English
ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

প্রকাশঃ ২০২১-০৫-০২ ১১:৩১:৩৪
আপডেটঃ ২০২৬-১০-২২ ১৯:৫৯:৫৮


সত্যজিৎ রায় : জন্মশতবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি

সত্যজিৎ রায় : জন্মশতবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি



আবদুল্লাহ আল মোহন

সত্যজিৎ রায়। ডাক নাম- মাণিক। বিশ্ববরেণ্য বাঙালি চলচ্চিত্রকার। আক্ষরিক অর্থেই ছিলেন তিনি বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী, বাঙালির সত্যিকারের গর্বের ধন, মাণিক। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দের ২ মে (১৮ বৈশাখ ১৩২৮ বঙ্গাব্দ) কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। আজ  সিনেমার এ মহারাজার শততম জন্মদিন। চলচ্চিত্রের কবিকে শতবর্ষের প্রণাম। চলছে সত্যজিৎ রায়ের শতবর্ষের উদ্‌যাপন। এক বছর ধরে বিশ্বনন্দিত এ চিত্র পরিচালকের শতবর্ষ উদ্‌যাপন হবে। উল্লেখ্য যে, দুনিয়া জাগানো মহান এই বাঙালি ১৯৯২ সালের ২৩ এপ্রিল কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। ক্ষণজন্মা সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবার্ষিকীতে তাঁর অমর স্মৃতির প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি। এক বিস্ময়ের নাম- সত্যজিৎ রায়। নির্মাতা, চিত্রনাট্যকার, শিল্পনির্দেশক, সংগীত পরিচালক, লেখক- এমন অনেক পরিচয় যুক্ত হয়েছে তার জীবনে। অনবদ্য সৃষ্টি তাকে এনে দিয়েছে অমরত্ব। বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম পথিকৃৎ সত্যজিৎ রায়। আন্তর্জাতিক আঙিনায় বাংলা চলচ্চিত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি বিংশ শতাব্দীর একজন সেরা পরিচালক।  তিনি বাংলা চলচ্চিত্রে ঝড় তুলেছিলেন, বিশ্বের বুকে বাঙালির সম্মানকে আরো উচ্চতর করেছেন। জীবনের গভীর সত্যকে সাদামাটা অথচ অসাধারণ নৈপুণ্যে সেলুলয়েড বন্দী করেছেন তিনি। কৃতি অভিনেত্রী অপর্ণা সেন বলেছেন বাংলা সিনেমার অমোঘ সত্যিটি, ‘আমাদের, অর্থাৎ পরবর্তী প্রজন্মের নির্মাতাদের সত্যজিৎ-এর কাছ থেকে পালানোর কোনো পথ নেই। তাকে আমরা উত্তরাধিকারে পেয়েছি, তিনি যেমন পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।’ আর সত্যজিৎ রায়ের ছেলে চলচ্চিত্র নির্মাতা সন্দীপ রায় পিতার সাফল্যের বিষয়ে অকপটে বলেছেন, ‘বাবা প্রচুর হোমওয়ার্ক করে নিত।’ চলচ্চিত্রকার সত্যজিতের মূল্যায়ন করতে গিয়ে জাপানি চিত্রপরিচালক আকিরা কুরোসাওয়া একবার বলেছিলেন, ‘সত্যজিতের চলচ্চিত্র না দেখা আর পৃথিবীতে বাস করে চন্দ্র-সূর্য না দেখা একই কথা।’ শিল্পী হিসাবে সত্যজিৎ রায়ের অনন্যতা এখানে যে, তিনি শুধু চলচ্চিত্রকার ছিলেন না। ৩৬টি বিশ্বমানের চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র ছাড়াও চলচ্চিত্রবিষয়ক তিনটি গ্রন্থ, শঙ্কু ও ফেলুদা কাহিনি, দশটি শিশুতোষ গ্রন্থ রচনা, চারটি গ্রন্থের অনুবাদ, সন্দেশ ও অন্যান্য পত্রিকা সম্পাদনা, অসংখ্য বইয়ের প্রচ্ছদ অঙ্কন- সত্যজিতের কর্মযজ্ঞ সত্যিই বিস্ময়কর। প্রতিভার এ বহুমুখিনতাই তাকে ব্যতিক্রমী মনীষা সম্পন্ন করে তুলেছে। এ কারণে তিনি শুধু বাংলা চলচ্চিত্রেরই শ্রেষ্ঠ শিল্পী নন, বিশ্বের প্রথম সারির চলচ্চিত্রকারদেরও অন্যতম। 


২.

