নেহা বোরা ও তারুণ্যের পুনরুত্থান
প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস. মিজান
সভ্যতার
ক্রমবিকাশ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর
বিবর্তন প্রমাণ করে যে, সমাজে
যখন বৈষম্য ও অন্যায়ের শেকড়
গভীরে প্রবেশ করে, তখন কোনো
না কোনো বিন্দুতে তার
প্রতিস্পর্ধী স্বর হিসেবে জন্ম
নেয় গণজাগরণ। আজকের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অপরাধবিজ্ঞান এবং সুশাসনের তাত্ত্বিক
পরিসরে যুবসমাজ ও তরুণ প্রজন্মের
রাজনৈতিক সক্রিয়তা এক নতুন মাত্রা
লাভ করেছে। ইতিহাসের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে তরুণরাই হয়ে উঠেছে পরিবর্তনের
বারুদ। বর্তমান সময়ের ঠিক তেমনই এক
প্রতীকী ও দ্রোহী নাম
নেহা বোরা। তাঁকে কেবল একজন সাধারণ
ছাত্রনেত্রী হিসেবে মূল্যায়ন করা হীনম্মন্যতা হবে;
বরং রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজতত্ত্বের দৃষ্টিতে
তিনি একটি অস্থির সময়ের
অনিবার্য রাজনৈতিক ভাষ্য ও চেতনার প্রতিচ্ছবি।
দ্রোহের ব্যাকরণ এবং প্রথাগত হিসাবের বাইরে তারুণ্য
রাষ্ট্রীয়
বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার বিপরীতে দাঁড়িয়ে যখন কোনো তরুণ
কণ্ঠ সোচ্চার হয়, তখন তা
কেবল একটি একক সত্তার
প্রতিবাদ থাকে না। সেটি
হয়ে ওঠে শত সহস্র
বঞ্চিত মানুষের না-বলা ভাষার
সমষ্টি। নেহা বোরার উপস্থিতি
আমাদের মনে করিয়ে দেয়
সেই চিরন্তন প্রশ্নটি—কেন অন্যায়কে স্বাভাবিক
বলে মেনে নিতে হবে?
কেন ক্ষমতার বর্মে সুরক্ষিত প্রভূদের সামনে মাথা নত করতে
হবে?
অপরাধবিজ্ঞান
ও সমাজবিজ্ঞানের আলোকে, রাষ্ট্রে যখন সুশাসনের অনুপস্থিতি
ঘটে, জবাবদিহিতার জায়গাটি যখন ভীতি ও
বলপ্রয়োগ দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়,
তখন নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা হুমকির মুখে পড়ে। এই
সংকটময় সন্ধিক্ষণে প্রথাগত হিসাব-নিকাশ বা সুযোগের রাজনীতি
তরুণ প্রজন্মকে তৃপ্ত করতে পারে না।
নেহা বোরা সেই হিসাবের
বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে আসা
এক অকুতোভয় সত্তা। তাঁর আন্দোলন প্রমাণ
করে যে, দ্রোহ কোনো
সাময়িক ক্ষোভ নয়; এটি হলো
কাঠামোগত নিপীড়নের বিরুদ্ধে একটি দীর্ঘমেয়াদি বুদ্ধিবৃত্তিক
ও নৈতিক অবস্থান।
ব্যারিকেড ও বন্দুকের বিপরীতে ইতিহাসের জয়যাত্রা
ক্ষমতার
কেন্দ্রগুলো প্রায়শই দমন-পীড়নের ভাষা
হিসেবে মামলা, পুলিশি ব্যারিকেড, কারাবাস কিংবা ভীতি প্রদর্শনকে বেছে
নেয়। ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায়ে দেখা গেছে, শাসকগোষ্ঠী
বন্দুকের নলের মুখে মানুষের
কণ্ঠরোধ করতে চেয়েছে। কিন্তু
তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক সত্য
হলো—বন্দুক বা দমননীতি কেবল
সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে, স্থায়ী
বা দীর্ঘমেয়াদি কোনো অনুশাসন প্রতিষ্ঠা
