English
ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রকাশঃ ২০২৬-১০-১৩ ১৪:২১:৪৩
আপডেটঃ ২০২৬-১০-১৪ ০৪:১১:৩৮


কবি গোলাম মোস্তফা: প্রয়াণ দিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি

কবি গোলাম মোস্তফা: প্রয়াণ দিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি



আবদুল্লাহ আল মোহন

 

১.

কবি গোলাম মোস্তফাকে বলা হয় ইসলামী রেনেসাঁর কবি। অর্থাৎ তিনি ছিলেন মুসলিম জাগরণের কবি। কবিতা, গান, গজল ও নানা প্রবন্ধের মধ্য দিয়ে গোলাম মোস্তফা যেমন মুসলমানদের গৌরবময় ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, সমস্যা পীড়িত মুসলমানদের জন্য তেমন উত্তরণের পথও দেখিয়ে দিয়েছেন। সাহিত্য বোদ্ধাদের মতে, একদিকে তিনি ছিলেন যেমন খাঁটি দেশপ্রেমিক, নির্ভেজাল বাঙালি, অন্যদিকে ছিলেন সার্বিক অর্থেই একজন ঈমানদার মুসলমান। তবে তার পাকিস্তানের প্রতি প্রবল অনুরাগ ও প্রীতিকে তীব্র সমালোচনাও করে থাকেন অনেকে।

কবি গোলাম মোস্তফা ১৮৯৭ সালের ২১ ডিসেম্বর (৭ পৌষ, ১৩০২ বঙ্গাব্দ) জন্মগ্রহণ করেন। উল্লেখ্য যে, তিনি ১৯৬৪ সালের ১৩ অক্টোবর ইন্তেকাল করেন। বিনম্র শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি মুসলিম জাগরণের কবি গোলাম মোস্তফাকে।

 

২.

পাঠ্যক্রমে থাকার কারণে আমরা সবাই কবির অনেক কবিতাই পড়েছি ছাত্র জীবনে। তাই কবির সৃজনীশিল্প সত্তার সাথে আমার মতো সবারই পরিচয় ঘটে শৈশবেই। ফলে তার মতোন কবি, শিল্পীদের প্রতি বিশেষ আগ্রহ জন্মে স্বাভাবিক কারণেই। এই প্রীতির টানেই ১৯৯৪ সালে সুযোগ পেয়েই চলে গিয়েছিলাম কবি গোলাম মোস্তফার জন্মস্থান শৈলকুপা থানার মনোহরপুর গ্রামে। উল্লেখ করা অপ্রাসঙ্গিক হবে না, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে কবি পরিবারের সাথেও আমার গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

কবিকে নিয়ে লিখতে বসে আজ এই কবির কবিতাগুলোর পাশাপাশি মনে পড়ছে তাঁর প্রিয় নাতনী আমার সুপ্রিয় স্বজন মঞ্জু আপার কথা। বিশিষ্ট শিশু সাহিত্যিক ফাহমদিা মঞ্জু মজিদ নামেই তিনি আমাদের সাহিত্য জগতের সকলের মাঝে পরিচিত। নানা বিখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফা সম্পর্কে এত স্মৃতিকথা শুনেছি মঞ্জু আপার কাছে, আজ সে সবের অনেক কথাও মনে পড়ছে। মঞ্জু আপা বর্তমানে লন্ডনে বসবাস করছেন, কিন্তু তাঁর মন পড়ে থাকে

বাংলাদেশে। আমাদের বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট কবি, লেখক হিসেবে কবির অমর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।

 

৩.

