মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান
সংবাদ, রাজনীতি ও বিশ্বপরিস্থিতির নিবিড়
পর্যবেক্ষক সাংবাদিক আমীর খসরু আর নেই।
চার দশকের বেশি সময়ের সাংবাদিকতা, আন্তর্জাতিক
সংবাদ সংগ্রহ এবং গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে গবেষণায় রেখে গেলেন স্বতন্ত্র পরিচয়
সাংবাদিক আমীর
খসরু (৬২)শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সন্ধ্যায় ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের
সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়
মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও লিভারের জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে রেখে গেছেন।তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা
জগত হারাল এমন একজন সংবাদকর্মীকে, যার পেশাগত অভিজ্ঞতার পরিসর বিস্তৃত ছিল দেশীয় রাজনীতি
ও কূটনীতি থেকে আন্তর্জাতিক সংঘাত, ভূরাজনীতি এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সংকট
পর্যন্ত। তাকে যারা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন তারা একথা অবশ্যই বলবেন যে, আমীর
খসরু ছিলেন আপাদপমস্তকে একজন মাঠ পর্যায়ের পরিশ্রমী রিপোর্টার। বর্তমান সময়ের ‘কাট
কপি পেস্ট’ কিংবা চ্যাটজিপিটি সাংবাদিকতার অনেক বাইরে ছিলেন তিনি।
চার দশকের বেশি
সময় ধরে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে কাজ করেন আমীর খসরু। সাংবাদিকতার পাশাপাশি
দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি নিয়ে গবেষণা করেছেন, লিখেছেন গণতন্ত্র, সামরিক শাসন,
বেসামরিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক নিয়ে। তার কর্মজীবনের তাৎপর্য
শুধু দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় নয়; সংবাদ সংগ্রহের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি পর্যবেক্ষণ এবং
রাজনৈতিক বাস্তবতার বিশ্লেষণকে যুক্ত করার মধ্যেও নিহিত।
বিচিত্রা থেকে ভয়েস অফ আমেরিকা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
ছাত্র থাকাকালীন সাপ্তাহিক বিচিত্রা-য় কন্ট্রিবিউটর বা প্রদায়ক হিসেবে আমীর খসরুর সাংবাদিকতা
জীবনের সূচনা। আশির দশকের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার মধ্যে বাংলাদেশের সাময়িকপত্র
ও সংবাদপত্র সাংবাদিকতা, সাহিত্য এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র
ছিল। সেই পরিসর থেকেই তার পেশাগত যাত্রা শুরু।
দীর্ঘ সময় ভয়েস
অফ আমেরিকার (ভিওএ) বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আমীর খসরু। এর আগে
তিনি দৈনিক সংবাদ ও দৈনিক ইত্তেফাক -এ রাজনৈতিক
ও কূটনৈতিক প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করেছেন। আরো কাজ করেছেন চ্যানেল আই, দৈনিক খবরসহ
নানা সংবাদ মাধ্যমে। নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে সম্পাদনা করেন হলিডে গ্রুপের সাপ্তাহিক
বুধবার । দেশীয় রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সংবাদ সংগ্রহের অভিজ্ঞতা তার সাংবাদিকতাকে
ক্রমে বৃহত্তর পরিসরে নিয়ে যায়। ইংরেজি সাপ্তাহিক হলিডে, সাপ্তাহিক যায়যায়দিন, দি ডেইলি
স্টার, দৈনিক মানবজমিন ও ঢাকা কুরিয়ারসহ বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদপত্রে নিয়মিত
নিবন্ধ লিখেছেন তিনি। আল জাজিরা ও বিবিসির জন্যও একসময় সংবাদভাষ্য দিয়েছেন।
এই কর্মজীবনে
সংবাদপত্রের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক রিপোর্টিং, সাময়িকপত্র সম্পাদনা, আন্তর্জাতিক বেতার
সাংবাদিকতা এবং বিশ্লেষণধর্মী লেখালেখি—বিভিন্ন ধারার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন আমীর খসরু।
