প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
একজন
বাংলাদেশি
শিক্ষাবিদ,
রাজনৈতিক
বিজ্ঞানী
ও
বিশ্ববিদ্যালয়
প্রশাসক।
তিনি
জাহাঙ্গীরনগর
বিশ্ববিদ্যালয়ের
সরকার
ও
রাজনীতি
বিভাগের
সাবেক
শিক্ষার্থী।
২০১৮
সালে
তিনি
জাহাঙ্গীরনগর
বিশ্ববিদ্যালয়
থেকে
গভর্ন্যান্স
ও
মানবাধিকার
বিষয়ে
পিএইচডি
অর্জন
করেন।
সোমালিয়ায়
যাওয়ার
পর
তিনি
City University of Mogadishu-এর Political Science
Department-এর প্রধান
হিসেবে
দায়িত্ব
পালন
করেন।
বাংলাদেশে
তিনি
Asian University of Bangladesh (AUB)-এর
Government and Politics Department-এর
প্রধান
হিসেবেও
কাজ
করেছেন।
২০২৪
সালের
জুনে
তাকে
Daaru Salaam University-এর ভাইস-চ্যান্সেলর
নিয়োগ
দেওয়া
হয়।
জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দর্শনে আপসহীন মেধা ও মনন দিয়ে প্রমাণ করেছেন, রাজপথের লড়াই কখনো একাডেমিক উৎকর্ষের অন্তরায় নয়; বরং পরিপূরক। প্রচলিত আপসকামী ও সুবিধাবাদী বুদ্ধিবৃত্তিক স্রোতের বিপরীতে দাড়িয়ে তার এই অভিযাত্রা। সম্প্রতি তার সঙ্গে কথা বলেছেন বিপরীত স্রোত সম্পাদক মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান

রাজপথের ধুলো থেকে উপাচার্যের আসন
বিপরীত স্রোত: রাজপথের লড়াই-সংগ্রামের উত্তাল দিনগুলো পেরিয়ে আজ বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষার উপাচার্যের আসন—এই জীবন-প্রবাহকে আপনি কীভাবে সংজ্ঞায়িত করবেন?
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান: জীবনকে আমি কখনো কোনো খণ্ডিত বা বিচ্ছিন্ন ফ্রেমে দেখি না, এটি মূলত একটি অবিচ্ছিন্ন নদী। রাজপথ আমাকে শিখিয়েছে অবদমিত মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন ও ক্ষোভকে অনুধাবন করতে; অধিকারের দাবিতে আপসহীন ও অপরাজেয় হতে। আর একাডেমিক জগৎ আমাকে শিখিয়েছে সেই মানবিক ও সামাজিক সংকটগুলোকে বৈজ্ঞানিক, কাঠামোগত ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সমাধান করতে। রাজপথের ধূলিকণা আর উপাচার্যের মর্যাদাপূর্ণ চেয়ার—দুটিই আসলে মানবকল্যাণ, ইনসাফ ও সমাজ বিনির্মাণের ভিন্ন দুটি প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম মাত্র।
বিপরীত স্রোত: ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা আপনার অন্তরের অপরাধবিজ্ঞানী এবং মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ সত্তাটিকে ঠিক কতখানি শাণিত ও বেগবান করেছে?
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান: এর প্রভাব অত্যন্ত প্রগাঢ় এবং সুদূরপ্রসারী। অপরাধবিজ্ঞান বা মানবাধিকারের পাঠ কেবল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত লাইব্রেরির চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয় নয়। রাজপথে যখনই বৈষম্য, নিপীড়ন, অধিকার হরণ ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার নগ্ন অপব্যবহারের মুখোমুখি হয়েছি, তখনই আমার অন্তরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এক অদম্য আকুলতা তৈরি হয়েছিল। সেই সংক্ষুব্ধ তাড়না থেকেই আমি অপরাধের উৎস ও মানবাধিকার রক্ষার প্রায়োগিক দিকগুলোকে আমার তাত্ত্বিক গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিই।
বিপরীত স্রোত: আপনি সব সময়ই জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দর্শনের প্রতি গভীর আনুগত্য প্রকাশ করেন। বিদেশের একটি নিরপেক্ষ, মুক্ত ও ধর্মনিরপেক্ষ একাডেমিক পরিবেশে সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনার এই রাজনৈতিক আদর্শিক সত্তা কি কখনো কোনো মনস্তাত্ত্বিক বা প্রাতিষ্ঠানিক দ্বিমত সৃষ্টি করেনি?
