English
ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

প্রকাশঃ ২০২০-০৭-২৯ ১৭:১৪:১৯
আপডেটঃ ২০২৬-১০-২৯ ২২:২৮:২৫


পূর্বাচল: এক যে হবে শহর

পূর্বাচল: এক যে হবে শহর

বিপরীত স্রোত বিশেষ প্রতিবেদন

বাংলাদেশে একটি পরিকল্পিত বড় আধুনিক শহর গড়ে তোলার চিন্তা বহুদিনের। ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট বা ডিআইটি ৩০ এপ্রিল ১৯৮৭ সাল থেকে পরিচিত হয় ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ (রাজউক) নামে। নতুন উদ্যোগে কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর একটি পরিপূর্ণ শহর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের দিকে বর্তমান পূর্বাচলের এলাকাটিকে নিয়ে নগরায়ণ করা যায় কিনা সে বিষয়ে একটি সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। স্থপতি ও পরবর্তীতে মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের আর্কিটেকচারাল ফার্ম ‘প্রকল্প উপদেষ্টা’ এই কাজটি করে। প্রথমে এই প্রকল্প ৩৬,০০০ একর জমি নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়।


প্রকল্পটিতে নানা বাস্তবতা ও প্রতিকূলতার পর ৬,২২৭.৩৬ একর জমি পাওয়া যায়। যা প্রস্তাবিত জমির ছয় ভাগের এক ভাগ। ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত প্রকল্পটিতে প্রাপ্ত জমির মধ্যে ঢাকা জেলার খিলক্ষেত থানার ১৫০ একর, গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানার ১৫০০ একর এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার ৪৫৭৭.৩৬ একর নিয়ে মোট ৬২২৭.৩৬ একর অধিগ্রহণযোগ্য জমি নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ১৯৯৫ সালে প্রকল্প হিসেবে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলেও বাস্তবে জমি অধিগ্রহণের সময় নানা প্রতিকূলতার কারণে দীর্ঘদিন কাজ শুরু করা যায়নি। প্রকল্পটি সরকার অনুমোদন করেছে ২০০৫ সালে। তখন শুরুতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের অর্ন্তভুক্ত ৪৫৭৭.৩৬ একর জমি নিয়ে কাজ শুরু হয়। নারায়ণগঞ্জের সকল জটিলতা কাটাতে ২০১১ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যায়। গাজীপুর অংশের বাকি জমি অধিগ্রহণ করা হয় ২০১২-১৩ সালের দিকে। গাজীপুরে স্থানীয়দের সঙ্গে দ্বন্দ্ব কাজের গতি কমিয়ে দেয়। এ পর্যন্ত চার দফায় পূর্বাচলের পরিকল্পনা পরিবর্তিত কিংবা বর্ধিত হয়েছে। 

সর্বশেষ লে আউট নকশায় প্রকল্পটি ৩০টি সেক্টরে বিভক্ত। আবাসিক প্লট হিসেবে ৩৮.৬০% , প্রশাসনিক, ইউটিলিটি ও অন্যান্য ১৬.৪৫%, লেক বা খালের জন্য ৭.৬০%, সড়ক ও ফুটপাথের জন্য ২৬.১৫% এবং ক্রীড়া, পার্ক ও বনায়ন ইত্যাদির জন্য ১১.২০% জমির বরাদ্দ রয়েছে। উক্ত প্রকল্পটিতে ২৫০১৬টি আবাসিক প্লট রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৩৫৬৫টি প্লট রয়েছে, যার মধ্যে ১৭টি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক রয়েছে (উক্ত ব্লকগুলোতে ৬০,০০০টি তৈরি অ্যাপার্টমেন্ট হস্তান্তর করা হবে), ৪৭২টি প্রশাসনিক প্লট, ১০৩৩টি বাণিজ্যিক প্লট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আরবান ফ্যাসিলিটির জন্য ২০৪৩টি প্লট অর্ন্তভুক্ত। কুড়িল-পূর্বাচল ১৩.৩৩ কি.মি. দীর্ঘ ৩০০ ফিট রাস্তার মাধ্যমে বর্তমানে প্রকল্প এলাকায় যাতায়াত ব্যবস্থা চালু রয়েছে। উক্ত প্রকল্পে মেট্রোরেল সংযুক্ত হলে যাতায়াত ব্যবস্থা আরো সহজতর হবে।

এই প্রকল্প শুরু হওয়ার পর পঁচিশ বছর পার হয়ে গিয়েছে। প্রকল্পের প্রধানের দায়িত্বে এই পর্যন্ত দশজন প্রজেক্ট ডিরেক্টর এসেছেন। ফলে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, এই শহর কি কখনো বাস্তবে হবে, নাকি রূপকথা হয়েই থাকবে?