বাংলাদেশের ঘটনাবলি আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্বের নানা রাজনৈতিক
পরিবর্তন ও সংঘাতের সংবাদ সংগ্রহের সুযোগও তৈরি হয় তার পেশাগত জীবনে।
যুদ্ধের ময়দান থেকে আন্তর্জাতিক কূটনীতি
আমীর খসরুর
সাংবাদিকতা জীবনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের
অভিজ্ঞতা। ১৯৮৭ সালে তিনি আফগান যুদ্ধের ময়দান থেকে সংবাদ সংগ্রহ করেন। ১৯৮৯ সালে ভারতের
নির্বাচন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার খবরাখবর সংগ্রহ করেন। নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিকে বার্লিন
দেয়াল ভেঙে পড়ার পর জার্মানির সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া জানতেও দেশটি সফর করেন।
এগুলো ছিল এমন
এক সময়ের ঘটনা, যখন বিশ্বরাজনীতির পুরোনো কাঠামো ভেঙে নতুন বাস্তবতা তৈরি হচ্ছিল। আফগানিস্তানের
যুদ্ধ, ভারতের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এবং জার্মানির রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস—প্রতিটি
ঘটনার পেছনে ছিল ভিন্ন ইতিহাস, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও সামাজিক অভিঘাত। এসব ঘটনার সংবাদ
সংগ্রহের অভিজ্ঞতা তার পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ন্যাটোর আমন্ত্রণে
তিনি বেলজিয়ামের ব্রাসেলস সফর করেন। সাইপ্রাস সংকটের খবরাখবর সরেজমিন সংগ্রহের জন্য
সংশ্লিষ্ট দেশগুলো সফর করেন। আমেরিকা সরকারের আমন্ত্রণে দেশটির নির্বাচনব্যবস্থা সম্পর্কে
জানার জন্য শিক্ষা সফরে অংশ নেন। জাপান সরকারের বিশেষ ফেলোশিপেও দেশটি সফর করেন।
পাকিস্তানের
রাজনৈতিক সংকট এবং বাংলাদেশ-ভারত উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের খবর সংগ্রহের জন্য
একাধিকবার ভারত ও পাকিস্তান সফর করেছেন। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনের সংবাদ সংগ্রহের
জন্য আমেরিকা গিয়েছেন। এসব সফর তার সাংবাদিকতার আন্তর্জাতিক পরিসরকে বিস্তৃত করেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার
রাজনীতি ও আঞ্চলিক সম্পর্ক নিয়েও তার অভিজ্ঞতা ছিল বিস্তৃত। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত
ও পাকিস্তানের সম্পর্ক, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট এবং উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক
বৈঠকের খবর সংগ্রহের মধ্য দিয়ে তিনি আঞ্চলিক রাজনীতির নানা দিক পর্যবেক্ষণ করেছেন।
শ্রীলঙ্কার
নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন আমীর খসরু। নেপালের মাওবাদী
আন্দোলনের খবর সংগ্রহের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নেতার সাক্ষাৎকারও গ্রহণ করেছেন।
বিভিন্ন সরকারের আমন্ত্রণ, ফেলোশিপ ও পেশাগত দায়িত্বে তিনি ৪০টিরও বেশি দেশ একাধিকবার
সফর করেছেন।
তার আন্তর্জাতিক
অভিজ্ঞতার এই তালিকা একজন সংবাদকর্মীর শুধু ভৌগোলিক বিচরণের বিবরণ নয়। যুদ্ধ, নির্বাচন,
সাম্প্রদায়িক সংঘাত, রাজনৈতিক আন্দোলন এবং কূটনৈতিক আলোচনার মতো ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে
সংবাদ সংগ্রহের মধ্য দিয়ে একজন সাংবাদিককে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সমাজের বাস্তবতার মুখোমুখি
হতে হয়। আমীর খসরুর কর্মজীবনে সেই অভিজ্ঞতার বিস্তার ছিল লক্ষণীয়।
আমির খসরু ছিলেন ওভারসিজ করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (ওকাব) সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। ছিলেন রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির স্থায়ী সদস্য।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি গবেষণা
আমীর খসরুর
