English
ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রকাশঃ ২০২১-০৯-০১ ১৫:০৮:২৭
আপডেটঃ ২০২৬-০৯-২২ ০৫:৩৫:৫০


বাংলা ভাষায় ট্যাক্সের গুরুত্বপূর্ণ বই

বাংলা ভাষায় ট্যাক্সের গুরুত্বপূর্ণ বই


কাশফিয়া রহমান 

 

বই পড়ে নিজেই নিজের রিটার্ন তৈরির জন্য জসীম উদ্দিন রাসেল-এরট্যাক্স রিটার্ন প্রিপারেশনঃ কমপ্লিট গাইড ২০২১একটি চমৎকার বই প্রতি বছর নভেম্বর মাসে রিটার্ন দাখিল করার জন্য করদাতারা ব্যস্ত হয়ে পড়েন সময় নতুন-পুরাতন অনেক করদাতাই কীভাবে আয়কর গণনা করে রিটার্ন ফরম পূরণ করবেন তা নিয়ে চিন্তায় থাকেন এই চিন্তা থেকে মুক্ত করবেট্যাক্স রিটার্ন প্রিপারেশনঃ কমপ্লিট গাইড ২০২১

 

ট্যাক্স রিটার্ন তৈরির জন্য করদাতাকে কয়েকটি ধাপে কাজ করতে হয়। এই ধাপগুলো মেনে চললে খুবই অল্প সময়ে ঝামেলাহীনভাবে রিটার্ন তৈরি করা সম্ভব হয়। যেমন, রিটার্ন তৈরির আগে দরকারি কাগজপত্র সংগ্রহ করা, কাগজপত্র দেখে আয়কর গণনা এবং সর্বশেষ ধাপে রিটার্ন তৈরি করা। লেখক বইটিতে আলাদা আলাদা অধ্যায়ে এই বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করেছেন

 

এর বাইরে, টিআইএন থাকলেই রিটার্ন দাখিল করতে হবে কিনা, আবার রিটার্ন দাখিল করলেই আয়কর দিতে হবে কিনা, করযোগ্য আয় কতো হলে ন্যূনতম কর দিতে হবে ইত্যাদি বিষয়গুলোর রয়েছে বিশদ আলোচনা। আয়কর গণনার সময় আইনগতভাবে আয়করের পরিমান হ্রাস করা যায় কীভাবে তা আমরা সবাই জানতে চাই। আর এর একমাত্র উপায় হলো, আয়কর আইনে উল্লেখিত খাতে বিনিয়োগ বা দান করা। আলাদা একটি অধ্যায়ে কোথায় বিনিয়োগ বা দান করলে আপনি কর রেয়াত পাবেন এবং কীভাবে সেই কর রেয়াত গণনা করতে হবে তা উদাহরণ দিয়ে লেখক আলোচনা করেছেন

 

আপনি যে কোন কিছুই শিখেন না কেনো তা পরিপূর্ণ হওয়া উচিত। বইটির সাবটাইটেল হলোকমপ্লিট গাইড ২০২১ অর্থাৎ ২০২১ সালে আপনি যে রিটার্ন দাখিল করবেন তা কীভাবে করবেন তার সম্পূর্ণ গাইডলাইন এই বইটি থেকে পাবেন। কেনো বইটিকে লেখনকমপ্লিট গাইডবলছেন তা চলুন জেনে নেই

 

দরকারি কাগজপত্র সংগ্রহ

 

আয়কর গণনাকে তিনটি ধাপে ভাগ করা যায়। এর মধ্যে প্রথম ধাপ হলো, দরকারি কাগজপত্র সংগ্রহ করা। এটাকে আপনি রিটার্ন তৈরির প্রস্তুতি পর্ব হিসেবে ধরতে পারেন। কারন, দরকারি কাগজপত্র ছাড়া আপনি আয়কর গণনা এবং পরে রিটার্ন তৈরি করতে পারবেন না। আবার কিছু কাগজপত্র রিটার্ন ফরমের সাথে ট্যাক্স অফিসে দাখিল করতে হয়