 

একজন উজ্জ্বল মল্লিক ও তার প্রচেষ্টা


ইঞ্জিনিয়ার উজ্জ্বল মল্লিক

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প একটি ধীর ও অনগ্রসর প্রকল্প হিসেবেই বিবেচিত হওয়া শুরু হলো। এক পর্যায়ে এর দশম প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান ইঞ্জিনিয়ার উজ্জ্বল মল্লিক। কর্তৃপক্ষ কয়েকটি কারণে তাকে এই দায়িত্ব দেয়। তিনি দীর্ঘদিন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালকসহ নানা পদে কাজ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা তাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখবে। কেননা এর আগে যারা প্রকল্প পরিচালক হয়েছেন তাদের বড় অংশই এসেছেন রাজউকের বাইরে থেকে। এছাড়া আলোচিত র‌্যাংগস ভবন ভাঙাসহ বিভিন্ন কাজে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন ইঞ্জিনিয়ার উজ্জ্বল মল্লিক। পূর্বাচলকে শুরু থেকেই একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেন তিনি। 

দায়িত্ব নিয়ে শুরুতেই পূর্বাচল নিয়ে যতো স্টাডি হয়েছে তার রিপোর্ট খোঁজা শুরু করেন উজ্জ্বল মল্লিক। কিন্তু রাজউকসহ বিভিন্ন স্থানে নথি রক্ষণাবেক্ষণে দুর্বলতার কারণে কোথাও ‘প্রকল্প উপদেষ্টা’- এর মাধ্যমে করা প্রথম ফিজিবিলিটি স্টাডি রিপোর্টটি পাচ্ছিলেন না। অবশেষে সেটি তিনি খুঁজে পান বুয়েটের সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে। বেশ কয়েকটি ভলিউমে করা সেই রিপোর্ট ফটোকপি করে মনোযোগ দেন প্রকল্পের উৎস সম্পর্কে।

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প নিয়ে কোনো প্রকাশনা ছিল না। এতো বড় শহরের কাজ হচ্ছে, এর পেছনে কোনো রিসার্চ নেই, নেই কোনো নথির সংরক্ষণ। এই অবস্থায় দায়িত্ব নেয়া প্রসঙ্গে উজ্জ্বল মল্লিক বিপরীত  স্রোতকে বলেন, ‘এটা আমার কাছে শুধু চাকরি নয়, এটি আমার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমি রাজউকে জয়েন করি ২০০০ সালে। ২০০৯ সালে পূর্বাচলের প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করতে এসে প্রথম পূর্বাচল সম্পর্কে ধারণা পাই। এরপর থেকে আমি নানা ভাবে এই প্রজেক্টের সঙ্গে জড়িত। ২০১৬ সালে সুপারেন্টেন্ড ইঞ্জিনিয়ার পদে প্রমোশন পাই। আমি প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করি ২০১৮ সালে। বর্তমানে আমি প্রকল্পটির দশম প্রকল্প পরিচালক। প্রথমে আমি ঠিক করলাম আমি কী করতে পারি। আমার প্রাথমিক টার্গেট কী হওয়া উচিত। আমাকে যে কাজ দেয়া হয় সেই কাজটির যথাযথভাবে সম্পাদন করার সর্বাত্মক চেষ্টা করে থাকি। প্রথম কাজ জমির মালিকদের প্লট বুঝিয়ে দেয়া। সে-প্রেক্ষিতে রাস্তা ও ইউটিলিটি সার্ভিস নিশ্চিত করতে হবে। প্রকল্পের বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সরবরাহের কাজ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আওতাধীন। আমার আওতায় আছে রাস্তা, ব্রিজ, ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, লেক, স্কুল ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ কাজ। আমি সেই লক্ষ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কাজ শুরু করলাম।’

উজ্জ্বল মল্লিক স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘শুরু থেকেই এখানে এসে আমি বুঝতে চাইতাম, আমার ভূমিকা কী? এক সময় এখানে