করতে পারে না। প্রকৃত
ইতিহাস রচিত হয় প্রতিবাদী
মানুষের বুকের ভেতর থেকে, কোনো
শাসকের প্রশংসাপত্র বা অনুগ্রহ থেকে
নয়।
যখন
দিল্লির যন্তর মন্তরে বা রাজপথে তরুণদের
কণ্ঠ থামিয়ে দেওয়ার নানা আয়োজন চলে,
তখন প্রতিটি ব্যারিকেড যেন এক একটি
নতুন চিন্তার জানালা খুলে দেয়। দমন-পীড়নের মাত্রা যত বাড়ে, সংহতির
পরিধিও তত প্রশস্ত হয়।
এটি রাষ্ট্রক্ষমতার এক চিরায়ত প্যারাডক্স—যত বেশি শেকড়
টানার চেষ্টা করা হয়, শেকড়
ততই গভীরে প্রবেশ করে।
সুসময়ের অপেক্ষা বনাম প্রতিরোধের তাৎক্ষণিকতা
অনেকেই
প্রশ্ন করেন—প্রতিবাদ বা
পরিবর্তনের জন্য এটি কি
উপযুক্ত সময়? এই প্রশ্নের
জবাবে অপরাধবিজ্ঞান ও মানবাধিকারের মৌলিক
দর্শন বলে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে
দাঁড়ানোর জন্য কোনো ‘সুসময়ের’
পূর্বনির্ধারিত ক্যালেন্ডার থাকে না। যখন
অন্যায় সংঘটিত হয়, ঠিক সেই
মুহূর্তটিই প্রতিরোধের মোক্ষম সময়। প্রতিবাদ কোনো
ঋতু বা অনুকূল পরিস্থিতির
মুখাপেক্ষী নয়; বরং প্রতিবাদের
উপস্থিতিই একটি সমাজকে সুসময়ের
দিকে ধাবিত করে।
নেহা
বোরা তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা
ও সাহসিকতার মাধ্যমে এই বার্তাটিই ছড়িয়ে
দিয়েছেন যে, ভীতিকে জয়
করেই মানুষের রাজনৈতিক অধিকার আদায় করতে হবে।
তাঁর কণ্ঠস্বর কেবল আজকের দিনের
কোনো তাৎক্ষণিক আবেগ নয়; এটি
আগামী দিনের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সুশাসনের জোরালো
ঘোষণা।
অতএব,
যেখানে বৈষম্য থাকবে, সেখানেই জন্ম নেবে মুক্তির
আকুলতা। শৃঙ্খলিত সমাজে কোনো না কোনো
দিন কেউ না কেউ
সমস্ত ভয়কে তুচ্ছ করে
রুখে দাঁড়াবেই। আর সেই রুখে
দাঁড়ানোর মূর্ত প্রতীক আজ "নেহা বোরা"।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও মানবাধিকারের গবেষক
হিসেবে আমি বিশ্বাস করি,
প্রাতিষ্ঠানিক সীমানা ছাড়িয়ে এই তারুণ্যের দীপ্তি
বিশ্বজুড়ে নিপীড়িত মানুষের মনে প্রতিবাদের আগুন
জ্বেলে রাখুক। বাংলাদেশ থেকে প্রেরিত এই
নিরন্তর ভালোবাসা ও সংহতি প্রমাণ
করে যে, ন্যায় প্রতিষ্ঠার
লড়াইয়ের কোনো ভৌগোলিক সীমানা
বা দেয়াল নেই।
উপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয় (সোমালিয়া) এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অপরাধ বিশ্লেষক।
ড. বিজন কুমার শীল বিস্তারিত
বিপরীত স্রোত প্রতিবেদন বিস্তারিত
ডা. আহমদ মরতুজা চৌধুরী বিস্তারিত
যারিন মালিয়াত অদ্রিতা বিস্তারিত
মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান বিস্তারিত
সংবাদ, রাজনীতি ও বিশ্বপরিস্থিত.. বিস্তারিত
বাংলাদেশ থেকে ভারত: সংঘাতের খব.. বিস্তারিত
প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস. মিজান বিস্তারিত
প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস. মিজান বিস্তারিত
এআই হতে পারে সাংবাদিকতার এক অস.. বিস্তারিত