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান: বিন্দুমাত্র নয়। জাতীয়তাবাদ কোনো সংকীর্ণ দেয়াল বা উগ্রবাদ নয়; এটি নিজের দেশ, মাটি, সংস্কৃতি ও মানুষকে ভালোবাসার এক সর্বোচ্চ আত্মিক ও রাজনৈতিক মহিমা। উন্নত বিশ্বের জ্ঞানভিত্তিক সমাজ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আদর্শিক বৈচিত্র্যকে পরম শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ করে। একজন উপাচার্য হিসেবে আমি যখন সততা, পেশাদারিত্ব ও যোগ্যতার পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছি, তখন আমার আদর্শিক সততা তাদের কাছে বাধা মনে হয়নি; বরং তা আমার চরিত্রের এক অনন্য শক্তি এবং নৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবেই সমাদৃত হয়েছে।
বিপরীত স্রোত: আমাদের সমাজে একটি প্রচার রয়েছে যে, সক্রিয় রাজনীতি একাডেমিক উৎকর্ষের অন্তরায়। আপনার এই অনন্য বৈশ্বিক অর্জন কি সেই প্রচলিত ও একপেশে ধারণার বিরুদ্ধে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক জবাব?
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান: আমি একে 'জবাব' না বলে একটি 'বিকল্প আলোকবর্তিকা' বা ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। রাজনীতি যদি হয় সমাজ পরিবর্তনের বিশুদ্ধ হাতিয়ার, তবে তা কখনো মেধার বৈরী হতে পারে না। সংকীর্ণ দলীয় দাসত্ব, চাটুকারিতা ও লেজুড়বৃত্তি মেধার বিকাশ রুদ্ধ করে ঠিকই, কিন্তু বৃহত্তর জনকল্যাণ ও স্বাধিকারের রাজনীতি মানুষের চেতনাকে আরও শাণিত ও প্রসারিত করে। আমি বিশ্বাস করি, আদর্শ, নৈতিকতা ও গভীর অধ্যবসায়ের সুষম সমন্বয় ঘটলে মেধার সর্বোচ্চ শিখর ছোঁয়া অসম্ভব কিছু নয়।

বৈশ্বিক গৌরব ও স্বদেশের প্রতি দায়বদ্ধতা
বিপরীত স্রোত: বিদেশের মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি উপাচার্য হিসেবে যখন আপনার নাম ঘোষিত হলো, সেই মুহূর্তের অনুভূতি কেমন ছিল?
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান: সেই অনুভূতি ব্যক্তিগত উল্লাসের সীমা ছাড়িয়ে এক গভীর জাতীয় দায়বদ্ধতায় রূপ নিয়েছিল। উপাচার্যের সেই গুরুভার গ্রহণের মুহূর্তে আমার মনে হয়েছিল—এই অর্জন কেবল আমার ব্যক্তিগত নয়, এটি বাংলার কোটি বঞ্চিত তরুণের সুপ্ত মেধার এক বৈশ্বিক স্বীকৃতি। বিশ্বমঞ্চে এটি এই অমোঘ বার্তাই পৌঁছে দেয় যে, সঠিক সুযোগ, মেধার মূল্যায়ন ও উপযুক্ত পরিবেশ পেলে বাংলাদেশের মানুষ যেকোনো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানকে দক্ষতার সাথে নেতৃত্ব দেওয়ার এবং পরিবর্তনের দিশারী হওয়ার যোগ্যতা রাখে।
বিপরীত স্রোত: একজন অপরাধবিজ্ঞানী এবং সুশাসন বিশেষজ্ঞ হিসেবে, উন্নত বিশ্বের প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও নাগরিক অধিকারের কোন মৌলিক দিকগুলো আপনাকে সবচেয়ে বেশি আলোড়িত করে?
