English
ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

প্রকাশঃ ২০২৬-১০-১৬ ০৭:০৬:৪৬
আপডেটঃ ২০২৬-১০-১৯ ০৩:০৫:৫৯


“Osman Mia Was Here”

“Osman Mia Was Here”


“Osman Mia Was Here”

 

 রাশেদ জামান

 

 

 

 

২০১৫ তে আয়নাবাজী সিনেমার বেশ কিছুটা অংশের শুটিং হয়েছিলো কাশিমপুর কারাগারে। 

 

আউটডোর এবং ইনডোর মিলে শুট। এই কারাগারের মহাপরিচালক থেকে শুরু করে জেলার, অফিসার, কারা প্রহরী - সবার অপ্রত্যাশিত সহযোগিতায় মুগ্ধ হয়েছিলাম পুরো শুটিং ইউনিট এর আমরা সবাই। 

 

স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলো সত্যিকারের কয়েদিরাও। এমনকি টপ টেরর সেল (TT) এর অনেক বাসিন্দা, যারা আইনের চোখে দেশের সবচাইতে কুখ্যাত আসামি, তারাও কেউ দূরে দাঁড়িয়ে থাকেন নাই। তাদের অনেকেই  আমাদের ইউনিটের একাত্ম অংশ হয়ে গেলেন খুব সহজেই। অনেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ব্যাকগ্রাউন্ড আর্টিস্ট হিসেবেও অংশগ্রহণ করলেন। হঠাৎ একটা সিনেমার শুটিং খুব স্বাভাবিকভাবেই তাদের একঘেয়ে কয়েদি জীবনে যথেষ্ট চাঞ্চল্য নিয়ে আসলো। 

 

বিশেষ করে চঞ্চল চৌধুরীর মতো তারকাকে বাস্তবে দেখতে পেয়ে তারা সবাই মহাখুশি। কেউ কেউ কপট অবিশ্বাস্যের হাসিমুখে তার সাথে হ্যান্ডশেকের জন্য হাত বাড়িয়ে দিলেন, দু একজন একটু সাহস করে বুকেও জড়িয়ে ধরলেন। 

 

প্রিজন ওয়ার্ডের ভেতরে তাদের বিছানার পিছনে ডানোর টিনের ডিব্বায় লুকানো মুড়ি চানাচুর দিয়ে আপ্যায়ন পর্যন্ত করাতে ব্যাস্ত হয়ে পড়লেন অনেকেই। 

 

শুরু থেকে বেশ আরামেই শুটিং চলছিলো। ৬৫/৬৬ বছর বয়সের সাদা দাড়িওয়ালা একজন প্রবীন কয়েদি প্রথম দিনেই বুঝে গেলেন যে চঞ্চল চৌধুরী এই সিনেমার নায়ক এবং আমি হলাম তার ক্যামেরাম্যান। তিনি প্রথম দিন থেকে প্রতিদিন শুটিং-এর পুরোটা সময় আশেপাশেই ঘোরাঘুরি করেন। 

 

এই বয়স্ক মুরুব্বীর ওপর দু একদিন পরই বেশ বিরক্ত হওয়া শুরু করলাম খুব তুচ্ছ একটা কারণে। তিনি সুযোগ পেলেই আমার কাছে এসে নানা কায়দায় আবদার করেন, ‘স্যার, আমার একটা আলাদা ছবি চঞ্চল ভাইয়ের সাথে তুইল্লা দেন। আপনার কাছে বাবা এইটা আমার বিশেষ অনুরোধ।’ 

 

স্টিল ফটোগ্রাফারকে বললাম তার একটা ছবি চঞ্চল ভাইয়ের সাথে তুলে দিতে। কিন্তু তিনি শুধু একটা স্টিল ছবিতে সন্তুষ্ট হলেন না। প্রথমে আমি বুঝতেই পারলাম না তিনি আসলে কি চাইছেন। পরে বুঝলাম তিনি চাইছেন যে তাকে যেন কোনো একটা উপায়ে চঞ্চল চৌধুরীর সাথে সিনেমার চলমান ছবিতে দেখা যায়। যদিও এই মুরুব্বীকে কিছু সিনে ব্যাকগ্রাউন্ডে ইতিমধ্যে রাখা হয়েছিল, কিন্তু তিনি এখন চাইছেন তাকে যেন আলাদা করে বিশেষ ভাবে দেখানো হয়। ‘আলাদা একটা ছবি’ বলতে তিনি আস্ত একটা shot বোঝাতে চাইছেন।

 

বোঝা গেল এই লোক যথেষ্ট বুদ্ধিমান মানুষ। ডিরেক্টরের মনিটরে ভিডিও রিপ্লে চালানোর সময় তিনি পেছন থেকে দেখেছেন যে ব্যাকগ্রাউন্ডে ‘তিনি যে তিনিই’ সেটা এতো দূর থেকে কোনোভাবেই বোঝা যাওয়া সম্ভব না,