English
ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

প্রকাশঃ ২০২০-০৬-১৫ ০৯:০৯:৫৭
আপডেটঃ ২০২৬-১০-৩০ ০৩:০৭:৫৭


এয়ারপোর্ট একটি দেশের ড্রইংরুম

এয়ারপোর্ট একটি দেশের ড্রইংরুম

বাংলাদেশের অ্যাভিয়েশন সেক্টরে দুই দশকেরও বেশি সময় নিয়ে কাজ করছেন মো. কামরুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের পাবলিক রিলেশনস্ বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত আছেন। সম্প্রতি তিনি কথা বলেন বিপরীত স্রোতের সম্পাদক মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন অ্যাভিয়েশন সেক্টরে তার দীর্ঘ কাজের অভিজ্ঞতা, সম্ভাবনা এবং সংকটের বিষয়গুলো। জানিয়েছেন বর্তমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও যতোটা সম্ভব ফ্লাইট এবং কার্গো চালু রেখে কার্যক্রম সচল রাখার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার বিষয়টি। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন কাঠমান্ডুতে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের দুঃখজনক দুর্ঘটনার পরবর্তী কঠিন সময়ে তার কর্তব্যবোধের কথা। শুধু অ্যাভিয়েশন জগতে নয়, যে কোনো ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে এই অভিজ্ঞতা উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অ্যাভিয়েশন জগত সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যাবে তার এই সাক্ষাৎকারে।

 

ক্যারিয়ার ও প্রস্তুতি

আমার বাবা প্রয়াত সাদত আলী সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি অফ বাংলাদেশে কাজ করতেন। ফলে পারিবারিক ভাবে ছেলেবেলা থেকেই বিমান বা এয়ারপোর্ট দেখার সুযোগ আমার হয়েছে। আমরা সাত ভাই বোন। এর মধ্যে বর্তমানে এক বোন সিভিল অ্যাভিয়েশনে এবং ছোট ভাই বিমান বাহিনীতে কর্মরত আছে। আমার স্ত্রী কামরুন নাহার খান রুমি একজন শিক্ষক। আমাদের দুই মেয়ে আনিকা তাহসিন রাইসা ও রামিসা তাহসিন হৃদিশা। 



আজকের আমি হয়ে ওঠার পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন আমার মা প্রয়াত সামসুন নাহার বেগম। তিনি ছিলেন একজন গৃহিনী, সচেতন মা। আমি পড়াশোনা করেছি সিভিল এভিয়েশন হাই স্কুল, নটরডেম কলেজ এবং সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে। ঘটনাচক্রে আমি আমার স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের ছাত্র। শুধু তাই নয়, চাকরি ক্ষেত্রে কোথাও কোথাও প্রতিষ্ঠানের সূচনা থেকেই কাজ করার সুযোগ আমার হয়েছে। এমন কি ঢাকার কুর্মিটোলায় নতুন বিমানবন্দর যেদিন উদ্ধোধন হয় তখনও বাবার সঙ্গে সেই অনুষ্ঠানে আমি ছিলাম। কাছ থেকে বিমান দেখার অভিজ্ঞতা অবচেতন ভাবে আমার মনে কাজ করেছে।

ছাত্রাবস্থায় বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক এবং চতুর্থ সংসদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। ফলে সবার সঙ্গে মেশা এবং সবাইকে নিয়ে কাজ করার একটা প্রবণতা সব সময়ই কাজ করেছে। এ কারণে পাবলিক রিলেশনে কাজ করার আগ্রহ আমার শুরু থেকেই। ১৯৯৮ সালে জিএমজি এয়ারলাইনসে যোগ দেয়ার মাধ্যমে আমার ক্যারিয়ার শুরু হয়। আমি ছিলাম জিএমজির প্রথম দিককার একজন কর্মী। সার্বিক ভাবে একটি আন্তর্জাতিক মানের এয়ারলাইনস হিসেবে জিএমজি নিজেদের প্রতিষ্ঠা করে। সাত বছর সেখানে কাজ করি। জিএমজির পর যোগ দেই ইউনাইটেড এয়ারে। ইউনাইটেড এয়ার পরিকল্পিত ভাবে দেশে এবং বিদেশে ফ্লাইট পরিচালনা করতে থাকে। ঢাকা টু লন্ডন বা সিলেট টু লন্ডন ফ্লাইট ছিল ইউনাইটেডে। এক সঙ্গে ঊনিশটি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করেছে ইউনাইটেড এয়ার। দশ বছর চলার পর ইউনাইটেডও বন্ধ হয়ে যায়। একদম শুরুর সময়ের কর্মী ছিলাম আমি। মনে আছে, ইউনাইটেডের অপারেশনের প্রথম আটটি ফ্লাইটে যাত্রী হিসাবে আমি ভ্রমণ করেছি সুযোগ সুবিধা বিবেচনা করার জন্য। নেপালে ইউনাইটেড এয়ারের কান্ট্রি ম্যানেজার হিসেবে তিন মাস কাজ করি। পরবর্তীতে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের শুরুর বছর খানেক পর আমি এখানে যোগ দিই।

অ্যাভিয়েশন ক্যারিয়ারের পাশাপাশি আমি দৈনিক যায়যায়দিন এবং পিআর এজেন্সি উইন্ডমিলে কাজ করি। এই দু’টো প্রতিষ্ঠানে কাজ করার ফলে মিডিয়া ও এজেন্সিগুলো কীভাবে কাজ করে সে ধারণা পেয়েছি। যা আমার কাজে খুব সাহায্য করেছে।


বর্তমান ব্যস্ততা

ডমেস্টিক থেকে ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইট পরিচালনায় যাওয়া মানে পুকুর থেকে নদীতে নয়, সমুদ্রে যাওয়া। কারণ সেখানে প্রতিযোগিতা করতে হয় কাতার, ওমান, ইনডিয়া, মালয়শিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড চীনসহ পৃথিবীর সবদেশের এয়ারলাইনের সঙ্গে। প্রতিটি সেক্টরে ইনডিভিজুয়াল কমপিটিশন চলে। ইউএস-বাংলায় যোগ দেয়ার পর ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইট শুরু করার যতো রকম আনুষ্ঠানিকতা আছে তাতে আমি অংশ নিই। যেমন লোকাল ক্যারিয়ারের সঙ্গে অ্যাগ্রিমেন্ট, এ্যাম্বাসির সঙ্গে যোগাযোগ ইত্যাদি। নেপাল অ্যাভিয়েশনের সঙ্গে তিন মাসের মধ্যেই সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেছিলাম। আবার অনেকেই জানেন যে চায়নার অ্যাভিয়েশন অনেক কঠিন। অনেকেই চায়নায় ফ্লাইট পরিচালনা করতে চান