English
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

প্রকাশঃ ২০২০-১০-০৮ ১১:৫৩:০৮
আপডেটঃ ২০২৬-১০-১৯ ০৮:৩৬:০৫


তিন কোটি টাকা !

তিন কোটি টাকা !


মোহাম্মদ সাদেক উজ জামান চৌধুরী

 

ইনশাআল্লাহ্ এমন কিছু লিখবো না যা আমি নিজে বিশ্বাস করি না।

কিছুটা পার্থিব বিষয় নিয়ে কথা বলা উচিত। তাই এই লেখার অবতারণা।

আমরা একটু কিছুক্ষণের জন্য সব কিছু ভুলে গিয়ে ভাবনা নিয়ে ভাবি।

বর্তমানে প্রত্যেক মানুষের একটা সাধারণ ভাবনা হচ্ছে
কেমন করে চলবো সামনে যে দিন আসছে...
নিজের তো কোনো জমা কিছু নেই...
চাকরিটি যদি চলে যায়...
ব্যবসাটা মন্দা যাচ্ছে...
প্রচুর ঋণ কীভাবে পরিশোধ করবো...
পরিবারের ভরণপোষণ কীভাবে করবো...
ইত্যাদি ইত্যাদি।

 

চলুন কিছু ভাবি। কাগজ কলম নিয়ে বসতে পারেন।

কত টাকা আপনার, আমাদের দরকার?
সারাজীবনের জন্য, প্রশ্নটা নিজেকে করুন।
কী কী আপনার চলার পথে লাগবে।
মাসে কত টাকা হলে আপনার পরিবার ভালোভাবে চলবে।

আমরা সাধারণ একটা হিসাব নিয়ে বসব।


সুন্দর একটা বাড়ি, ভালো একটা গাড়ি, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা ভালো স্কুলে, মাসিক একটা ভালো ইনকাম এবং সম্মানজনক ভাবে বেঁচে থাকা।
এই তো ?

 

চলুন হিসাব করি......... একটু বেশি করেই আমরা ধরবো।
বাড়ি ৬০ লাখ টাকা।
গাড়ি ২০ লাখ টাকা।
মাসে ৫০ হাজার টাকা ইনকাম।
আমাদের গড় আয়ু ধরলাম ৭০ বছর।
বয়স ২৫ থেকে আয় শুরু করলে আরো ২৫-৩০ বছর অ্যাকটিভ থেকে আয় করা যাবে।

ধরলাম।
৩০ বছর মাসে ৫০,০০০ করে আয় করলে কত হয়?
৩০ x ১২= ৩৬০মাস x ৫০,০০০= ১৮,০০০,০০০ টাকা
তাহলে ১৮,০০০,০০০+৬০০,০০০+২,০০০,০০০= ২৬,০০০,০০০ টাকা
আমরা ৩ কোটি টাকা ধরি। একদম সব মিলিয়ে। কারো কারো আরো একটু দামি গাড়িও লাগতে পারে।
এখন কীভাবে আসবে এই টাকা?
আপনার চারপাশে তাকিয়ে দেখুন এই টাকা অনেকে মাসে খরচ করছে। করছে না?
শুরু করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন আপনি কতোটুকু তে খুশি?
যদি এইটুকু হয় তাহলে আমরা শুরু করতে পারি।

 

পরম করুণাময়ের মহান আল্লাহর নামে শুরু করছি।
আপনার ১৯টা চাওয়ার তালিকা করুন।যা আপনি মৃত্যুর আগে পেতে চান।
কত টাকা আপনার ঋণ আছে লিখুন।
কী কী আছে আপনার তালিকা করুন।
কিছুই না থাকলে হাত, পা, চোখ, এইগুলো হলেও লিখুন।
নিজের সম্পর্কে নিজেকে একটা লিখিত স্বচ্ছ ধারণা দিন।
এবার... আপনি প্রস্তুত।

১.

প্রতিদিন মনে মনে হাজার বার নিজে নিজেকে বলুন:
‘আমি বিশ্বাসী, আমি সাহসী, আমি পারি, আমি করবো, আমার জীবন, আমিই গড়বো’
‘প্রভু হে ক্ষমা কর, ক্ষমা কর আল্লাহ্।’


