English
ঢাকা, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রকাশঃ ২০২৬-১০-১০ ২০:৫৮:০১
আপডেটঃ ২০২৬-১০-১১ ০৩:৩৫:১৯


বিশ্ব জুড়ে জেন জির উত্থান: সংবাদমাধ্যমের দায়

বিশ্ব জুড়ে  জেন জির উত্থান: সংবাদমাধ্যমের দায়


 মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান

বাংলাদেশ থেকে ভারত: সংঘাতের খবর নয়, পরিবর্তনের অন্তর্গত গল্পটিও বলতে হবে

 

একটি প্রজন্ম যখন রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করতে শুরু করে, তখন সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, সংবাদমাধ্যমেরও। কারণ, আন্দোলন কীভাবে শুরু হলো, কারা রাস্তায় নামল, কেন নামল, রাষ্ট্র কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাল এবং আন্দোলনের পর সমাজে কী বদলাল—এসব প্রশ্নের উত্তর তৈরি হয় সংবাদমাধ্যমের বয়ান, তথ্য ও বিশ্লেষণের মধ্য দিয়েও।

বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, নেপালের ২০২৫ সালের জেন জি আন্দোলন, কেনিয়ার তরুণদের প্রতিবাদ এবং ভারতের সাম্প্রতিক শিক্ষার্থী আন্দোলন—সবকিছুই আমাদের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন হাজির করেছে: তরুণদের ক্ষোভ কি বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার সমষ্টি, নাকি এর গভীরে রয়েছে রাষ্ট্র, সমাজ ও প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সম্পর্কের পরিবর্তন?

দেশগুলোর রাজনৈতিক বাস্তবতা এক নয়। আন্দোলনের কারণ, সংগঠন, নেতৃত্ব এবং পরিণতিও আলাদা। তবু দুর্নীতি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক জবাবদিহির অভাব, ন্যায্য সুযোগের দাবি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের মতো বিষয় বারবার ফিরে আসছে।

এই আন্দোলনগুলোকে শুধু তরুণদের বিদ্রোহ হিসেবে দেখলে তাদের তাৎপর্যের একটি অংশ অধরা থেকে যায়। আবার প্রতিটি আন্দোলনকে একই ছাঁচে ফেলে ‘জেন জি বিপ্লব’ বললেও বাস্তবতার সরলীকরণ ঘটে। প্রয়োজন ঘটনাগুলোর অন্তর্গত কারণ বোঝা। আর সেই কাজেই সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থান: সংবাদমাধ্যম কীভাবে ঘটনাকে ব্যাখ্যা করেছে?

*International Journal of Peace and Conflict Research*-এ প্রকাশিত ‘Media Framing of the July 2024 Uprising in Bangladesh: Testing the Boundaries of Galtung’s Peace Journalism Model’ শীর্ষক গবেষণাপত্রটি এই প্রশ্ন অনুসন্ধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।

গবেষকেরা ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের আটটি ইংরেজি দৈনিকের ৯৮টি সংবাদ বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁদের বিশ্লেষণের তাত্ত্বিক ভিত্তি ছিল নরওয়েজিয়ান শান্তি গবেষক ইয়োহান গালতুংয়ের ‘পিস জার্নালিজম’ বা শান্তিমুখী সাংবাদিকতা এবং ‘ওয়ার জার্নালিজম’ বা সংঘাতমুখী সাংবাদিকতার ধারণা।

গবেষণাটি সংবাদ পরিবেশনের ধরনকে কেবল দুটি বিপরীত শ্রেণিতে ভাগ করে সবকিছু ব্যাখ্যা করার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে। সংবাদে মানুষের অভিজ্ঞতা ও ঘটনার প্রেক্ষাপট উঠে আসার পাশাপাশি ক্ষমতাকেন্দ্রিক সূত্রের ওপর নির্ভরতা এবং বিজয়-পরাজয়ের ভাষ্যও থাকতে পারে। অর্থাৎ সংবাদ পরিবেশনে একাধিক ধরনের ফ্রেমিং একই সঙ্গে সক্রিয় থাকতে পারে।

এই পর্যবেক্ষণের তাৎপর্য রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের কাজ শুধু ঘটনা বর্ণনা করা নয়; কোন ঘটনা সামনে আসবে, কার বক্তব্য গুরুত্ব পাবে, কোন শব্দ ব্যবহৃত হবে এবং কোন প্রেক্ষাপট বাদ পড়বে—এসব সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েও সংবাদ একটি বিশেষ অর্থ তৈরি করে।