 

এই দরকারি কাগজপত্রগুলো একজন করদাতা কোথায় পাবেন এবং কি কি কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হবে তা বইটির দ্বিতীয় অধ্যায়ে করদাতার আয়ের খাত অনুযায়ী উল্লেখ রয়েছে। একজন চাকরিজীবী করদাতা বা বাড়ি ভাড়া দিয়ে যে আয় হয়েছে তার জন্য কি কি কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হবে তা আলাদাভাবে উল্লেখ রয়েছে। অন্যান্য খাতেও যদি কোন আয় থাকে তাহলে তার জন্য কী কাগজপত্র লাগবে তাও লেখক বইটিতে উল্লেখ করেছেন

 

আয়কর গণনা

 

একজন করদাতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন পর্ব হলো তার সারা বছরের আয় থেকে অব্যাহতি বাদ দিয়ে করযোগ্য আয় বের করা। এবং তারপর ধাপ অনুযায়ী করহার ব্যবহার করে করদায় নির্ণয়। উদাহরণ ব্যবহার করে লেখক ধাপে ধাপে দেখিয়েছেন কীভাবে আয় থেকে আয়কর গণনা করতে হবে। লেখন যখন আয়কর গণনা করছেন তখন আপনি যদি সাথে সাদা কাগজ এবং কলম রাখেন তাহলে সাথে সাথেই আপনারও আয়কর গণনা হয়ে যাবে। এতো সহজভাবে লেখন আয়কর গণনা করে দেখিয়েছেন

 

বেসরকারি চাকরিজীবী, সরকারি চাকরিজীবী, বাড়ি ভাড়া থেকে আয়, শিক্ষক এবং চিকিৎসক কীভাবে তাদের আয় থেকে আয়কর বের করবেন তা আলাদা আলাদা অনুচ্ছেদে উদাহরণসহ আলোচনা করেছেন। এমনভাবে আলোচনা করা হয়েছে যা পড়ে আপনি আয়কর রিটার্ন তৈরি হাতে-কলমে শিখতে পারেন। আর বইটি ভালোভাবে পড়ে একবার যদি শিখে নেন তাহলে পরের বছর থেকে শুধু নিজেই না অন্যকেও আপনি সহায়তা করতে পারবেন

 

রিটার্ন ফরম পূরণ

 

শেষ ধাপ হলো রিটার্ন ফরম পূরণ। রিটার্ন ফরম পূরণ করতে গেলে প্রথমেই যে প্রশ্নটা আসে তাহলো কোন রিটার্ন ফরমটি করদাতার জন্য প্রযোজ্য? এবং সহজেই কোন রিটার্ন ফরমটি পূরণ করে রিটার্ন দাখিল করা যাবে?

 

বইটিতে লেখক মোট তিনটি রিটার্ন ফরম পূরণ দেখিয়েছেন। পরিশিষ্ট অংশে রিটার্ন ফরম পূরণ করে দেখিয়েছেন এবং তার বিস্তারিত আলোচনা মূল বইটিতে রয়েছে। বইটির পঞ্চম অধ্যায়ে আয়কর গণনা দেখিয়েছেন এবং তার আলোকেই রিটার্ন ফরম পূরণ করেছেন। তাই আপনিও কীভাবে আপনার আয়কর গণনার পর রিটার্ন ফরম পূরণ করবেন তা বইটি থেকে দেখে দেখে করতে পারবে

 

যাদের আয় নেই শুধু নিয়ম রক্ষা করার জন্য রিটার্ন দাখিল করতে হবে তাদের জন্য রয়েছে মাত্র এক পৃষ্ঠার রিটার্ন ফরম। আর শুধুমাত্র চাকরিজীবী করদাতার জন্য রয়েছে