প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস. মিজান
একটি
রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, প্রশাসনিক সংস্কার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার
প্রাথমিক পূর্বশর্ত হলো তার প্রাতিষ্ঠানিক
কাঠামোর অভ্যন্তরীণ শুদ্ধিকরণ। রক্তক্ষয়ী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের
নেতৃত্বাধীন ইন্টারিম সরকার যে নতুন বাংলাদেশের
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল, তার ধারাবাহিকতায় দেশ
আজ এক নতুন সম্ভাবনার
দিকে যাত্রা শুরু করেছে। কিন্তু
অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, বিগত দেড়
দশকের কর্তৃত্ববাদী অপশাসনের অবশিষ্টাংশ এবং প্রশাসনের অভ্যন্তরে
অবস্থানরত কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এখনো রাষ্ট্রীয় যন্ত্রকে
নিজেদের সংকীর্ণ এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। অপরাধবিজ্ঞান, সুশাসন ও মানবাধিকারের গবেষণালব্ধ
দৃষ্টিকোণ থেকে আমার সুনির্দিষ্ট
পর্যবেক্ষণ- প্রশাসনিক প্রাতিষ্ঠানিকতার এই অভ্যন্তরীণ অন্তর্ঘাত
ও প্রাতিষ্ঠানিক অবাধ্যতা কেবল নৈতিক অন্যায়ই
নয়, বরং তা বর্তমান
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সংস্কারমুখী ও জনকল্যাণমূলক অগ্রযাত্রাকে
ভেতর থেকে নস্যাৎ করার
একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।
আইনের
শাসনের (Rule of Law) অন্যতম মূল স্তম্ভ হলো
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সর্বোচ্চ আদালতের
রায়ের প্রতি শর্তহীন প্রাতিষ্ঠানিক আনুগত্য। বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে
রাজনৈতিক ভিন্নমত ও 'বিএনপিপন্থী' ট্যাগ
লাগিয়ে অসংখ্য দক্ষ, দেশপ্রেমিক ও যোগ্য কর্মকর্তাকে
সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত করে তাঁদের পেশাগত
জীবন ধ্বংস করা হয়েছিল। দীর্ঘ
কণ্টকাকীর্ণ আইনি প্রক্রিয়া শেষে,
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ যখন
এই কর্মকর্তাদের বকেয়া বেতন, জ্যেষ্ঠতা ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধাসহ চাকরিতে পুনর্বহালের ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন,
তখন প্রত্যাশা ছিল প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের
এক কালো অধ্যায়ের অবসান
ঘটবে। কিন্তু প্রশাসনিক রন্ধ্রে রন্ধ্রে জেঁকে বসা রাজনৈতিক আমলাতন্ত্র
সেই বিচারিক বিজয়কে আজ এক চরম
প্রহসনে পরিণত করেছে।
এই
সংকটের সবচেয়ে প্রকট ও উদ্বেগজনক নজির
হলো দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে
বৈষম্যের শিকার হওয়া ৮৫ জন উপজেলা
ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তার
পুনর্বহাল প্রক্রিয়া। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের স্পষ্ট রায় এবং নির্বাচন
কমিশনের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন থাকা সত্ত্বেও, প্রশাসনিক
প্রক্রিয়ার ভেতরে যে অবজ্ঞা, প্রশাসনিক
স্থবিরতা ও দীর্ঘসূত্রতার 'সাপলুডু
খেলা' চালানো হচ্ছে- তা অপরাধবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক
কাঠামোর আলোকে একটি সুনির্দিষ্ট ‘প্রশাসনিক
জেনোসাইড’
(Administrative Genocide) বা
‘প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়ন’ (Institutional
Oppression)। প্রজ্ঞাপন জারি ও পদায়নের
প্রশাসনিক বাহ্যিক রূপ দেখানো হলেও,
প্রাতিষ্ঠানিক মারপ্যাঁচে তাঁদের প্রাপ্য জ্যেষ্ঠতা ও আর্থিক সুবিধাদি
আটকে রাখা হয়েছে, যা
ভিকটিমদের মানসিকভাবে পর্যুদস্ত করার একটি সুক্ষ্ম
কৌশল।
মানবাধিকারের
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও সাংবিধানিক মূলনীতির
আলোকে বিচার করলে, এই বিলম্বিত ন্যায়বিচার
মূলত ন্যায়বিচারকে অস্বীকার করারই সামিল (Justice delayed is
justice denied)। কোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান
যখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশনাকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর না করে খণ্ডিত
বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বন্দি রাখার চেষ্টা করে, তখন তা
সাংবিধানিক শ্রেষ্ঠত্বের (Constitutional
Supremacy) ওপর সরাসরি আঘাত হানে। প্রশাসনের
ভেতরে ছদ্মবেশে থাকা অতীত অপশক্তির
দোসরেরা এখনো সেই পুরোনো
প্রতিশোধপরায়ণ মানসিকতা লালন করছে। তারা
বাহ্যিকভাবে নতুন বাংলাদেশের নীতি
স্বীকার করলেও অভ্যন্তরীণভাবে প্রশাসনিক গতিশীলতা ব্যাহত করতে এবং আদালতের
রায় বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করে
বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জঘন্য চক্রান্তে
লিপ্ত।
একটি
প্রকৃত বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ
গড়ে তুলতে হলে এই প্রাতিষ্ঠানিক
জেনোসাইড ও আমলাতান্ত্রিক প্রহসন
অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
সর্বোচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়নে যেসব
কর্মকর্তা কৃত্রিম জটিলতা ও বাধা সৃষ্টি
করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনাচারের দায়ে কঠোর আইনি ও
প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের
দাবি। আমলাতান্ত্রিক ছলছাতুরীর এই সাপলুডু খেলার
চির অবসান ঘটিয়ে, বিচারিক ন্যায়বিচার ও মৌলিক মানবাধিকারের
পূর্ণ প্রতিফলনের মাধ্যমেই সুশাসনের নতুন সূর্য উদিত
হতে পারে।
উপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয় (সোমালিয়া) এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অপরাধ বিশ্লেষক।
ড. বিজন কুমার শীল বিস্তারিত
বিপরীত স্রোত প্রতিবেদন বিস্তারিত
ডা. আহমদ মরতুজা চৌধুরী বিস্তারিত
যারিন মালিয়াত অদ্রিতা বিস্তারিত
মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান বিস্তারিত
বাংলাদেশের প্রথম আলোচিত সামাজ.. বিস্তারিত
প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস. মিজান বিস্তারিত
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান বিস্তারিত
ফটোজিয়ামের প্রতিষ্ঠাতা, একুশে.. বিস্তারিত
প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস. মিজান বিস্তারিত