
নাহিদ হাসান
বাসায় বসে একাধারে কাজ করা যেমন মজার হতে পারে, আবার বিরক্তিকরও হতে পারে। বিশেষ করে যাদের অভ্যাস নেই বাসায় বসে কাজ করার তাদের জন্য ভালো লাগুক আর না লাগুক, প্রোডাক্টিভিটি ইস্যু হবে।
তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে এ সমস্যা থেকে বের হওয়া সম্ভব। এই পোস্টে আমি কীভাবে বাসায় বসেও প্রোডাক্টিভিট ওয়েতে অফিসের সব কাজ একই রকম ভাবে করা যাবে তা নিয়ে আলোচনা করব।
১. নিজের সারাদিনের কাজের প্লান আগেই তৈরি করতে হবে:
বাসায় এবং অফিস, দুই জায়াগতেই প্রোডাক্টিভ হতে হলে নিজের সারাদিনের কাজের প্ল্যান হয় আগের দিন রাতে অথবা সেদিন সকালেই করে ফেলতে হবে। মূলত সারাদিনের কাজের প্ল্যান করতে ৫-১০ মিনিটের বেশি লাগার কথা নয়।
প্ল্যান তৈরি হয়ে যাবার পর এনশিউর করতে হবে আমরা ঠিকঠাক ভাবে তা মেনে চলছি।
যতটুকু সম্ভব ডেস্ট্রাকশন অ্যাভয়েড করতে হবে। কাজের সময় পার্সোনাল কল, মেসেজিং থেকে বিরত থাকতে হবে। অকারণে একটু পর পর ইমেইল চেক করার অভ্যাস দুর করতে হবে।
সারাদিনের কাজের প্ল্যান যে কোনো প্রজেক্ট/টাস্ক ম্যানেজমেন্ট ট্যুলে রাখা যায়, অথবা কাগজেও লিখে রাখা যায়। চাইলে গুগল ক্যালেন্ডার ব্যবাহার করা যায়।
২. কাজের জন্য বাসার মধ্যে আলাদা জায়গা তৈরি করা:
এরকম কি হয়, সারাদিন যাই করি না কেন, রাতে নিজের বাসায় এসে ঘুমাতে না পারলে ভালো লাগে না? বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই এমনটি হয়ে থাকে।
কাজের ক্ষেত্রেও এমন হতে পারে, নিজের ডেস্ক, নিজের চেয়ার। যেহেতু বাসা থেকে কাজ করবো তার মানে আমার সেই রেগুলার ডেস্ক থাকছে না, তার মানে এটা নয় যে যখন যেখানে খুশি সেখানে বসেই কাজ শুরু করবো। ভালো হয় যদি বাসার মধ্যেই একটি কাজের জায়গা আলাদা করা যায়। যদি সম্ভব হয়, ন্যাচারাল লাইট আসে এমন কোনো জায়গাতে সেট করতে পারলে ভালো।
৩. অফিস টাইম মেইন্টেইন করা এবং নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা:
ঘরে বসে কাজ করা মানে সময় বাঁচানো (যাতায়াত সময়, খাবার সময়) এবং সাথে এনার্জি। এর মানে এটা নয় যে আমি যখন খুশি তখন কাজ করবো। বাসায় বসে কাজ করলেও অফিস টাইম মেইন্টেইন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক সময়েই কাজ শুরু করা উচিত। যখন কাজ শুরু করছেন, গ্রুপ মেসেজে গুড মর্নিং লিখে জানিয়ে দেয়া যেতে পারে যে, আমি কাজে বসেছি। যেহেতু সবাই যার যার বাসা থেকে কাজ করছে, তাই উচিত যতটা সম্ভব যোগাযোগ রক্ষা করা। এমনকি আগের চাইতেও বেশি, যাতে ম্যানেজমেন্টের মনে না হয় যে আমি কাজ করছি না।
সময় মতো গ্রুপ মিটিংগুলোতে উপস্থিত থাকা, নিজের ইনপুট দেয়া।
৪. আইসোলেটেড ফিল করা যাবে না:
অনেকেই বাসায় বসে একটু লম্বা সময় কাজ করলে নিজেকে আইসোলেটেড মনে করে, এবং এটাই স্বাভাবিক। যেহেতু কারো সাথে দেখা হচ্ছে না, গল্প হচ্ছে না, একসাথে চা/কফি খাওয়া হচ্ছে না। তাই অনেকেই নিজেকে একা একা ফিল করতে পারেন। বোরিং ভাব চলে আসতে পারে।
তাই উচিত প্রতিদিন, অথবা প্রতি সপ্তাহে কলিগদের সাথে অনলাইনেই ভিডিও চ্যাট করা। কফি খেতে খেতে গল্প