English
ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২

প্রকাশঃ ২০২০-০৬-১৫ ০১:১৫:৫৫
আপডেটঃ ২০২৬-০১-১৩ ১১:১৬:৫৪


সামাজিক অনাচার ও নারী নির্যাতন

সামাজিক অনাচার ও নারী নির্যাতন

দেশে নারী নির্যাতনের মাত্রা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে এক ধরনের বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দেখা যাচ্ছে যা উদ্বেগজনক। বৃদ্ধা থেকে শিশু কেউই এই নির্যাতন থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নিজ বাড়ি সবখানেই এই অনাচার ছড়িয়ে পড়েছে। 

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে ৩ হাজার ৯১৮ নারী ও কন্যা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে মোট ৯৪২ এবং গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৮২ জন, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৬৩ জনকে। শুধু ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে ৫২ জন ধর্ষণ এবং ২২ জন গণধর্ষণের শিকার হন। ২০১৮ সালের বাংলাদেশের শিশু পরিস্থিতির একটি চিত্র তৈরি করে বেসরকারি সংস্থা ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’। তারা জানায়, ২০১৮ সালে সংবাদপত্রে শিশুদের নিয়ে ১,০৩৭টি ইতিবাচক সংবাদের বিপরীতে নেতিবাচক সংবাদ ছিল ২,৯৭৩টি। প্রকাশিত খবরগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায় শিশুরা প্রতিবেশী, উত্যক্তকারী, বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন বা অপরিচিত ব্যক্তির দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে উত্যক্তকারী দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১১০ জন আর প্রতিবেশীর দ্বারা ১০২ জন। গণধর্ষণের শিকার ৩৭ জন, শিক্ষক দ্বারা ১৭ জন শিশু। তবে অনেকে মনে করেন, বাস্তবে এর সংখ্যা অনেক বেশি। হুমকি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সামাজিক লজ্জাসহ নানা কারণে অনেক খবরই সংবাদপত্রে স্থান পায় না। 

নারী শুধু ধর্ষক কিংবা বাইরের নির্যাতকের কবলে নেই, ঘরের ভেতরও কাছের মানুষের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে। যা সে অধিকাংশ সময়েই প্রকাশ করতে পারে না। কিন্তু বিষয়টি বহু ক্ষেত্রেই একটি শিশুকে তাড়া করে বেড়ায়। এমন কি শিশুটি যখন পূর্ণ বয়স্ক নারীতে পরিণত হয় তখনো তার মনের ভেতর এই এই ভয়ের অভিজ্ঞতা রয়ে যায়। তাদের বিয়ে, সন্তান গ্রহণ থেকে শুরু করে বহু ক্ষেত্রেই অবচেতন ভাবে এই নেতিবাচক শক্তি বিরূপ প্রভাব ফেলে।
পারিবারিক মূল্যবোধ ও বন্ধন ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ায় এই অনাচার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রতিকারে প্রয়োজন সচেতনতা ও সতর্কতা। প্রতিটি পরিবারেই শিশুর বিষয়ে শুরু থেকেই সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তাদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা দেয়াও জরুরি। বাইরে থেকে বা গৃহকর্মীর কাছ থেকে ভুল শিক্ষা যেন তারা না পায় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। সকলের সমবেত প্রচেষ্টায় একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। 

একই সঙ্গে সমাজে নারী নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আমরা দাবি করছি। আমরা মনে করি, প্রমাণিত নারী নির্যাতনকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে। আইনের প্রয়োগ কঠোর হলে অনেক অপরাধ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আমরা যদি সিঙ্গাপুরের দিকে তাকাই তাহলে দেখবো সেখানে অনেক সামাজিক অপরাধ প্রায় শূন্যের কোঠায়। সেখানে অর্থদ- থেকে শুরু করে জেলদ-ের পাশাপাশি রয়েছে প্রকাশ্য বেত্রদ-। যা অনেক অপরাধ থেকে সমাজকে রক্ষা করছে। মালয়শিয়াতেও এমন বিচার ব্যবস্থা আছে। আমরা দেশের প্রচলিত আইনেই বিচার কার্যকর চাই, তবে সেই বিচার পেতে যেন বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে না হয়।




মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান

সম্পাদক, বিপরীত স্রোত। সাংবাদিক ও গবেষক। অ্যাসোসিয়েট ফেলো, রয়াল হিস্টোরিকাল সোসাইটি।