English
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

প্রকাশঃ ২০২০-০৬-৩০ ১২:৫৪:২৯
আপডেটঃ ২০২৬-১১-০২ ০৮:৪৪:২১


ক্যারাম

ক্যারাম

অরুণ সেন

বলা নেই কওয়া নেই হঠাৎ দুম করে আমি হয়ে গেলাম স্কুলে ক্যারাম চ্যাম্পিয়ন।এমনিতে আমাদের স্কুলে এতো মেধাবী ছাত্রের  ভীড় যে খেলাধুলা নিয়ে কেউ বেশি মাথা ঘামত না।বছরে তিনটে হায়ার সেকেন্ডারিতে স্ট্যান্ড না করলে সে বছর খুব খারাপ রেজাল্ট।একবার অঘোর শিল্ডে ফুটবলে নাম দিয়ে তীর্থবতী ইনস্টটিটুশনের কাছে পাঁচ শূন্য গোলে গোহারান হেরে ক্ষান্ত দিয়েছিল।যদিও আমাদের আর্চ রাইভাল সেন্ট লরেন্স স্কুলকে কোনো রকমে হারিয়ে আমাদের সে কী উল্লাস।অথচ স্কুলে গোল পোস্ট দেওয়া বিরাট মাঠ কিন্তু খেলাতে কারোই মন নেই।হঠাৎ সেবার ক্যারাম কমপিটিশন হবে বলে অশোক মোহন আমাকে বললো, তুই আমার পার্টনার হবি।

আমি বললাম, চল ঠিক আছে।

আমি তখন নিচু ক্লাসেই পড়ি কিন্তু কেমন করে যে ক্রমে ক্রমে সেমি ফাইনাল, ফাইনাল জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেলাম কে জানতো!

 

আমার অবশ্য কোনো ডিগ্রি ছিল না ক্যারাম খেলায়।আমার হাতে খড়ি কালীঘাট তরুণ সঙ্ঘ লাইব্রেরিতে।সাদার্ন মার্কেটের দোতলার একদম কোণে এই লাইব্রেরিটা আমার খুব ভালো লাগতো।আমরা থাকতাম সাদার্ন এভিনিউয়ের প্রথম বাড়িটায়।মায়ের ছিল ভীষণ বই পড়ার নেশা। রোজ একটা করে বই তার চাই। আমায় ছোট চিরকুটে বইয়ের নামটা লিখে দিত আর আমি সেটা গিয়ে সোজা দিতাম রবিদার হাতে। রবিদা কোনোদিন চাকরি বাকরি করে নি।লাইব্রেরির জন্য নিবেদিতপ্রাণ।সমস্ত বই কোথায় আছে মুখস্ত। কোনোদিন ঢোঁড়াই চরিত মানস কিংবা পদ্মা নদীর মাঝি কোনদিন যাযাবর এর দৃষ্টিপাত, বুদ্ধদেব বসুর তপস্বী ও তরঙ্গিনী কিংবা মুজতবা আলীর যে কোনো বই নিমেষে বার করে দিত।ক্যাটালগ সব নিজের হাতে বানাত।আর হাতের লেখা ছিল মুক্তোর মতো।এই কাজের জন্য কোনো পয়সাও নিতো না। কোনদিন দেখি নি রবিদা আসে নি।ঝড় হোক, বৃষ্টি হোক, ঠিক পাঁচটায় এসে দরজা খুলে আপনমনে কাজ করে যেত।আমার খুব ইচ্ছা ছিল ওই লাইব্রেরিয়ান হয়ে বই পড়ে পড়ে নিশ্চিন্তে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেব।আমাকে আবার খুব ভালোবাসত কেন না আমি কোনোদিন সময় পেলে ফেরৎ আসা বইগুলো নাম্বার দেখে দেখে তাকে রেখে আসতাম। একবার সর্দান মার্কেটের ওপরে বিরাট থিয়েটার করা হয়েছিল।অপর্ণা সেন ডেসদামিনো আর উৎপল দত্ত ওথেলো।পুরো ইংরেজিতে নাটক আর আমার ওপর ভার ছিল অপর্ণা সেনকে একটা পুস্তকস্তবক লাইব্রেরির তরফ থেকে দেওয়ার।কী নার্ভাস যে আমি হয়েছিলাম।

বড়রা মেম্বার হলে ছোটদের একটা করে বই ফ্রি দিত। মেম্বারশিপ ফি পাঁচ টাকা।আমি ছিলাম বিদেশি বইয়ের পোকা।তখন হেমেন্দ্র কুমার রায় আর নীপেন্দ্র কৃষ্ণ অনুবাদ সাহিত্য কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। দারুণ দারুণ সব বই। অ্যারাউন্ড দি ওয়ার্ল্ড ইন এইটটি ডেইজ,