English
ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

প্রকাশঃ ২০২১-০১-০৯ ০৫:২৯:১৩
আপডেটঃ ২০২৬-১০-১৮ ২১:০১:১৬


মফস্বলের ডায়েরি: ভোট দেবেন কাকে

মফস্বলের ডায়েরি: ভোট দেবেন কাকে


বিজয় মজুমদার

 

ভাই, কাকে ভোট দেবেন? প্রশ্নটা ছিল আমার এক ছোট ভাইয়ের।

প্রশ্নটা আমাকে নিদারুণ ভাবিয়ে তুলেছে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়া আমার কর্তব্য। সারা দেশের মতো দিনাজপুরে ঘনিয়ে আসছে পৌর নির্বাচন। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে একদফা নির্বাচন হয়ে গেছে। ভোট যে ক্রমশ এগিয়ে আসছে সেটা টের পাচ্ছি নানান আওয়াজে। দুপুরের ভাতঘুম ভাঙ্গিয়ে দিয়ে যাওয়া নানাবিধ স্লোগান জানিয়ে দিচ্ছে, আমরা ঘুমিয়ে থাকলেও নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা নির্ঘুম। দৃষ্টিনন্দন পোস্টারে ছেয়ে গেছে আমাদের এই মফস্বল শহর।  

ভোটে অংশ না নিলেও ভোটের উত্তাপ প্রথম টের পেয়েছিলাম এই পৌর নির্বাচনেই । তখন হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের সময়। স্কুলের ছাত্র। মফস্বলে নির্বাচন। সেই নির্বাচনে আমাদের পাড়ার সিনিয়ররা একত্রিত হয়ে রীতিমতো মিটিং করে প্রার্থী চূড়ান্ত করলেন। তিনি অবশ্য আমাদের পাড়ার নন। কারণ আমাদের পাড়াটা বেশ ছোট । বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থান যেমন, দিনাজপুরের মানচিত্রে আমাদের পাড়ার অবস্থান ঠিক সে রকম। নামটাও বেশ কৌতূহল তৈরি করে। যখন কাউকে বলতাম দিনাজপুরের অমুক পাড়ায় আমার বাড়ি; তখন সেই ব্যক্তিটি হেসে বলতেন, ‘তোমাদের বুঝি খুব ফুটানী!’ কারণ আমাদের পাড়ার নাম ছিল ফুটানীপাড়া। 

আকারে অতি ক্ষুদ্র বলে পাড়া থেকে নির্বাচনে কেউ দাঁড়াতেন না। আর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থিতা দিল্লি এখনো অনেক দূরের মতো বিষয় ছিল। এর কারণ আমাদের পাড়ায় ১২টি বাড়ির ২৪টি ভোট ! এই পরিমাণ ভোটার নির্বাচনী বৈতরণী পার করা তো দূরে থাক জামানত বায়েজাপ্ত ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। আর সে ক্ষেত্রে বিকল্প প্রার্থীকে সমর্থন যোগাতো এই পাড়া। সেবার নিকটবর্তী পাড়ার প্রার্থীকেই নিজেদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিলেন পাড়ার মুরুব্বিরা।

নিয়ম অনুসারে আমাদের প্রার্থীও একদিন ভোট ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে হাজির হলেন পাড়ায়। আমরা ছোটরা, মার্কা কী ভাই মার্কা কী? বলে বেশ কিছুক্ষণ স্লোগান দিলাম। নির্বাচনে দাঁড়ানো বেশির ভাগ প্রার্থী অবশ্য আমাদের পাড়ায় ভোট চাইতে এলেন । যারাই জনসংযোগ-এর জন্য পাড়ায় আসতেন আমরা তাদেরই মার্কা ধরে স্লোগান দিতাম। স্লোগান দেওয়ার এই খেলায়  একদিন আমরা একটা দারুণ চমক পেলাম। কমিশনার  পদপ্রার্থী একজন আমাদের দলনেতার হাতে একশো টাকার একটা নোট ধরিয়ে দিয়েছিলেন। আর সে টাকা পাওয়া মাত্র আমার কাচারীতে গিয়ে ফারুকদà§