নিজ নিজ ধর্মানুসারে ইবাদত প্রার্থনা করুন, ধর্মবানী বাংলাতে বুঝে পড়ার চেষ্টা করুন। সেটার মর্মে প্রবেশ করুন।
অন্যের কল্যাণে কিছু একটা করুন, কিছুই না পারলে অন্তত দোয়া করুন।
চোখ বন্ধ করে দুই বেলা (ঘুম থেকে উঠে এবং ঘুমানোর আগে) তিন কোটি টাকা হলে যা যা করতেন তা তা ভাবুন। মনে সেটার আনন্দকে প্রবাহিত হতে দিন ঝর্ণা ধারার মতো। কোনো প্রশ্নকে প্রশ্রয় দেবেন না। যুক্তি তর্কে যাবেন না মনে মনে, কী হবে , কীভাবে হবে, এটা সম্ভব নাকি। কোনো প্রশ্ন নয়। শুধু চিন্তা করুন।
কল্পনা করুন আপনার প্রাপ্ত রিজিক থেকে চারপাশের মানুষ কীভাবে উপকৃত হচ্ছে।
চিন্তাগুলো মেডিটেশন করে করলে ভালো এবং খুব দ্রুত ফল পাওয়া যেতে পারে।
আচরণে সংযত হোন। বিনয়ী হোন। অন্যের নেতিবাচক কথা এড়িয়ে যান। ক্ষমা করুন ক্ষমা চান।
বিয়ের আগে বিবাহ পরবর্তী আচরণে জড়াবেন না।
পবিত্র হজ্ব পালনের নিয়ত করুন (অন্য ধর্মের হলে সেই ভাবে নিয়ত করুন)
নিজে এবং চারপাশের মানুষ যাকাতদাতা হবার জন্য দোয়া করুন।
নিয়মিত প্রতিদিনের প্রথম খাবার গ্রহণের আগে কিছু দান করুন।
ক্ষতিকর খাবার বর্জন করুন।
প্রাকৃতিক খাবারের পরিমাণ বাড়ান।
সুস্থ থাকার চেষ্টা করুন, সপ্তাহে একটা রোজা বা উপবাস রাখুন।

মৌন থাকুন , নির্দিষ্ট চিন্তা নিয়ে।
আত্নশুদ্ধিতে সময় দিন।

২.

যা ই আপনার আয় হবে সেটাকে পাঁচ দিয়ে ভাগ দিন।(আয় না হলে খরচকে ভাগ দিন)
এক ভাগ দান করে দিন, এক ভাগ জমা রাখুন, বাকি তিন ভাগ আপনার খরচের জন্য রাখুন।
দানটা এমন জায়গায় হতে হবে যেখানে আসলেই কেউ না কেউ স্বাবলম্বী হচ্ছে।
জমাটা হতে হবে সারাজীবনের জন্য। কোনোভাবেই সেখানে হাত দেয়া যাবে না।ওই টাকা রি-ইনভেস্টমেন্টের জন্য ব্যবহার যোগ্য (শর্ত সাপেক্ষে নিজের সাথে)।
যতো বেশি সম্ভব সামাজিক যোগাযোগ বাড়ান, প্রত্যেকের ব্লাড গ্রুপ, ভালো লাগা, পছন্দের খবরাখবর রাখুন।
সবার ভরসারস্থল হোন, ওয়াদা রক্ষা করুন, যতই ছোট খাটো হোক না কেন।
ডায়েরি মেনটেইন করুন অথবা স্মৃতিতে রাখার চেষ্টা করুন।
ভার্চুয়াল যোগাযোগ যতোটা সম্ভব পরিহার করুন।
সময় সচেতন হোন।
রক্ত দিন, রক্ত দানে উৎসাহিত করুন।
প্রশংসা এবং সমালোচনায় আনন্দিত ও ব্যথিত হওয়া ত্যাগ করুন।

 

৩.

জমা টাকা থেকে প্রতি বছর ২.৫% করে যাকাত দিতে থাকেন।
বিনা পুঁজিতে তিনটি ব্যবসা করুন।
স্বল্প পুঁজিতে তিনটি ব্যবসা করুন।
ব্যবসার জন্য ১০ হাজার টাকা থাকলে প্রথমে চার হাজার টাকা দিয়ে শুরু করুন।
চোখ কান খোলা রাখবেন, সমমনা মানুষ পেয়ে যাবেন। অন্ধ বিশ্বাস করতে যাবেন না। ছোট খাটো বিষয়গুলো নোট রাখবেন। ছোট খাটো লেনদেন এবং লেনদেনে স্বচ্ছতাহীন মানুষ থেকে দূরে থাকুন। নেতিবাচক মানুষকে এড়িয়ে চলুন।
আপনার ঠোঁট দিয়ে নয়, সফলতা দিয়ে জবাব দেয়ার চেষ্টা করুন।
একদিন কটাক্ষ করা, খোঁচা দেয়া, পাত্তা না দেওয়া, আপনার হক মেরে দেওয়া, আপনাকে অযোগ্য মনে করা মানুষগুলোই আপনার