মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান
একটি ছোট উদ্যোগ
থেকে পাকিস্তানের বৃহত্তম মানবসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের জন্ম
নোবেল পুরস্কার আমার কাছে কিছুই নয়, আমি শুধু মানবতার কথা ভাবি।
-আবদুল সাত্তার ইধি
পাকিস্তানের কিংবদন্তি মানবতাবাদী আবদুল
সাত্তার ইধির
জীবনকে
বুঝতে
হলে
শুধু
একজন
দানশীল
মানুষের জীবনী
জানলে
চলে
না।
বুঝতে
হয়,
কীভাবে
ব্যক্তিগত সহমর্মিতা একটি
সামাজিক আন্দোলনে পরিণত
হতে
পারে;
কীভাবে
সাধারণ
মানুষের ছোট
ছোট
অনুদানে গড়ে
উঠতে
পারে
বিশাল
সেবাব্যবস্থা; আর
কীভাবে
ধর্ম,
শ্রেণি
ও
সামাজিক পরিচয়ের বিভাজন
অতিক্রম করে
মানুষের পাশে
দাঁড়ানো যায়।
আবদুল
সাত্তার ইধির সাধারণ মানুষের কাছে বাবা ইধি
নামে বেশি পরিচিত।
অসহায় মানুষের দুঃখ
লাঘবই
ছিল
ইধির
জীবনের
প্রধান
লক্ষ্য। কোথাও
কেউ
দুর্ঘটনায় পড়ে
আছেন,
কোনো
মা
নবজাতককে নিয়ে
বিপন্ন,
কোনো
বৃদ্ধের মাথা
গোঁজার
ঠাঁই
নেই,
কিংবা
কোনো
অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহ
পড়ে
আছে
অবহেলায়—এসব
পরিস্থিতিই ছিল
তার
কাছে
মানবতার বাস্তব
পরীক্ষা।
তার প্রতিষ্ঠিত ইধি
ফাউন্ডেশন পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্স ও
জরুরি
চিকিৎসাসেবা, এতিম
ও
পরিত্যক্ত শিশুর
আশ্রয়,
গৃহহীন
মানুষের পুনর্বাসন, হাসপাতাল, বিনা
মূল্যে
খাবার
বিতরণ
এবং
অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহের সৎকারসহ বহুমুখী মানবিক
কাজ
পরিচালনা করে।
মায়ের অসুস্থতা
থেকে মানবসেবার পথে
আবদুল সাত্তার ইধির
জন্ম
১৯২৮
সালে,
তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের
গুজরাটের বান্টভা গ্রামে। দেশভাগের পর
তার
পরিবার
পাকিস্তানে চলে
যায়
এবং
করাচিতে বসতি
গড়ে।
মাত্র
১১
বছর
বয়সে
তিনি
দেখেন,
তার
মা
পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়েছেন। পরে
তার
মানসিক
অসুস্থতাও দেখা
দেয়।
মায়ের
পরিচর্যা, খাওয়ানো এবং
দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর দায়িত্ব ছোট্ট
ইধিকে
অন্যের
কষ্টের
সঙ্গে
গভীরভাবে পরিচিত
করে
তোলে।
আবদুল সাত্তার ইধির বয়স যখন মাত্র ১১ বছর, তখন তার মা পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন। দীর্ঘ আট বছর ধরে তিনি মায়ের পরিচর্যা করেন। মাকে খাওয়ানো, তার দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো—সবই ছিল ছোট্ট ইধির জীবনের অংশ। ১৯ বছর বয়সে তিনি মাকে হারান।
মায়ের
অসুস্থতা তাকে শিখিয়েছিল, অসহায়
মানুষের পাশে থাকা কতটা
জরুরি। শৈশবে মা তাকে
দরিদ্র মানুষের সঙ্গে ভাগ করে
নেওয়ার শিক্ষাও দিয়েছিলেন। মায়ের কাছ থেকে
পাওয়া সেই শিক্ষা এবং
পরিচর্যার অভিজ্ঞতা তার মানবিক চেতনা
গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরবর্তী
জীবনে অসুস্থ, অনাথ ও অবহেলিত
মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ
করার মধ্য দিয়ে তিনি
সেই শিক্ষাকেই বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে দেন।
ইধির কাছে
মানবসেবা ছিল
না
কোনো
বিশেষ
উপলক্ষের কাজ।
দুর্যোগের সময়
সাহায্য করা
কিংবা
উৎসবের
দিনে
দরিদ্র
মানুষের মধ্যে
খাবার
বিতরণ
করার
মধ্যেও
তিনি
নিজের
দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি
এমন
একটি
ব্যবস্থা গড়ে
তুলতে
চেয়েছিলেন, যেখানে
অসহায়
মানুষকে সাহায্য পাওয়ার
জন্য
কোনো
বিশেষ
দিন,
পরিচয়
কিংবা
সুপারিশের অপেক্ষায় থাকতে
হবে
না।
১৯৫১ সালে
নিজের
সঞ্চয়
দিয়ে
করাচিতে একটি
ছোট
ওষুধের
দোকান
কিনে
তিনি
চিকিৎসাসেবার কাজ
শুরু
করেন।
১৯৫৭
সালে
এশীয়
ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রাদুর্ভাবের সময়
তার
কর্মকাণ্ড আরও
বিস্তৃত হয়।
মানুষের কাছ
থেকে
পাওয়া
অনুদানে একটি
পুরোনো
গাড়িকে
অ্যাম্বুলেন্সে রূপান্তর করা
হয়।
সেই
ছোট
উদ্যোগই পরবর্তী সময়ে
পাকিস্তানের বৃহৎ
স্বেচ্ছাসেবী অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক গড়ে
ওঠার
পথ
তৈরি
করে।
ইধির হাতে
শুরুতে
ছিল
না
বিপুল
অর্থ
কিংবা
বিশাল
কোনো
প্রতিষ্ঠান। ছিল