English
ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

প্রকাশঃ ২০২০-০৯-২৯ ১৪:৫১:০৮
আপডেটঃ ২০২৬-১০-১৭ ১০:৫০:০৭


জোরদার করুন আপনার দেহ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

জোরদার করুন আপনার দেহ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা


ডা. আতাউর রহমান


[সুস্থ ও তারুণ্যদীপ্ত দেহ-মনের জন্যে বহুলাংশে প্রয়োজন একটি জোরদার ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা। আর এই দেহ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তুলতে চাই আমাদের সচেতন প্রচেষ্টা। দৈনন্দিন জীবনঅভ্যাসে নিতান্তই ছোট ছোট কিছু পদক্ষেপ আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে করে তুলতে পারে অধিকতর কার্যকরী। তেমনই কিছু করণীয় ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করা হবে স্বাস্থ্যবিষয়ক এই রচনায়।]

 

পর্ব : ৫

 

১৩. খাদ্যতালিকায় চাই প্রোটিন, তবে স্বাস্থ্যকর :

প্রোটিনের নানা গুণপনার কথা আমরা কমবেশি সকলেই জানি। যেমন: সুষম খাদ্যাভ্যাসের একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ এটি, শরীর গঠনে বিশেষত পেশি গঠনে প্রোটিনের সক্রিয় ভূমিকা ইত্যাদি। এসবের পাশাপাশি প্রোটিন কিন্তু কার্যকর দেহ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটকও বটে।

তাই প্রতিবেলার খাবারে রাখুন পর্যাপ্ত প্রোটিন। কারণ প্রোটিনে থাকে অ্যামাইনো এসিড, যা রোগ প্রতিরোধে সহায়ক অ্যান্টিবডি ও অন্যান্য কোষগুলো-সহ আমাদের সব দেহকোষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গাঠনিক উপাদান। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় যদি প্রোটিনের ঘাটতি হয় তবে দেহে হ্রাস পেতে পারে শ্বেতকণিকার উৎপাদন, যা রোগ সংক্রমণের জন্যে দায়ী অ্যান্টিজেনগুলোর বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সহজ কথায়, আমাদের ইমিউন সেল বা রোগ প্রতিরোধী কোষগুলো প্রোটিনের ওপর নির্ভরশীল।

রোগ প্রতিরোধী কোষগুলো নিজেদের সংখ্যাবৃদ্ধির মাধ্যমে নানা রকম জীবাণুর বিরুদ্ধে তাদের লড়াই চালিয়ে যায়। আর এ কোষগুলোর বংশবৃদ্ধির জন্যে শরীরে দরকার প্রোটিন ও এমাইনো এসিড। এর পাশাপাশি প্রোটিন রক্তে চিনির ভারসাম্য রক্ষা করে এবং রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় অ্যালকালাইন পরিবেশ বজায় রাখে দেহে।

এছাড়াও খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের পরিমাণ কম হলে সাধারণত দেখা যায়, শর্করাটা খাওয়া হয়ে যায় তুলনামূলক বেশি। বিশেষত পরিশোধিত শর্করা বা রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট, যা হজম প্রক্রিয়ায় দ্রুত গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়। এতে রক্তে চিনির পরিমাণ যায় বেড়ে। ফলে প্যানক্রিয়াসের ওপর কিছুটা অতিরিক্ত চাপ পড়ে। বাধাগ্রস্ত হয় ইমিউন সিস্টেমের স্বাভাবিক কর্মপ্রক্রিয়া।

কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট আপনার শরীর যেমনভাবে সংরক্ষণ করতে পারে, প্রোটিনের বেলায় ঠিক তেমনটা ঘটে না। তাই শরীরে প্রোটিনের অব্যাহত সরবরাহ থাকা বাঞ্চনীয়। যে-কারণে প্রতিবেলার খাবারে ভালো মানের প্রোটিন রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন গবেষকরা।

কিন্তু মনে রাখতে হবে, পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ করতে গিয়ে খাদ্যে সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যাওয়াটা মোটেই স্বাস্থ্যসম্মত হবে না। সবচেয়ে ভালো হয় যদি মাছ বিশেষত সামুদ্রিক মাছ, মুরগির মাংস (চামড়া ছাড়া), ডিম, বিভিন্ন ধরনের ডাল, সয়া ইত্যাদি থেকে প্রোটিন গ্রহণ করা যায়। উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবারগুলো হলো দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, গম, স্পিরুলিনা বা সামুদ্রিক শৈবাল, সবুজ পাতাযুক্ত শাকসবজি, নানা রকম বাদাম ও বীজ ইত্যাদি।

আবার এত বেশি প্রোটিন গ্রহণ করাও স্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হবে না, যার দরুন হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই একই বেলার খাবারে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যবান্ধব শর্করা ও ফ্যাট গ্রহণের ব্যাপারে সচেষ্ট থাকুন। তাতে খাবারের পুষ্টিমানে ভারসাম্য বজায় থাকবে।

পথ্যবিদরা বলেন, একজন পূর্ণবয়সী মানুষের দৈনিক মোট ক্যালরি গ্রহণের প্রায় চার ভাগের একভাগ অর্থাৎ ২৫ শতাংশের উৎস প্রোটিন হলে ভালো হয়। ২০ থেকে ২৫ শতাংশ আসবে ফ্যাটযুক্ত (স্বাস্থ্য-হিতকরি ফ্যাট) খাবার থেকে এবং বাকিটা আসবে পূর্ণ খাদ্যশস্য, তাজা ফলমূল ও শাকসবজি থেকে।


 

১৪. অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট : ইমিউন সিস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ সৈনিক

আপনার প্রতিদিনকার খাবারটা হোক অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর, তাতে আপনার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা হবে দিন দিন আরো সংহত ও শক্তপোক্ত।

কেন দরকার এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট? কেনই বা এত গুরুত্বপূর্ণ