তবে গবেষণাটির সীমাবদ্ধতাও মনে রাখা দরকার। আটটি ইংরেজি দৈনিকের নির্বাচিত ৯৮টি সংবাদ থেকে পুরো বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত টানা যায় না। বাংলা সংবাদপত্র, টেলিভিশন, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা বুঝতে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।

 

ভারত: পরীক্ষার প্রশ্নপত্র থেকে রাজনৈতিক জবাবদিহির প্রশ্ন

ভারতের ২০২৬ সালের শিক্ষার্থী আন্দোলন জেন জির উত্থান নিয়ে আলোচনায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখানে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল এমন একটি সংকট থেকে, যার সঙ্গে লাখো তরুণের শিক্ষা, ভবিষ্যৎ ও সামাজিক গতিশীলতার স্বপ্ন জড়িয়ে আছে।

মে মাসে ভারতের NEET-UG মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষাটি পরে বাতিল করা হয় এবং নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ২২ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থী। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য দীর্ঘ প্রস্তুতি, পরিবারের আর্থিক বিনিয়োগ এবং ভবিষ্যৎ পেশাজীবনের স্বপ্ন—সবকিছুর সঙ্গে বিষয়টি জড়িত থাকায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ দ্রুত বিস্তৃত হয়।

এই ক্ষোভকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party) নামে পরিচিত একটি তরুণদের প্রতিবাদী উদ্যোগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যঙ্গাত্মক ভাষা থেকে উঠে আসা নামটি পরে সংগঠিত প্রতিবাদের পরিচয়ে পরিণত হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি শুধু পরীক্ষার অনিয়মের তদন্তে সীমাবদ্ধ থাকেনি; পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, দায় নির্ধারণ এবং শিক্ষামন্ত্রীর জবাবদিহির প্রশ্নও সামনে আসে।

জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন, আলোচনা ও সংঘাত চলেছিল। সরকার পরীক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও আন্দোলনকারীরা রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নে চাপ অব্যাহত রেখেছিলেন। আন্দোলনের পর পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে নতুন উদ্যোগও সামনে আসে। তবে এসব উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্য আরও সময় প্রয়োজন।

এখানে সংবাদমাধ্যমের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে: একটি পরীক্ষার অনিয়ম কীভাবে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সামাজিক অসন্তোষের প্রতীকে পরিণত হয়?

পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সুযোগের ন্যায্যতা, মেধার মূল্যায়ন, পরিবারের অর্থনৈতিক চাপ এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আস্থা। কোনো শিক্ষার্থী যদি বছরের পর বছর প্রস্তুতির পর মনে করেন যে ব্যবস্থাটি স্বচ্ছ নয়, তখন ক্ষোভের পরিসর পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে চলে যেতে পারে।

ভারতের এই ঘটনাকে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি এক করে দেখা যাবে না। বাংলাদেশের আন্দোলনের নিজস্ব রাজনৈতিক ইতিহাস, ঘটনাক্রম ও পরিণতি রয়েছে। ভারতের শিক্ষার্থী আন্দোলনের সূচনা ছিল একটি নির্দিষ্ট পরীক্ষাব্যবস্থার সংকটকে ঘিরে। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই একটি অভিন্ন অনুসন্ধান জরুরি: তরুণদের তাৎক্ষণিক দাবি কখন বৃহত্তর প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির প্রশ্নে রূপ নেয়?

এই তুলনা তখনই অর্থবহ হবে, যখন পার্থক্যগুলোও গুরুত্ব পাবে।

 

ভারতের আরেকটি প্রশ্ন: ভোটার তালিকা ও নাগরিক অধিকার

অক্টোবর ২০২৬-এ ভারতের তরুণদের প্রতিবাদের পরিসর আরও বিস্তৃত হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে দিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ হয়েছে। বিরোধী দল, শিক্ষার্থী এবং ‘ককরোচ’ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তরুণেরা নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক নাম বাদ পড়ার ঘটনা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী ও বিরোধী রাজনৈতিক সমর্থকদের ওপর অসম প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তালিকা সংশোধন নিয়মিত যাচাইপ্রক্রিয়ার অংশ।

