ঢাকা, শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬: বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, অর্থনীতি, বাণিজ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতির গৌরবময় ও ইতিবাচক দিক তুলে ধরে সাংবাদিক ও গবেষক, রয়াল হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি (ইউকে)-এর অ্যাসোসিয়েট ফেলো মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান-এর নতুন বই ‘স্বর্গভূমি বাংলা’-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠান রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত ৮টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত সহস্রাধিক দর্শকের উপস্থিতিতে প্রকাশনা সংস্থা রুটস আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্সের পরিচালক প্রফেসর ড. শেখ তৌফিক এম হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খ্যাতিমান প্রত্নতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান। বইয়ের লেখক মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান অনুষ্ঠানে বাংলার গৌরবময় ইতিহাস নিয়ে একটি আকর্ষণীয় প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. শেখ
তৌফিক এম হক বলেন, বাংলার ইতিহাসকে শুধু রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে
এর অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক অবদানকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
‘স্বর্গভূমি বাংলা’ সেই প্রয়োজনীয় আলোচনাকে সমৃদ্ধ করবে এবং পাঠকের সামনে বাংলার ইতিহাসের
একটি বিস্তৃত ও ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরবে।তিনি বাংলার শাসকদের কূটনৈতিক সফলতার
বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বইটিকে একটি অসাধারণ কাজ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. সুফি মোস্তাফিজুর
রহমান বলেন, বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের মধ্যে যে সমৃদ্ধ অতীতের
পরিচয় পাওয়া যায়, তা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা জরুরি। প্রচলিত ইতিহাসের বাইরে গিয়ে
বাংলার নিজস্ব শক্তি, সৃজনশীলতা ও সভ্যতার অবদানকে অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে বইটি গুরুত্বপূর্ণ
সংযোজন।
লেখক মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান বলেন, প্রায় দুই দশকের গবেষণা ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে তিনি ‘স্বর্গভ‚মি বাংলা’ রচনা করেছেন। বাংলার মানুষ যুদ্ধ, উপনিবেশ স্থাপন কিংবা লুটপাটের মাধ্যমে নয়; বরং মেধা, শিক্ষা, দক্ষতা, শিল্প, বাণিজ্য, সৃষ্টিশীলতা ও উদার মানবিকতার মাধ্যমে বিশ্বে প্রভাব বিস্তার করেছে- বইটিতে সেই ইতিহাসই তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

‘স্বর্গভূমি বাংলা’ বইয়ে হাজারো বছর
ধরে কৃষি, বাণিজ্য, শিল্প, শিক্ষা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলার অবদান এবং
বিশ্বের বিভিন্ন সভ্যতা ও অঞ্চলের সঙ্গে বাংলার যোগাযোগ ও প্রভাবের নানা দিক তুলে ধরা
হয়েছে। বইয়ে বলা হয়েছে, প্রাচীন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সভ্যতাগুলোর সমসাময়িক হিসেবে
বাংলা কোনোভাবেই পিছিয়ে ছিল না। পরবর্তী সময়েও বাংলার বাণিজ্য ও উৎপাদন বিশ্বের বিভিন্ন
অঞ্চলের অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রেখেছে। বাংলায় উৎপাদিত
বস্ত্রের জন্য ইওরোপের বাজারে ব্যাপক চাহিদা ছিল; আরব ও আফ্রিকাতেও বাংলার পণ্য ছিল
সমাদৃত। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বাংলার বাণিজ্য
ও সংস্কৃতির প্রভাব বিস্তৃত ছিল বলে বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে।
বইটিতে আরও তুলে ধরা হয়েছে, বাংলা তার
প্রভাব বিস্তার করেছে উপনিবেশ স্থাপন, যুদ্ধ, রাহাজানি বা লুটপাটের মাধ্যমে নয়; বরং
অসাম্প্রদায়িক ও উদার মানবিকতা, মেধা, দক্ষতা, শিক্ষা, শিল্প, বাণিজ্য ও সৃষ্টিশীলতার
মাধ্যমে। আতিথেয়তা, বদান্যতা ও মানবিকতার জন্যও বাংলার যে স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে উঠেছে,
বইয়ে তারও অনুসন্ধান করা হয়েছে।
প্রায় দুই দশকের গবেষণা ও অনুসন্ধানের
ভিত্তিতে রচিত ‘স্বর্গভূমি বাংলা’ প্রচলিত ধারার ইতিহাসচর্চার বাইরে গিয়ে বাংলার গৌরবময়
ও ইতিবাচক ইতিহাসকে একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে পাঠকের সামনে উপস্থাপন করেছে।
বিপরীত
স্রোত ডেস্ক
ড. বিজন কুমার শীল বিস্তারিত
বিপরীত স্রোত প্রতিবেদন বিস্তারিত
ডা. আহমদ মরতুজা চৌধুরী বিস্তারিত
যারিন মালিয়াত অদ্রিতা বিস্তারিত
মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান বিস্তারিত
সংবাদ, রাজনীতি ও বিশ্বপরিস্থিত.. বিস্তারিত
বাংলাদেশ থেকে ভারত: সংঘাতের খব.. বিস্তারিত
প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস. মিজান বিস্তারিত
প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস. মিজান বিস্তারিত
এআই হতে পারে সাংবাদিকতার এক অস.. বিস্তারিত