সত্যজিৎ রায়ের পিতামহ ছিলেন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (লেখক, চিত্রকর, ভারতীয় মুদ্রণশিল্পের পথিকৃত)। পিতার নাম সুকুমার রায় (প্রখ্যাত শিশু সাহিত্যিক, ছড়াকার), মায়ের নাম সুপ্রভা দেবী। তাদের আদি নিবাস ছিল বাংলাদেশের বর্তমান কিশোরগঞ্জ জেলার মসুয়া গ্রামে। তাঁর তিন বৎসর বয়সে পিতা সুকুমার রায় কালাজ্বরে মৃত্যু বরণ করেন। এই কারণে, মা সুপ্রভা দেবীকে প্রচণ্ড আর্থিক কষ্টের ভিতর দিয়ে সন্তান লালন পালন করতে হয়। প্রথমেই তাঁদের আয়ের উৎস ছাপাখানাটি হাতছাড়া হয়ে যায়। ফলে আর্থিক অনটনের জন্য সুপ্রভাদেবী চলে আসেন তাঁর ভাইয়ের বাড়ি। সত্যজিৎ রায় লালিত হন মামার আশ্রয়ে। দৃঢ়চেতা মায়ের তত্ত্বাবধানেই তার শৈশব-কৈশোর অতিবাহিত হয়। এখানে পরিচয় ঘটে তাঁর মামাতো বোন বিজয়া'র সাথে। পরে বিজয়াকে তিনি বিয়ে করেছিলেন। মাণিক প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন তাঁর মায়ের কাছে। ৮ বৎসর বয়সে (১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দ) বালিগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে বিদ্যালয়ের পাঠ শেষে তিনি ভর্তি হন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ প্রেসিডেন্সি কলেজে। এই কলেজে প্রথম দুই বৎসর বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশুনা করেন। শেষ বৎসরে বিষয় পাল্টে তিনি অর্থনীতিতে পড়েন। ফলে তাঁর লেখাপড়ার সময় দীর্ঘতর হয়ে উঠে। এই সময়ে ইনি পাশ্চাত্য চিরায়ত চলচ্চিত্র এবং সঙ্গীত নিয়ে এতটাই আগ্রহী হয়ে উঠেন যে, তাঁর মূল পড়াশুনায় ব্যাঘাত ঘটে। শেষ পর্যন্ত তিনি ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বিএ (সম্মান) পাশ করতে সক্ষম হন।

৩.

রবীন্দ্রনাথের সাথে রায় পরিবারের বিশেষ হৃদ্যতা ছিল। ফলে সত্যজিতের মা চেয়েছিলেন যে তাঁর ছেলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করুক। যদিও সত্যজিৎ কলকাতার মায়া ত্যাগ করে শান্তিনিকেতনে যেতে প্রথম দিকে অনাগ্রহ দেখিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মায়ের উৎসাহে ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দে শান্তিনিকেতনে যান এবং সেখানকার কলাভবনে ভর্তি হন। এই সূত্রে তিনি বিখ্যাত চিত্রশিল্পী নন্দলাল বসু এবং বিনোদ বিহারী মুখোপাধ্যায়ের কাছে শিক্ষালাভের সুযোগ পান। নিয়মানুযায়ী বিশ্বভারতীতে সত্যজিতের পাঁচ বছর পড়াশোনা করার কথা থাকলেও তার আগেই তিনি শান্তিনিকেতন ছেড়ে কলকাতায় চলে আসেন। মূলত ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় জাপানিরা বোমাবর্ষণ করে। এই সময় তিনি শান্তিনকেতন থেকে কলকাতায় ফিরে আসেন। এরপর আর শিক্ষার জন্য শান্তিনিকেতন যান নি।


৪.

শৈশবেই তিনি পেয়েছিলেন ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠার মতো পরিবেশ। পুরনো কলকাতার বৈচিত্র্য এবং সংস্কৃতি তার জীবন ও মননে গভীর রেখাপাত করেছিল। মানুষেà¦