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান: উন্নত বিশ্বের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো ব্যক্তির চেয়ে 'প্রতিষ্ঠানের শ্রেষ্ঠত্ব' এবং 'আইনের নিরপেক্ষ শাসন'। সেখানে আইনের চোখে সবাই সমান—এই মহান নীতিটি কেবল কাগজের সংবিধানে ধুলোবালি মাখানো অবস্থায় থাকে না, মানুষের প্রাত্যহিক যাপনচিত্রেও দৃশ্যমান। প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা, ক্ষমতার সুষম বিকেন্দ্রীকরণ এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকারের প্রতি রাষ্ট্রের যে নিঃশর্ত দায়বদ্ধতা, তা-ই একটি ভঙ্গুর সমাজকে সুসভ্য ও উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তর করে।
বিপরীত স্রোত: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এত বিপুল খ্যাতি, রাজকীয় স্বাচ্ছন্দ্য এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনের মাঝেও, কোন অতৃপ্তি বা টান আপনাকে প্রতিনিয়ত স্বদেশের মাটির কথা মনে করিয়ে দেয়?
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান: সেটি হলো নাড়ির টান, যা কোনো ভৌগোলিক দূরত্ব বা বৈভবের মোহে মুছে ফেলা যায় না। পৃথিবীর যেখানেই থাকি না কেন, আমার চেতনার গভীরে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের মেঠোপথ, রাজপথ আর সাধারণ মানুষের আবেগ। উন্নত বিশ্বের সমৃদ্ধি দেখার সময় আমার মন প্রতিনিয়ত ডুকরে কেঁদে ওঠে—আমার প্রিয় মাতৃভূমি কেন এমন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে না? এই অপূর্ণতা এবং স্বদেশের প্রতি ঋণশোধের আকুলতাই আমাকে বারবার বাংলার মাটির দিকে টানে।

রাষ্ট্রীয় সংকট, সুশাসন ও শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠন
বিপরীত স্রোত: বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংকটগুলো আপনি কোথায় দেখছেন?
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান: সবচেয়ে বড় সংকট হলো তীব্র রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বৈরাচারী মানসিকতা। যখন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জনকল্যাণের পথ পরিহার করে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা দলের স্বার্থরক্ষার হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তখন সুশাসন নির্বাসনে যায়। মানবাধিকার রক্ষা করতে হলে সবার আগে বিচার বিভাগের পূর্ণ ও দৃশ্যমান স্বাধীনতা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
বিপরীত স্রোত: আমাদের দেশের অপরাধ সংস্কৃতির যে প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত রূপ আমরা দেখি, তা উপড়ে ফেলতে একজন অপরাধবিজ্ঞানী হিসেবে আপনার প্রথম ও প্রধান পরামর্শ কী হবে?
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান: অপরাধ দমনের সনাতন বা কেবল শাস্তিমূলক ধারণা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। শুধু শাস্তির ভয় দেখিয়ে অপরাধ নির্মূল করা যায় না, অপরাধের পেছনের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণগুলো উপড়ে ফেলতে হবে। বাংলাদেশে বিরাজমান 'বিচারহীনতার সংস্কৃতি' অবসান করাই হবে প্রথম ও প্রধান পদক্ষেপ। অপরাধী রাজনৈতিক বা সামাজিকভাবে যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতেই হবে।
বিপরীত স্রোত: বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাত বর্তমানে এক গভীর নীতিগত ও আদর্শিক সংকটকাল পার করছে। বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করতে কী ধরনের আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করেন?
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান: আমাদের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আমলাতান্ত্রিক ও দলীয় রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করে প্রকৃত 'একাডেমিক স্বায়ত্তশাসন' ফিরিয়ে দিতে হবে। মুখস্থবিদ্যা ও সার্টিফিকেট-সর্বস্ব শিক্ষার পরিবর্তে গবেষণা, উদ্ভাবন ও চিন্তার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক চাটুকারিতার পরিবর্তে মেধা, সততা এবং আন্তর্জাতিক অ্যাকাডেমিক সুনামের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া বাধ্যতামূলক করতে হবে।
বিপরীত স্রোত: একটি আধুনিক রাষ্ট্রের জন্য 'সিভিক লিডারশিপ' বা দক্ষ নাগরিক নেতৃত্ব অপরিহার্য। আমাদের দেশে এই ঘাটতি পূরণের উপায় কী?
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান: নাগরিক নেতৃত্ব কখনো শূন্য থেকে জন্ম নেয় না; এর জন্য প্রয়োজন সুস্থ, নিয়মতান্ত্রিক ও আদর্শিক ছাত্ররাজনীতি এবং মুক্তবুদ্ধি চর্চার অবারিত পরিবেশ। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যদি সুস্থ বিতর্ক, মুক্তচিন্তা, নেতৃত্ব গুণাবলীর বিকাশ এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা যায়, তবেই সমাজকে আলোকিত করার মতো সৎ, দেশপ্রেমিক ও দূরদর্শী নাগরিক নেতৃত্ব তৈরি হবে।
স্বদেশের কল্যাণে সম্পৃক্ততা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা
বিপরীত স্রোত: বাংলাদেশের এই ক্রান্তিলগ্নে দেশের কল্যাণে, বিশেষ করে শিক্ষা নীতি, সুশাসন ও মানবাধিকারের জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নে আপনি নিজে সরাসরি কীভাবে অবদান রাখতে চান?
