English
ঢাকা, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

প্রকাশঃ ২০২৬-১১-০৭ ২১:৩৮:১৩
আপডেটঃ ২০২৬-১১-০৭ ২২:০২:৪৬


জন্মদিনের শুভেচ্ছাঞ্জলি

জন্মদিনের শুভেচ্ছাঞ্জলি



 

সিরাজুল কবির সাকিব

 

 

রাশনা রশীদ (শান্তা):  মনন, মমতা ও মানসিক সুস্থতার এক আলোকবর্তিকা

 

 

১. আদর্শ ও মানবিক শিক্ষকের প্রতিচ্ছবি -

একজন আদর্শ ও মানবিক শিক্ষকের সকল গুণের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক অনন্য ব্যক্তিত্ব রাশনা রশীদ (শান্তা)। তিনি সহযোগী অধ্যাপক, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্স (প্রাক্তন হোম ইকোনমিকস কলেজ), ঢাকা।

মঙ্গল আসরের শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা সব সময় তাঁর কাছ থেকে পেয়েছি সন্তানের মতো স্নেহ ও আন্তরিকতা। আমার শিক্ষাজীবনে পাওয়া শত শত শিক্ষকের মধ্যে যে অল্প কয়েকজন হৃদয়ে স্থায়ী দাগ কেটেছেন, শান্তা ম্যাডাম তাঁদের অন্যতম। যেখানে অনেকেই অর্থ উপার্জনের ব্যস্ততায় শিক্ষার্থীদের প্রতি নিবিড় মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পান না, সেখানে আমাদের শান্তা ম্যাডাম প্রায় দুই যুগ ধরে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য বই, পত্রিকা, কলম, গাছসহ নানা শিক্ষাবান্ধব উপহার দিয়ে আসছেন।মঙ্গল আসরের শিক্ষার্থীদের আড্ডা, বইমেলা ভ্রমণ, ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শন ও বৃক্ষমেলা ভ্রমণে তিনি সব সময় পাশে থেকেছেন। শিক্ষার্থীদের জন্য উপহার ও নাশতার আয়োজন থেকে শুরু করে তাদের প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া—সবকিছুতেই রয়েছে তাঁর আন্তরিকতার ছাপ।এমন একজন আদর্শ ও মানবিক শিক্ষকের আজ জন্মদিন। মঙ্গল আসরের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক জন্মদিনের শুভেচ্ছা। আপনার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও নিরন্তর কল্যাণ কামনা করি।

 

২. শিক্ষার্থীদের কাছে মাতৃস্নেহের এক নির্ভরতার নাম -

মঙ্গল আসরের শিক্ষার্থীদের কাছে শান্তা ম্যাডাম মাতৃস্নেহের এক অনন্য প্রতীক। তাঁর কাছে অনায়াসে মনের সব কথা বলা যায়, নির্দ্বিধায় নিজের অনুভূতি ও ভাবনা উজাড় করে দেওয়া যায়। গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি যেন এক জাদুর বাক্স—যাঁর স্নেহ, মমতা ও আন্তরিকতার ভান্ডার কখনো ফুরিয়ে যায় না। প্রায় দুই যুগ ধরে তিনি শিক্ষার্থীদের সন্তানতুল্য স্নেহে আগলে রেখেছেন।মঙ্গল আসরের কোনো অনুষ্ঠান কিংবা আড্ডায় হঠাৎ করেই ম্যাডামের সাবেক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আমাদের মুগ্ধ করে। তাঁদের সঙ্গে ম্যাডামের গভীর ও আন্তরিক সম্পর্ক দেখে আমাদেরও একধরনের মধুর ঈর্ষা জাগে। এমন শিক্ষক যদি দেশের প্রতিটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতেন, তবে বাংলাদেশের শিক্ষার মান নিঃসন্দেহে আরও সমৃদ্ধ হতো। শিক্ষার্থীদের প্রতি এমন নিবিড় মমতা ও মানসিক সহায়তা আত্মহত্যার মতো সামাজিক সমস্যার ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত।

 

৩. আত্মবিশ্বাস ও মানসিক সুস্থতার বার্তা -

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সুন্দর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে শান্তা ম্যাডাম  ও মোহন স্যার যৌথ ভাবে রচনা করেছেন গুরুত্বপূর্ণ দুটি গ্রন্থ—‘আত্মহত্যা নয়, আত্মবিশ্বাসে বাঁচি’ এবং ‘ঈর্ষা নয়, ঈর্ষণীয় হই’।         