১০ অক্টোবর দিল্লিতে পরিকল্পিত বিক্ষোভ ঠেকাতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং দুই হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করার খবর প্রকাশিত হয়। প্রতিবাদকারীদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধন রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হতে হবে; অন্যদিকে কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভের অনুমতি ও আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন তুলেছে।

এই ঘটনাকে শুধু আরেকটি সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হিসেবে দেখলে এর গণতান্ত্রিক তাৎপর্য পুরোপুরি বোঝা যাবে না। ভোটার তালিকা কোনো সাধারণ প্রশাসনিক নথি নয়; এটি নাগরিকের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ভিত্তি। কারা ভোট দিতে পারবেন, কীভাবে তালিকা সংশোধিত হবে এবং ভুলভাবে বাদ পড়া ব্যক্তিরা কীভাবে প্রতিকার পাবেন—এসব প্রশ্ন নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগ এবং তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সম্পর্কে আন্দোলনকারীদের বক্তব্যকে যাচাই ছাড়া প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করাও সাংবাদিকতার কাজ নয়। প্রয়োজন বাদ পড়া নামের প্রকৃত সংখ্যা, সংশোধনের কারণ, ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পরিচয়, আপিলের সুযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা।

এখানেই সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব আরও কঠিন। রাষ্ট্রের বক্তব্য প্রকাশ করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের প্রভাব অনুসন্ধান করাও জরুরি। একইভাবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগও প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করতে হবে।

 

সংঘাতের দৃশ্য, নাকি সংঘাতের কারণ?

সংঘাতমুখী সাংবাদিকতা সাধারণত দৃশ্যমান ঘটনা, সহিংসতা, সংঘর্ষ, রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য এবং তাৎক্ষণিক ফলাফলের ওপর জোর দেয়। এর বিপরীতে শান্তিমুখী সাংবাদিকতা ঘটনার পেছনের কাঠামোগত কারণ, সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা, একাধিক পক্ষের বক্তব্য এবং সম্ভাব্য সমাধানের পথ অনুসন্ধান করে।

শান্তিমুখী সাংবাদিকতা মানে সহিংসতা আড়াল করা নয়, অপরাধের দায় এড়িয়ে যাওয়া নয়, কিংবা সব পক্ষকে কৃত্রিমভাবে সমান গুরুত্ব দেওয়া নয়। বরং সহিংসতা ঘটলে তা যথাযথভাবে নথিবদ্ধ করা, দায় ও প্রমাণ অনুসন্ধান করা এবং ঘটনার বৃহত্তর প্রেক্ষাপট তুলে ধরা—সবই এর অংশ।

ধরা যাক, কোনো আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হলো। সংবাদে যদি শুধু সংঘর্ষের ছবি, ভাঙচুরের দৃশ্য কিংবা হতাহতের সংখ্যা প্রকাশিত হয়, পাঠক ঘটনার একটি অংশ জানতে পারবেন। কিন্তু কেন আন্দোলন শুরু হয়েছিল, দাবিগুলো কী ছিল, রাষ্ট্র কীভাবে সাড়া দিয়েছিল, বলপ্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা ও বৈধতা নিয়ে কী প্রশ্ন উঠেছে এবং আলোচনার কোনো পথ ছিল কি না—এসব অনুপস্থিত থাকলে পুরো ঘটনাটি বোঝা কঠিন হবে।

অন্যদিকে, আন্দোলনের দাবি ন্যায্য হলেই আন্দোলনের প্রতিটি কর্মকাণ্ড সমর্থনযোগ্য হয়ে যায় না। কোনো পক্ষের সহিংসতা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে সেটিও অনুসন্ধান ও প্রকাশ করতে হবে।

সাংবাদিকতার দায়িত্ব কোনো পক্ষের প্রচারক হওয়া নয়; তথ্য, প্রমাণ ও জনস্বার্থের ভিত্তিতে বাস্তবতা তুলে ধরা।

 

জেন জি কি একটি একক রাজনৈতিক শক্তি?

জেনারেশন জেড বা জেন জি বলতে সাধারণভাবে ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রজন্মকে বোঝানো হয়। তবে এই সীমা সর্বজনস্বীকৃত নয়। এই প্রজন্মের একটি বড় অংশ ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের মধ্যে বেড়ে উঠেছে। তাদের যোগাযোগের ধরন, তথ্য পাওয়ার সুযোগ এবং সামাজিক-রাজনৈতিক অভিজ্à¦