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান: আমি আমার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং বৈশ্বিক নেটওয়ার্ককে স্বদেশের নীতি-নির্ধারণী কাঠামোতে বিলিয়ে দিতে উন্মুখ হয়ে আছি। দেশের শিক্ষানীতির আধুনিকায়ন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী সংস্থায় রূপান্তর এবং সুশাসনের একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরিতে আমি যেকোনো কাঠামোগত বা পরামর্শক ভূমিকায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে প্রস্তুত।
বিপরীত স্রোত: রাষ্ট্র বা জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে যদি আপনাকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার বা সুশাসন কাউন্সিলের কোনো শীর্ষ নির্বাহী বা নীতি-নির্ধারণী দায়িত্বে আহ্বান জানানো হয়, আপনি কি তা গ্রহণ করবেন?
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান: স্বদেশের ডাক আমার কাছে সব সময় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়। যদি এমন কোনো পরিবেশ ও সুযোগ সৃষ্টি হয়, যেখানে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে এবং সততার সাথে দেশের শিক্ষা ও সুশাসন কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের জন্য কাজ করা সম্ভব, তবে দেশের স্বার্থে সেই ঐতিহাসিক গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিতে আমি বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করব না।
বিপরীত স্রোত: বিদেশের সুশোভিত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন ছেড়ে বাংলাদেশের মতো একটি জটিল, আমলাতান্ত্রিক ও চ্যালেঞ্জিং বাস্তবতায় কাজ করার মতো মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতি কি আপনার রয়েছে?
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান: যিনি রাজপথের কণ্টকাকীর্ণ পথ পেরিয়ে আজ এই বৈশ্বিক অবস্থানে এসেছেন, তার অভিধানে 'আয়েশ' বা 'সহজ জীবন' শব্দটির স্থান নেই বললেই চলে। বিদেশের সুশোভিত জীবন আমাকে ক্ষণিকের স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু আমার আত্মাকে পরম তৃপ্তি দিতে পারে না। দেশের এই জটিল বাস্তবতাই তো একজন সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধবিজ্ঞানীর আসল গবেষণাগার। আমি স্বদেশের মাটিতে সেই চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য মানসিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও গন্তব্য
বিপরীত স্রোত: এবার আমাদের মূল প্রশ্ন—রাজপথ থেকে এখন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির চেয়ারে ড. মিজান। এরপরে কী? আপনার জীবনের পরবর্তী চূড়ান্ত লক্ষ্য বা গন্তব্য আসলে কোনটি?
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান: গন্তব্য আমার কাছে কোনো নির্দিষ্ট পদ, পদবী বা ক্ষমতার অলিন্দ নয়; গন্তব্য হলো একটি মৌলিক রূপান্তর। আমার পরবর্তী লক্ষ্য হলো—আমার অর্জিত জ্ঞান, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং আদর্শকে এমন এক জাতীয় প্ল্যাটফর্মে রূপ দেওয়া, যা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে আরও মানবিক, উন্নত, সুশাসিত ও বিশ্বমঞ্চে মর্যাদাপূর্ণ করতে সাহায্য করবে। পদের চেয়ে মানুষের হৃদয়ে ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই আমার শেষ গন্তব্য।
ড. বিজন কুমার শীল বিস্তারিত
বিপরীত স্রোত প্রতিবেদন বিস্তারিত
ডা. আহমদ মরতুজা চৌধুরী বিস্তারিত
যারিন মালিয়াত অদ্রিতা বিস্তারিত
মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান বিস্তারিত
এআই হতে পারে সাংবাদিকতার এক অস.. বিস্তারিত
বাংলাদেশের প্রথম আলোচিত সামাজ.. বিস্তারিত
প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস. মিজান বিস্তারিত
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান বিস্তারিত
ফটোজিয়ামের প্রতিষ্ঠাতা, একুশে.. বিস্তারিত