গোলাম রহমান
আমরা প্রাকৃতিক পরিবেশে বসবাস করি। তার মধ্যে নবায়নযোগ্য ও অনবায়নযোগ্য সম্পদ রয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রাকৃতিক সম্পদ দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করতে হবে যাতে উন্নয়ন টেকসই হয়। আমাদের দেশে বিশুদ্ধ পানির অভাব, রোগ বালাইয়ের বিস্তার,অপুষ্টি এবং জলবায়ু পরিবর্তন অন্যতম। চারপাশের মাটি,পানি, বাতাস পরিবেশের অংশ। প্রতিনিয়ত জেনে বা না জেনে পরিবেশের আমরা ক্ষতি করে চলছি। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য নয় এমন জ্বালানি (ফসিল ফুয়েল) শেষ করে ফেলছি। অনবায়নযোগ্য বলতে
ফসিল ফুয়েল (প্রাকৃতিক তেল গ্যাস পুড়ে যে জ্বালানি তাকেই ফসিল ফুয়েল বলে যেমন: বিদ্যুৎ উৎপাদন), গাছ পালা কেটে সাবাড় করে ফেলছি। সুপেয় পানির আধার শেষ হয়ে যাচ্ছে। দিনে দিনে চারপাশের জলাশয় নষ্ট এবং দূষিত হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে নানা রকম রোগ বালাইয়ের বিস্তার ঘটছে। তার মধ্যে ডেঙ্গু,ম্যালেরিয়া,ফাইলেরিয়া অন্যতম।
পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠে যতো পানি আছে তার মাত্র ০.৮০ ভাগ সুপেয় (পোর্টেবল ওয়াটার)। আরো ২.২ ভাগ সুপেয় পানি আছে যা মেরু অঞ্চলে বরফ হিসেবে জমাট বাধা অবস্থায় আছে। পৃথিবীতে মোট সম্পদ নির্দিষ্ট পরিমাণ। তা বাড়ছেও না কমছেও না, শুধুমাত্র রূপ পরিবর্তন হচ্ছে। অতিরিক্ত ব্যবহার এবং অতিমাত্রায় অত্যাচারের ফলে দিনে দিনে প্রাকৃতিক সম্পদ সংকুচিত হয়ে আসছে। জৈববৈচিত্র (Biodiversity) ধ্বংস হয়ে গেছে, Eco System আর আগের মতো নেই। নির্বিচারে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের ফলে দূষণের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। ঢাকা শহর দূষণের মাত্রা এখনো দিল্লি বা সাংহাইয়ের মতো হয় নি। তবে এখানকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গিয়েছে। ঢাকার বায়ু সর্বাধিক দূষিত। পানিতে দূষণের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ের চেয়ে অনেক বেশি। শিল্পকারখানা থেকে বর্জ্য নিঃসরণের ফলে পানি, মাটি এবং দূষিত হচ্ছে। শ্বাসপ্রশ্বাস জনিত রোগে আক্রান্তের হার আগের তুলনায় অনেক বেশি।

গ্রিন হাউজ গ্যাস ও গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বৈশ্বিক উষ্ণতা
গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বৈশ্বিক উষ্ণতা শব্দটির সাথে আমরা কমবেশি পরিচিত। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসে, কিছু অংশ প্রতিফলিত হয়ে ফিরে যায়, কিছুটা পৃথিবী কর্তৃক শোষিত হয়। ভূপৃষ্ঠে আলো শোষিত হয়ে ফলস্বরূপ তাপ উৎপাদন করে। anybody when absorb radiation emit heat. আমরা যে আলো দেখি সেটা ক্ষুদ্র তরঙ্গ। আর উৎপাদন করে দীর্ঘ তরঙ্গ (লং ওয়েভ ইনফ্রারেড রেডিয়েশন)। এই দীর্ঘ তরঙ্গ অধিকাংশই আবার মহাশূন্যে ফিরে যায়। যে অংশ যেতে পারে না সেটাই গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর জন্য দায়ী। কেন যেতে পারে না?
কিছু গ্যাস যেমন: জলীয় বাষ্প,কার্বন ডাই অক্সাইড, মিথেন সিএফসি (ক্লোরো ফ্লোরো কার্বন)। এই গ্যাস সমূহ তাপকে ধারণ করে,আটকে রাখে এবং ভূপৃষ্ঠ গরম হতে ভূমিকা পালন করে। এজন্য আমরা এই গ্যাসগুলোকে গ্রিন হাউজ গ্যাস বলে থাকি। গ্রিন হাউজ যেমন কৃত্রিম ভাবে তাপ ধরে রাখে। এই গ্যাস সমূহ একই কাজ করে ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করতে ভূমিকা রাখে। কার্বন ডাই অক্সাইড প্রাকৃতিক ভাবে (আগ্নেয়গিরির উদ্গীরণ, প্রাণিদের নিঃশ্বাসের ফলে সৃষ্ট) এবং গাছপালা পোড়ানোর মধ্য দিয়ে উৎপন্ন হয়। মিথেন - কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল পোড়ানোর মধ্য দিয়ে মিথেন উৎপন্ন হয়। জৈব আবর্জনা ভূমিতে ফেলে রাখলে পচে মিথেন গ্যাস সৃষ্টি হয়। এছাড়া গরুর হজম প্রক্রিয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মিথেন তৈরি হয়। মিথেন কার্বন ডাই অক্সাইডের চেয়ে ২৮ গুণ বেশি তাপ ধরে রাখে। নাইট্রাস অক্সাইড জৈব জ্বালানি পোড়ানোর ফলে এবং মাটি চাষাবাদের ফলে উৎপন্ন হয়। এটা কার্বন ডাই অক্সাইডের তুলনায় ৩০০ গুণ বেশি তাপ ধরে রাখতে পারে।
মানবসৃষ্ট কারণের মধ্য অন্যতম রেফ্রিজারেশনে সিএফসি ব্যবহার এবং অগ্নিনির্বাপণে হ্যালোন গ্যাস ব্যাবহার অন্যতম। এছাড়াও সিমেন্ট উৎপাদন এবং বাঙ্কার ফুয়েল পরিবহন অন্যতম।
গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর ফলাফল
বিরূপ আবহাওয়া (হঠাৎ ঘূর্ণিঝড়,শুষ্কতা,বনে আগুন, প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সূচনা)। সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি (মেরুর বরফ গলে, জলীয় বাষ্পের কারণে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি,৫০ সে.মি. বৃদ্ধি পেলে পৃথিবীর অধিকাংশ শহর তলিয়ে যাবে, বিজ্ঞানীরা আশংকা করছেন এরকম চলতে থাকলে,একবিংশ শতাব্দীতে সমুদ্রের উচ্চতা ৯-৮৮ সে.মি. বৃদ্ধি পেতে পারে)। জৈববৈচিত্র ধ্বংস (আগামী ৩০ বছরে ২৫% স্তন্যপায়ী এবং ১২% পাখির প্রজাতি পৃথিবী থেকে চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে)। কৃষির ক্ষতি (শীতল এলাকা,কানাডার উত্তরাঞ্চল হয়ত লাভবান হবে,তবে অনেক এলাকা শুষ্ক হয়ে মরুভূমি হয়ে যেতে পারে)। রোগবালাইয়ের বিস্তার ( ডেঙ্গু,ইয়েলো ফিভার, এনসেফালিটিস সহ নানা