পরিচয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তার গবেষণাকর্ম। দেশীয় ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি নিয়ে গবেষণা করেছেন তিনি। গবেষণা সংস্থা স্টাডি গ্রুপ অন রিজিওনাল
অ্যাফেয়ার্সের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
গণতন্ত্রের
সংকট, বেসামরিক রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমস্যা, সামরিক শাসন এবং সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক
ছিল তার গবেষণার উল্লেখযোগ্য বিষয়। গত তিন দশকে বাংলা একাডেমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
লোকপ্রশাসন বিভাগসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত বই ও জার্নালে তার বেশ
কিছু গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এই বিষয়গুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের
গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সামরিক শাসনের অবসানের পর বেসামরিক শাসন কতটা কার্যকর হয়, রাজনৈতিক
নেতৃত্ব কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠতে
পারে এবং সামরিক ও বেসামরিক কর্তৃত্বের সম্পর্ক কীভাবে রাষ্ট্রের গতিপথ নির্ধারণ করে—এসব
প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
সাংবাদিকতার
অভিজ্ঞতার পাশাপাশি এসব বিষয় নিয়ে গবেষণা আমীর খসরুর পেশাগত আগ্রহের একটি স্বতন্ত্র
দিক তুলে ধরে। চলমান রাজনৈতিক ঘটনাকে শুধু তাৎক্ষণিক সংবাদ হিসেবে না দেখে রাষ্ট্র
ও প্রতিষ্ঠানের বৃহত্তর কাঠামোর সঙ্গে মিলিয়ে বোঝার প্রয়োজনীয়তা তার গবেষণার বিষয়বস্তুতেও
প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রকাশিত বই: সংকটে গণতন্ত্র
আমীর খসরুর
প্রকাশিত বই ‘সংকটে গণতন্ত্র: সামরিক শাসনোত্তর বেসামরিক শাসনের সমস্যা’ তার গবেষণামূলক
আগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়। বইটির বিষয়বস্তু সামরিক শাসনের পর বেসামরিক শাসনব্যবস্থার
সংকটকে সামনে আনে। এখানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়; বরং বেসামরিক
রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমস্যা এবং গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতাও।
বাংলাদেশসহ
বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা গেছে, সামরিক শাসনের অবসান ঘটলেই গণতান্ত্রিক
প্রতিষ্ঠান স্বয়ংক্রিয়ভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে না। রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসনিক কাঠামো,
নাগরিক অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতার সঙ্গে গণতন্ত্রের বাস্তব চর্চা
গভীরভাবে সম্পর্কিত। আমীর খসরুর বইয়ের বিষয়বস্তু এই বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রশ্নের সঙ্গে
যুক্ত। তার গবেষণাপত্র ও গ্রন্থের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য মূল রচনাগুলো পাঠ ও পর্যালোচনা
করা প্রয়োজন।

স্মৃতিতে আমীর খসরু
সাংবাদিক আমীর
খসরুর সঙ্গে পরিচয় ১৯৯৬ সালে সাপ্তাহিক যায়যায়দিন অফিসে। সে সময় তিনি ইত্তেফাকে কাজ
করতেন। সপ্তাহে একটি লেখা যায়যায়দিনে দিতেন। সাপ্তাহিক যায়যায়দিনের সহকারী সম্পাদক
স্বদেশ রায় তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন। এতো বিখ্যাত সাংবাদিককে প্রথম দেখায় একটু
অবাক হলাম। তার হাতে একাধিক ব্রেসলেট। এক ধরনের অস্থিরতা তার চরিত্রের অংশ ছিল। সাধারণত
প্রতি শনিবার যায়যায়দিনের বেইলি রোড অফিসে এসে তিনি লিখতে বসতেন। খসরু ভাই আসা মানে
নানা গল্প ও আড্ডা। একটু জোরে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি তার সাংবাদিকতা ক্যারিয়ারের
গল্প বলতে ভালোবাসতেন। বহু কিছু জানার সুযোগ হয়েছে আমীর খসরুর কাছ থেকে। তিনি সব কাজ
দ্রুত করতে চাইতেন। তারচেয়েও দ্রুত তিনি আমাকে আপন করে নিলেন। প্রথম দিন থেকেই
