বিপরীত স্রোত প্রতিবেদন
কোভিড-১৯ বা সহজ পরিচয়ে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে পরিচিতি জীবন অনেক ক্ষেত্রেই বদলে গিয়েছে। শিক্ষাঙ্গনও এর বাইরে নয়। সরকার পরিষ্কার ভাবেই জানিয়েছে করোনার প্রভাব না
কমা পর্যন্ত কোনো স্কুল কলেজ বা
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে না। যেহেতু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ফিজিকাল ক্লাস করা এখন সম্ভব হচ্ছে না
তাই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়েছে। এখন অনলাইন ক্লাস একটি পরিচিত শব্দ হয়ে উঠেছে।
প্রথমে এই ব্যবস্থা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শুরু হলেও এখন তা প্লে গ্রুপ পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে। তবে অনলাইনে ক্লাসের জন্য প্রযুক্তিগত এবং সেটা নিশ্চিত করতে অর্থনৈতিক সক্ষমতা প্রয়োজন। যার ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চল বা আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়াদের পক্ষে অনলাইন ক্লাস এখনো স্বপ্নের বিষয়। তাই সারা দেশ জুড়ে যে
শিক্ষা কার্যক্রম এখন চলছে তাকে সার্বজনীন বলা না
গেলেও অনেক ক্ষেত্রে ছাত্র শিক্ষকদের ব্যস্ত রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অনেকে কিছু ক্ষেত্রে ভবিষ্যতেও অনলাইন ক্লাস চালু রাখার কখা বলছেন।

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
এ
বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে শিক্ষাবিদ ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বিপরীত স্রোতকে বলেন,‘আমরা জানি যে, এটা একটা সাময়িক ব্যাপার। তাই এটাকে আমরা ততোটা গুরুত্ব দিয়ে নিচ্ছি না। যদি বলা হতো এভাবেই সব সময় ক্লাস করতে হবে তাহলে আমরা শ্বাসরূদ্ধকর অবস্থার মধ্যে পড়তাম। যেহেতু এখন আর কোনো পথ
নাই, সেদিক চিন্তা করলে আমরা এক
ধরনের রিলিফ ফিল করছি। আনন্দ লাগছে, ভালো লাগছে। যন্ত্রের অনেক দোষত্রুটি আছে ঠিকই, আবার যন্ত্রের কিছু সুবিধাও আছে। এটা একটা ভালো বিকল্প। ভবিষ্যতে অফিস মিটিং, কনফারেন্স বা এই ধরনের বিষয়গুলো এই পদ্ধতিতে হতে পারে।
তবে শিক্ষাক্ষেত্রে এই পদ্ধতি স্থায়ী ভাবে রাখা যাবে না। স্কুল কলেজ কোনো কোচিং সেন্টার বা প্রাইভেট টিউটরের বাড়ি নয়। এটা একটা বন্ধুত্বের জায়গা, উষ্ণতার জায়গা, আনন্দের জায়গা, স্বপ্নের জায়গা, খেলার জায়গা, অবকাশের জায়গা।
সেটাকে কখনো যন্ত্রের মধ্যে ঢোকানো উচিত নয়।’
অনলাইন ক্লাসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ইন্টারনেট প্রাপ্তির বিষয়টি। আর
দুটোর জন্যই প্রয়োজন অর্থনৈতিক সক্ষমতা। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বা ইংরেজি মিডিয়াম স্কুল কলেজগুলো এক্ষেত্রে এগিয়ে গেলেও দেশের বড় অংশই এর আওতায় আসেনি। অথচ বাংলাদেশে দূরশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে বহু আগেই।
এ বিষয়ে ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে বাংলাপিডিয়া থেকে জানা যায়, "১৯৫৭ সালে
শিক্ষা পুনর্গঠন কমিশন
পরীক্ষামূলক একটি
দূরশিক্ষণ স্কুল
স্থাপনের সুপারিশ
করে যার দ্বারা নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে যেতে
পারেনা অথচ শিক্ষালাভে আগ্রহী
এমন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা
দেওয়া যায়। এরপর থেকে বিভিন্ন দূরশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের
সৃষ্টি হতে থাকে। শিক্ষা অধিদপ্তর দূরশিক্ষণের
ভিত্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যে
২০০ রেডিও সেট বিতরণ করে। ১৯৬২ সালে প্রথম একটি অডিও-ভিডিও কোষ এবং পরবর্তীকালে অডিও-ভিডিও
শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন
করা হয়। ১৯৮০ সালে পাইলট প্রকল্প হিসেবে একটি বিদ্যালয় সম্প্রচার
অনুষ্ঠান চালু
করা হয়। ১৯৮৩ সালে এ দুটি দূরশিক্ষণ শিক্ষাকেন্দ্রকে
একীভূত করে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট
অফ এডুকেশন মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গঠন
করা হয়। ১৯৮৫ সালে স্থাপিত হয় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট