
ভার্চুয়াল আলোচনায় গওহর রিজভী
সাজেদ ফাতেমী
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তির যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৪৭ সাল থেকেই। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে তার সফল পরিসমাপ্তি ঘটে। সেই মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তি এবং একই সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করতে পারার বিষয়টি সত্যিই দারুণ আনন্দের।
স্বাধীনতা প্রাপ্তির ৫০ বছরে বাংলাদেশের অর্জন ও চ্যালেঞ্জ বিষয়ে গত ২৮ মার্চ রোববার এক ভার্চুয়াল প্যানেল আলোচনায় গওহর রিজভী এসব কথা বলেছেন। অক্সফোর্ড পলিটিক্যাল রিভিউয়ের (ওপিআর) উদ্যোগে অনুষ্ঠানটি তাদের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেইজ থেকে যুক্তরাজ্য সময় বেলা তিনটা ও বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় সম্প্রচারিত হয়।
গওহর রিজভী বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের টেস্ট কেস ছিল। ১৯৭১-৭২ সালে দেশটি বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল। সেই অবস্থা থেকে উত্তোরণ ঘটিয়ে দেশটি বর্তমানে নিজের দেশের নাগরিকদের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা বিধান করেছে। পাশাপাশি রপ্তানিমুখী একটি দেশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। এর পেছনে বর্তমান সরকারের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে এ আলোচনা অনুষ্ঠানে গওহর রিজভী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আবুধাবীর জায়েদ ইউনিভার্সিটির সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হাবিবুল হক খন্দকার এবং ডেনমার্কের আরহুস বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাজ্যের সোয়ানসি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরাসমাস মুন্ডাস ফেলো আসিফ বিন আলী।
অধ্যাপক হাবিবুল হক খন্দকার বলেন,পৃথিবীর অল্প কিছু মানুষ একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম দেখার সুযোগ পেয়েছে। আমি তাদের একজন। একেবারে অরাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলছি, দেশের মানুষ নিজেদের অবস্থানে থেকে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে মুক্তি সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছে। তাই আমাদের আন্দোলন প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন থেকে স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী যখন নিজ দেশের জনগণের ওপর হামলা শুরু করলো, সেদিনই ছিল পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটির কবর রচনার দিন। অধ্যাপক হাবিবুল হক বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন মানে শুধু জিডিপির উন্নয়ন নয়। একজন নারী যেদিন তার কর্মস্থল থেকে নিরাপদে বাড়িতে ফিরতে পারবেন, সেদিনই হবে বাংলাদেশের প্রকৃত উন্নয়ন।
আসিফ বিন আলী বলেন, বাংলাদেশের ৫০ বছরের মধ্যে অন্যতম অর্জন হলো মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি। স্বাধীনতার সময় এ দেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৪২ বছর। এখন তা দাঁড়িয়েছে ৭২ বছরে। এই ৩০ বছর অতিরিক্ত বেঁচে থাকাটাই