কবি গোলাম মোস্তফা ছিলেন বিখ্যাত কবি, সাহিত্যিক ও শিক্ষক। তিনি বৃহত্তর যশোর

জেলার তৎকালীন ঝিনাইদহ মহকুমার (বর্তমান জেলা) শৈলকুপা থানার মনোহরপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত কাজী পরিবারে ১৮৯৭ সালের ২১ ডিসেম্বর (৭ পৌষ, ১৩০২ বঙ্গাব্দ) জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন কাজী গোলাম রব্বানী। মাতার নাম মোসাম্মাৎ শরীফা খাতুন। তার দাদা কাজী গোলাম সারওয়ার। গোলাম মোস্তফার পূর্বপুরুষ ছিলেন মুগল যুগে বিচার বিভাগের পদস্থ কর্মকর্তা। তাদের উপাধি ছিল কাজী। সেই সূত্রে গোলাম মোস্তফার পিতা, পিতামহ কাজী উপাধি গ্রহণ করেন। কিন্তু গোলাম মোস্তফা নিজে কোন অর্জিত সম্মান বা প্রচলিত কৌলিন্য প্রথার যৌক্তিকতা খুঁজে না পাওয়ায় কাজী উপাধি গ্রহণ করেননি। বহুকাল পূর্ব থেকেই মনোহর পুরের কাজী পরিবার ছিল আরবি, ফারসি ও বাংলা  ভাষাতে সুপণ্ডিত।

 

৪.

কবি গোলাম মোস্তফার জন্ম সাল নিয়ে একটু কথা আছে। তিনি নিজেই “আমার জীবন স্মৃতি”তে লিখেছেন, ‘১৮৯৭ খৃস্টাব্দে আমার জন্ম। কিন্তু আমার মনে আছে শৈলকুপা হাই স্কুলে ভর্তি হবার সময় আমার আব্বা আমার বয়স প্রায় দুই বছর কমিয়ে দিয়েছিলেন। কাজেই প্রকৃত জন্ম হয়েছিলো সম্ভবত ১৮৯৫ খৃস্টাব্দে। তবে এটা ঠিক যে, বাংলা তারিখ ছিল ১৩০৪ সালের ৭ই পৌষ রবিবার।’ কবির স্মৃতিকথা থেকেই আমরা কবির সঠিক জন্ম সন, বাংলা মাসের হিসেব এবং দিনের নাম রবিবার পাই। কিন্তু ইংরেজি মাসের হিসেবটা উহ্য থেকে যায়। তাঁর সঠিক জন্ম তারিখটা পরিবার থেকে সংরক্ষণ করা হয়নি। কবির পিতার দুই স্ত্রীর মধ্যে প্রথম স্ত্রীর গর্ভে এক কন্যা এবং কাজী গোলাম মোস্তফা ও কাজী গোলাম কাওসার নামে দুই পুত্রের জন্ম হয়। দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভে তিনটি সন্তান, যথাক্রমে- কাজী গোলাম কুদ্দুস, মাজু এবং খুকি। কাজী গোলাম মোস্তফাই আমাদের প্রিয় কবি গোলাম মোস্তফা। এই পরিবারের আদি নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার পাংশা থানার নিবেকৃষ্ণপুর গ্রামে। কবির মাতা ছিলেন একজন স্বভাব কবি। স্বভাব কবিত্ব ব্যক্তি মায়ের সাথে থেকে কবির মধ্যেও কবিত্ব ভাব বৃদ্ধি পেতে থাকে।

 

৫.

মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান ছিলেন গোলাম মোস্তফা। তার লেখাপড়ায় হাতেখড়ি হয় বাবার কাছে। শিক্ষা জীবনের সূচনা হয় চার বছর বয়সে নিজগৃহে ও পার্শ্ববর্তী দামুকদিয়া গ্রামের পাঠশালায়। কিছুদিন পরে তিনি ফাজিলপুর গ্রামের পাঠশালাতে ভর্তি হন। দু’বছর এই পাঠশালায় বিদ্যা অর্জনের পরে তিনি ভর্তি হলেন শৈলকূপা উচ্চ ইংরেজী স্কুলে।

শৈলকুপা হাইস্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাস করেন ১৯১৪ সালে। ১৯১৬ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন খুলনার দৌলতপুর বি.এল কলেজ থেকে। কলকাতা