বর্তমান সমাজের অন্যতম গুরুতর সমস্যা আত্মহত্যা এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতার অভাব। এই সমস্যা সম্পর্কে সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন করা এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবনকে এগিয়ে নেওয়ার প্রেরণা জোগানোর প্রয়াসে আব্দুল্লাহ আল মোহন স্যার ও রাশনা রশীদ (শান্তা) যৌথভাবে ‘আত্মহত্যা নয়, আত্মবিশ্বাসে বাঁচি’ গ্রন্থটি রচনা করেছেন।আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য বইটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পাঠ। পৃথিবী দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেক শিক্ষিত ও দক্ষ অভিভাবকও কখনো কখনো তাঁদের সন্তানদের আচরণ, মানসিক অবস্থা ও অন্তর্নিহিত সমস্যাগুলো যথাযথভাবে বুঝতে ব্যর্থ হন। অন্যদিকে, অনেক শিক্ষার্থী জীবনের সমস্যা, ব্যর্থতা কিংবা অন্যদের তুলনায় পিছিয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা সামলাতে প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা পায় না। শিক্ষার্থীদের মানসিক সংকট ও সমস্যাগুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া তাই শিক্ষক, অভিভাবক এবং সমাজের সবার দায়িত্ব।আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে আত্মবিশ্বাস, মানসিক সুস্থতা ও জীবনমুখী সচেতনতার বিকাশ অপরিহার্য। এ লক্ষ্যেই ‘আত্মহত্যা নয়, আত্মবিশ্বাসে বাঁচি’ বইটি পড়া এবং অন্যদের পড়তে উৎসাহিত করা জরুরি। বইটি মানুষের মধ্যে জীবনবোধ, আত্মবিশ্বাস ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

 

৪. ঈর্ষা নয়, ঈর্ষণীয় হওয়ার প্রত্যয় -

‘ঈর্ষা নয়, ঈর্ষণীয় হই’ আমাদের সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রন্থ। আমাদের চারপাশে অনেক মানুষই নিজের কাজ, লক্ষ্য ও আত্মোন্নয়নের প্রতি যথেষ্ট মনোযোগী না হয়ে অন্যের সাফল্যকে মেনে নিতে হিমশিম খান। অথচ অন্যের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত না হয়ে নিজের যোগ্যতা, দক্ষতা ও প্রচেষ্টাকে বিকশিত করাই হওয়া উচিত জীবনের লক্ষ্য।সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন এবং মানুষের চিন্তা-চেতনায় সচেতনতা জাগ্রত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের গ্রন্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। শান্তা ম্যাডাম ও মোহন স্যারের রচিত গ্রন্থসমূহ সমকালীন সমাজের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এগুলো শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সচেতন করে তুলতে পারে এবং জীবনে কী করণীয়, কোন আচরণগুলো পরিহার করা প্রয়োজন—সে বিষয়ে ইতিবাচক দিকনির্দেশনা দিতে পারে।

নিজেকে উন্নত করা, অন্যের সাফল্যকে সম্মান করা এবং ইতিবাচক মানসিকতা ধারণ করার মধ্য দিয়েই আমরা একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে পারি। এ ক্ষেত্রে ‘ঈর্ষা নয়, ঈর্ষণীয় হই’ বইটি হতে পারে অনুপ্রেরণার এক গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

 

৫. জন্মদিনে নিরন্তর শুভকামনা -

মঙ্গল আসরের অভিভাবক ও একজন মানবিক শিক্ষকের জন্মদিনে জানাই নিরন্তর শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা। আশা করি, শান্তা ম্যাডাম ভবিষ্যতেও সময়োপযোগী ও জীবনঘনিষ্ঠ গ্রন্থ রচনা করবেন, যা শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জ্ঞান, সচেতনতা ও মানবিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।আপনার স্নেহ, মমতা, জ্ঞান ও প্রেরণা মঙ্গল আসরের শিক্ষার্থীদের পথচলায় চিরকাল আলোকবর্তিকা হয়ে থাকুক। আপনার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, আনন্দময় জীবন ও নিরবচ্ছিন্ন সৃজনশীলতা কামনা করি। একই সঙ্গে মোহন স্যার ও শান্তা ম্যাডাম—উভয়ের সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ কামনা করছি।

 

শুভ জন্মদিন, শান্তা ম্যাডাম।

শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতায়—

 

 

মঙ্গল আসরের পক্ষে

সিরাজুল কবির সাকিব

০৬ নভেম্বর ২০২৬


ক্যাটেগরিঃ জীবনধারা,


আরো পড়ুন