্মপুত্র নদীর সম্পর্ক ছিল।

একই বছর ব্রাহ্মা ব্রিটেনেও পৌঁছে যায়। এর পর ইওরোপে জাতটি দ্রুত পরিচিতি লাভ করে এবং বৃহৎ আকারের