এস. আহমেদ
হাতির
সবচেয়ে বড় ভয় বন্দুকের
গুলির আওয়াজ। অথচ আমরা, যারা
প্রতিদিন জীবন ও সম্পদ
রক্ষার সংগ্রামে আছি, তারা আজও
প্রয়োজনীয় আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স সহজে পাই না।
আমাদের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বল্পমূল্যে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান করা হোক। একই
সঙ্গে প্রতিটি রাবার বাগানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যুতের
অভাবে আমরা সময়মতো গাছে
পানি দিতে পারছি না।
ফলে গাছ দিন দিন
শুকিয়ে যাচ্ছে এবং আমাদের বছরের
পর বছরের পরিশ্রম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
বিদ্যুতের
লাইন ও খুঁটি দেওয়ার
নামে ঘুষের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।
আমার কাছে মাত্র পনেরটি
খুঁটির জন্য সাড়ে তিন
লাখ টাকা ঘুষ দাবি
করেছেন বান্দারবানের লামা বিদ্যুৎ অফিসের একজন কর্মকর্তা, যার
বাড়ি দক্ষিণবঙ্গে। আমরা যদি নিরবচ্ছিন্ন
বিদ্যুৎ পেতাম, তাহলে হাতির অত্যাচার অনেকটাই কমে যেত। কারণ,
আলো জ্বালানো থাকলে হাতি সাধারণত বাগানে
কম প্রবেশ করে এবং কম
তাণ্ডব চালায়।
এই
রাবার বাগানের স্বপ্ন দেখেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর
রহমান। তিনি আজ আমাদের
মাঝে নেই, কিন্তু তার
সন্তান আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী।
আমরা আশা করি, তিনি
তার বাবার স্বপ্ন বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন এবং দেশের এই
সম্ভাবনাময় খাতকে আবারও এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
আজ
রাবার চাষ করে কোনো
লাভ হচ্ছে না। আগে একজন
ট্যাপার, অর্থাৎ যিনি রাবার গাছ
থেকে রাবার সংগ্রহ করেন, তার মাসিক বেতন
ছিল এক হাজার আটশ
টাকা। এখন সেই বেতন
চৌদ্দ হাজার টাকা। কিন্তু বিশ বছর আগে
রাবারের যে দাম ছিল,
আজও প্রায় সেই অবস্থাতেই রয়েছে।
অনেক সময় আবার সেই
দামের চেয়েও কমে যায়। বছরের
শেষে হিসাব করলে দেখা যায়,
নিজের পকেট থেকে টাকা
দিয়ে ঘাটতি পূরণ করতে হয়।
তার ওপর রয়েছে হাতির
ভয়াবহ অত্যাচার। আমরা কীভাবে টিকে
থাকব? এই ছেচল্লিশ বছরে
কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ
করেছি লাভের আশায়, কিন্তু লাভের মুখ দেখিনি। তবুও
এই পাহাড় ছেড়ে চলে যাইনি।
ভালোবাসা, মায়া এবং দায়িত্ববোধ
আমাদের আজও এই পাহাড়ের
সঙ্গে বেঁধে রেখেছে।
এই
পাহাড়ে আমাদের অবদান কোনো অংশেই কম
নয়। আমরা যারা এখানে
বসতি গড়ে তুলেছি, তাঁদের
পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিডিআর, পুলিশ এবং আরও অনেকের
ত্যাগ ও অবদানের কারণেই
আজও এই পার্বত্য অঞ্চল
বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে রয়েছে।
তাঁদের অবদান না থাকলে হয়তো
অনেক আগেই আমরা এই
অঞ্চল হারিয়ে ফেলতাম।
আমার
বাবা ঢাকার বাড়ি বিক্রি করে
অনেক আশা ও স্বপ্ন
নিয়ে এই পাহাড়ে বসতি
স্থাপন করেছিলেন। রাবার চাষ ও কৃষির
মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার স্বপ্ন দেখেছিলেন। আমরাও সেই স্বপ্ন নিয়েই
আজ পর্যন্ত সংগ্রাম করে যাচ্ছি। কিন্তু
কিছু মানুষের অসহযোগিতা, দুর্নীতি ও অবহেলার কারণে
সেই স্বপ্ন আজও বাস্তবায়িত হয়নি।
এই
সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা—শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর
রহমানের রাবার শিল্প গড়ে তোলার স্বপ্ন
যেন আর বিলম্ব না
করে বাস্তবায়ন করা হয়। আমরা
ঘুষমুক্ত বিদ্যুৎ সংযোগ চাই, ঝামেলামুক্তভাবে আগ্নেয়াস্ত্রের
লাইসেন্স চাই, সুদমুক্ত ব্যাংক
ঋণ চাই, বাগানের ভেতর
দিয়ে যাতায়াতের উপযোগী রাস্তা চাই, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে
সরকারি সহযোগিতা চাই, ন্যায্যমূল্যে সার
চাই, যৌক্তিক মূল্যে লিজ নবায়নের সুযোগ
চাই এবং সরকারের সর্বস্তর
থেকে আন্তরিক সহযোগিতা চাই।
আমরা
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাবার শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করে দেশকে আরও
স্বনির্ভর করতে চাই। তবে
এসবের আগে আমাদের সবচেয়ে
বড় প্রয়োজন—জীবনের নিরাপত্তা। কারণ, জীবন নিরাপদ না
থাকলে কোনো স্বপ্নই বাস্তবে
রূপ নেয় না।
লেখক
পরিচিতি : বান্দরবানে বসবাসকারী ব্যবসায়ী।
ড. বিজন কুমার শীল বিস্তারিত
বিপরীত স্রোত প্রতিবেদন বিস্তারিত
ডা. আহমদ মরতুজা চৌধুরী বিস্তারিত
যারিন মালিয়াত অদ্রিতা বিস্তারিত
মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান বিস্তারিত
তিনদিনব্যাপী ডাকটিকিট প্রদর্শ.. বিস্তারিত
পটার সিরিজ বিশ্বের ৮৫টিরও বেশি.. বিস্তারিত
জীবন নিরাপদ না থাকলে কোনো স্ব.. বিস্তারিত
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান বিস্তারিত
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান বিস্তারিত