English
ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

প্রকাশঃ ২০২০-০৮-২১ ০৭:৪৫:৫০
আপডেটঃ ২০২৬-১০-১৮ ১৯:১৩:০৩


৯০-এর মধ্যবিত্ত পর্ব: ২

৯০-এর মধ্যবিত্ত পর্ব: ২


সামিনা হক শাম্মী


পর্ব: ২
 
চেনা চয়নিকা

আর দশটা পরিবারের মতো সে সময় আমাদের পরিবারেও নিয়ম ছিল; বিকেলবেলা পাড়ার মাঠে, খেলা শেষে বাড়ি ফিরে হাত-পা ধুয়ে, সোজা পড়তে বসা। খেলার বিকেলটা ছিল একঝাঁক বন্ধু ঘেরা দারুণ রঙিন, চোখের পলকে ফুরৎ করে ফুরিয়ে যাওয়া  সময় ওটা।  আর এরই সাথে পাল্লা দিয়ে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর মনে হতো 'পড়তে বসা ক্লান্ত সন্ধ্যা'গুলোকে.. একব্যাগ বোর্ডের বই ঘিরে পড়ালেখার যে আয়োজন তাতে যতই আকর্ষণীয় শিশুতোষ রংবাহারী প্রচ্ছদ আর ঝকঝকে উপস্থাপনা থাকুক না কেন, সিলেবাসের সীমারেখা আর পাঠ্য নির্দেশনার বেড়াজালে কোথায় যেন একটা পরাধীনতার আঁচ পেতাম। হয়তো সেজন্যই,  অন্য সমবয়সী শোকাহতদের মতো, স্কুলের পড়ার বই-এর সাথে আমারও একটা মান-অভিমানের সম্পর্ক বিরাজ করতো হরহামেশাই। কিন্তু, স্কুলের যে কোনো বইগুলোর মধ্যে একমাত্র ‘চয়নিকা’র ব্যাপার স্যাপারই আলাদা। ওই চয়নিকাতে গুরু গম্ভীর জ্ঞানের চেয়ে, মনের খোরাকেরই দেখা মিলতো বেশি। তাই ‘বোর্ডের বই’ তকমা সত্বেও চয়নিকা বইটা আমাদের (এখানে 'আমাদের' বলতে ১০ এর নিচের যাদের রোল ; সেইসব বেরসিক হতচ্ছাড়াদের বোঝানো হচ্ছে) ভীষণ প্রিয়। আমার 'কবিতা প্রেম' উপলব্ধির প্রথম মেঘমল্লার বেজে উঠেছিল ওর পাতাতেই।

তৎকালীন সিলেবাসে ‘আমার বই’ - নামেও একটি বই, বোর্ডের মূল 'বাংলা বই' রূপে গণ্য হতো। বইটির প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে, নামী লেখক, দামি কাগজ, গুণী শিল্পী, রঙিন ছবি, দফায় দফায় প্রশ্নমালা, শূন্যস্থান পূরণের অনুশীলন, শব্দার্থ ভান্ডারের ছড়াছড়ি, তারও ওপর প্রচ্ছদসহ এখানে সেখানে কখনও শিল্পী হাশেম খান, কখনও বা কাইয়ূম চৌধুরীদের দক্ষ আঁকের উঁকিঝুঁকি জানান দিতো 'মূল বাংলা বই ' পদবীটির স্পষ্ট দাপট। বইভর্তি অমন সব এলাহী কারবারের সামনে 'চয়নিকা' ছিলো রীতিমতো দুয়োরানী পর্যায়ের একটি আটপৌরে পুস্তিকাসম। নামেই বোর্ডের বই। পরীক্ষার প্রশ্নপত্রেও, তাকে তেমন কেউ পুছে না। এক কোনায় ২ বা ৩ নম্বরের
দুই একটি দায়সারা প্রশ্নেই ক্ষ্যামা দিতেন শিক্ষকগণ। অন্য বইগুলো নিয়ে যারপর নাই কোমড়কষে লড়লেও, চয়নিকার বেলায় কেবল চোখ বুলিয়েই পরীক্ষা প্রস্তুতির পাট চুকাতো ক্লাশের ফার্স্টবয়রা; ওতেই ওদের খুব চলে যেতো.. ক্লাশের গুণীমহলে এমনই বে-কদর বেচারা 'চয়নিকা'র।

কিন্তু এই যে আমরা, যারা ক্লাশের আমজনতা ; যাদেরকে 'অমুকের চেয়ে আধা নম্বর কম পেলাম কেন...’ - জাতীয় 'বেকুবী আতঙ্ক' কস্মিনকালেও