
নাহিদ আহসান
ঘুড়িরা উড়ছে
‘আগা খান’ ট্রেনিংয়ের তৃতীয় দিনে ট্রেইনার ফাতেমা আপা আমাদের ভিন্ন একটি কক্ষে নিয়ে গেলেন। সেখান গিয়ে দেখি রঙিন কাগজ, কাঠি, বেতের কাটা অংশ, পুতি, জরি, গ্লি¬টার সব জড় করা। তিনি বললেন আমাদেরকে একটি পরীক্ষা দিতে হবে। আমরা কী রকম লার্নার বা শিক্ষার্থী তিনি এতে বুঝতে পারবেন।
তিনি প্রথমে ঘুড়ি বানাবেন কিন্তু মুখে কিছু বলবেন না। তাকে দেখে কতজন ঘুড়ি বানাতে পারে তাই তিনি পরীক্ষা করবেন। দ্বিতীয়বার তিনি মুখেও বলবেন, হাতে কলমে করেও দেখাবেন। যারা প্রথমবার পারে নি তারা নিশ্চয়ই পরের বার পারবে।
কিন্তু দুঃখের বিষয় তিনি এতো দ্রুত বানালেন আমি কিছুই বুঝলাম না। কিন্তু অনেকেই দেখি এর মধ্যে বানিয়ে ফেলেছে। তাজ্জব ব্যাপার। পরের বার বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করলাম আমার ঘুড়ি বানানোর মাঝ পথে সবাই বানিয়ে জমা দিয়েছে। সময়ও শেষ।
তিনি যারা জমা দিয়েছে তাদেরকে ছুটি দিয়ে দিলেন।
আমাদের কাছ থেকে পুরনো ম্যাটেরিয়াল জমা নিয়ে নতুন সব কিছু দিলেন। বললেন, তোমরা পাশ করতে পার নি।
এই অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বসে রইলাম।
তিনি আরও বললেন, ঘুড়ি বানিয়ে জমা দিলে তবেই তোমরা ছুটি পাবে।
আমিসহ পাঁচজন নত মুখে বসে চেষ্টা চালিয়ে গেলাম। শেষ পর্যন্ত আমার ঘুড়ি যা দাঁড়াল তা দেখে আমি ভয় পেয়ে গেলাম। কিম্ভুতকিমাকার বেগুনি রঙের এক বিশাল মাছ যার গলায় লাল পুতির মালা ও লেজে নুপুর। যাই হোক জমা দেয়া নিয়ে কথা। কে আর দেখতে যাচ্ছে!
কিন্তু পরের দিন শুনলাম, প্রদর্শনী হবে। সবার নাম এবং ছবিও থাকবে সাথে।
এই কথা শুনে আমারতো খুশি হওয়ার কথা। প্রদর্শনীতে যাচ্ছে শিল্পকর্ম। কিন্তু আমি চোখে সর্ষেফুল দেখতে লাগলাম।
যেখানে বাঘের ভয়, সেখানে সন্ধ্যা হয়।
অল্প শোকে কাতর, অধিক শোকে পাথর।
সব বাগধারা মনে পড়তে লাগলো।
যাই হোক শুধু আমরা পঁচিশ জন ট্রেইনিই নই। অনেকেই এলেন হলরুমে। ম্যাডাম বক্তব্য শুরু করলেন। সবার ঘুড়ি দেয়ালে বোর্ডে। কয়েকজনের জনের ঘুড়ি এক রকম। যেন ইউনিফর্ম পরে আছে সবাই।
আমাদের ঘুড়িগুলো আলাদা। বেশি রঙিন। ম্যাডাম বললেন,যারা প্রথমবারে পাশ করেছ তারা তুখোড় মেধাবী। পলকে সব কিছু বুঝে ফেল। যারা দ্বিতীয়বারে পাশ করেছ তারাও মেধাবী। শুধু তাদেরকে একটু বুঝিয়ে বলতে হয়। আর যারা ফেল করেছ, তারা যে মেধাহীন তা নয়। তবে তাদের মেধার ধরন আলাদা। প্রচলিত নিয়ম কানুন বুঝে উঠতে তাদের সময় লাগে। তাই তারা অকৃতকার্য হয় অনেক ক্ষেত্রে। তবে তারা নতুন নিয়ম কানুন তৈরি করতে পারে। ওরা হচ্ছে সৃজনশীল।
সবাই হাততালি দিল। এতোক্ষণে আমাদের মুখে হাসি ফুটে উঠল।
আজকাল প্রায়ই শুনি, দৃষ্টিভঙ্গি বদলান জীবন বদলে যাবে।
তবে ম্যাডামের কথা শুনে আক্ষরিক অর্থেই আমার দৃষ্টিভঙ্গি বদলালো। কেন না এতোক্ষণ ভীত দৃষ্টিতে সবার দিকে তাকিয়েছিলাম, এখন ভালো ভাবে তাকালাম। হায় মানুষের কথার ক্ষমতা!
আমার আত্মবিশ্বাস ফিরে এলো।
আকাশে শান্তির নীড়
একবার ঈদে ঢাকায় ফিরছিলাম। বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য দু’ঘণ্টা এয়ারপোর্টে দেরি হলো। প্লে¬নের ভেতরেও অনেকক্ষণ বসে থাকতে হলো।
সত্তর ঊর্ধ্ব বয়সের একজন ভদ্রলোক খুব চিন্তিত হয়ে পড়লেন, তিনি ঠিক মতো দেশে ফিরতে পারবেন তো? নাকি মাঝপথে বিমান ভেঙে পড়বে? এইসব ভেবে।
বিমানবালা ধমক দিচ্ছিলেন,চাচা, আপনি চুপ করবেন? বললাম তো কিছু হবে না।
পাশে বসা এক যুবক বলছিল, আমাদের পাইলটরা এক্সপার্ট। ভেঙে পড়ার আগে পাশের ধানক্ষেতে সুন্দর মতো নামিয়ে দেবে। একটু চোট লাগতে পারে। তবে হাত পা