তিনি হয়ে গেলেন ‘খসরু ভাই’।
নিউজউইক সম্পাদক
ফরিদ জাকারিয়ার ‘ইলিবারাল ডেমক্রেসি’ টার্মটি তার বেশ পছন্দ ছিল। তিনি তার বিভিন্ন
লেখায় এটি রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতেন। গণতন্ত্রের সংকট, সামরিক শাসনে সাংবাদিকতার
চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রায়ই কথা বলতেন। সাংবাদিকতা তার সার্বক্ষণিক ধ্যান জ্ঞান ছিল। তিনি
নানা ধরনের বই পড়তেন বলে তার কাছ থেকে শুনতে ভালোবাসতাম। খসরু ভাইয়ের সঙ্গে অজস্র স্মৃতি।
কখনো তার সঙ্গে রিকশা বা সিএনজিতে উঠলে চালককে তিনি অবিরাম নির্দেশনা দিতে থাকতেন।
তার ধারণা ছিল এই নির্দেশনা না দিলে তারা এক্সিডেন্ট করবেন! যে কোনো প্রয়োজনে তিনি
যেমন ফোন করতেন তেমনি আমিও ফোন করে অনেক কিছু জানার চেষ্টা করতাম। গুগল, চ্যাটজিপিটিমুক্ত
সেই সময়ে সিনিয়র সাংবাদিকরাই ছিলেন তথ্যের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।
হঠাৎ একবার
তিনি ডেকে পাঠালেন। জানালেন হলিডে গ্রুপ থেকে শহীদুল্লাহ খান বাদল বুধবার নামে একটি
মিড-উইকলি বা সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করবেন। নিউএজ সম্পাদক নুরুল কবীর এর সম্পাদক
হলেও নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে তাকেই মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে। বুধবার নিয়ে তার স্বপ্নের
গল্প শুনলাম দীর্ঘ সময় নিয়ে। আমাকে লিখতে বললেন। পত্রিকাটি বের হলো ট্যাবলয়েড সাইজে।
আমি নিয়মিত তাকে লেখা দিতাম। তখন নিয়মিত দেখা অথবা কথা হতো তার সঙ্গে। তিনি সাম্রাজ্যবাদ
বিরোধী লেখা খুব পছন্দ করতেন। পত্রিকাটি বড় জীবন না পাওয়ায় এক সময় বন্ধ হয়ে গেল। তবে
তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয় নি। কিন্তু স্বাভাবিক ভাবেই কমে গেল। এরপর তিনি নিজেকে গবেষণায়
আত্মনিয়োগ করেন। আমীর খসরু তার মায়ের বিষয়ে খুবই দুর্বল ছিলেন। শুনেছি, মায়ের মৃত্যুর
পর তিনি অনেক কিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। তার সঙ্গে শেষ দেখা হয়েছিল বেশ অনেক বছর
আগে। তার বাসায় দেখা করতে গিয়েছিলাম।
১০ অক্টোবর
রাতে পথে হাঁটার সময় জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে পাঠানো টেক্সট মেসেজে তার মৃত্যু সংবাদটি
জেনে আক্ষরিক অর্থেই দাঁড়িয়ে পড়তে হলো। একজন মানুষ, একটি অধ্যায়। শেষ হয়ে গেল। আমাদের
সমাজে আমীর খসরুর মতো সাংবাদিকদের ধারণ করার মতো অবস্থা এখনো হয়তো প্রস্তুত হয় নি।
তার মতো ভার্সেটাইল
সাংবাদিকের সঙ্গে কিছুটা পরিচয় ছিল – এই বিষয়টিই আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রিপোর্টিং-এ
নিষ্ঠা, একাধিক সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করা, বই পড়া, সবচেয়ে বড় বিষয়, আন্তরিকতা
দিয়ে আপন করে নেয়া- নানা কিছু দিয়ে তিনি আমাকে প্রভাবিত করে গিয়েছেন।
পরবর্তী
জীবনে ভালো থাকবেন খসরু ভাই- সেই প্রার্থনা করি।
বিদায় খসরু
ভাই।
সাংবাদিক আমীর খসরুর সঙ্গে লেখকের ছবিটি ২০০৯ সালের, ধানমণ্ডি লেক এলাকায়
সম্পাদক, বিপরীত স্রোত। সাংবাদিক ও গবেষক। অ্যাসোসিয়েট ফেলো, রয়াল হিস্টোরিকাল সোসাইটি।
ড. বিজন কুমার শীল বিস্তারিত
বিপরীত স্রোত প্রতিবেদন বিস্তারিত
ডা. আহমদ মরতুজা চৌধুরী বিস্তারিত
যারিন মালিয়াত অদ্রিতা বিস্তারিত
মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান বিস্তারিত
সংবাদ, রাজনীতি ও বিশ্বপরিস্থিত.. বিস্তারিত
বাংলাদেশ থেকে ভারত: সংঘাতের খব.. বিস্তারিত
প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস. মিজান বিস্তারিত
প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস. মিজান বিস্তারিত
এআই হতে পারে সাংবাদিকতার এক অস.. বিস্তারিত