English
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

প্রকাশঃ ২০২০-০৭-০৭ ০৮:১৩:৪৩
আপডেটঃ ২০২৬-১১-০২ ১৪:৪৮:৫৪


৯০-এর মধ্যবিত্ত: পাড়া-তো চালচিত্র

৯০-এর মধ্যবিত্ত:  পাড়া-তো চালচিত্র

সামিনা হক শাম্মী

'চয়নিকা' নামে আমাদের একটা বোর্ডের বই ছিল। কারো কি মনে পড়ে? তখন আমি তৃতীয় শ্রেণীর বাংলা মিডিয়ামের ছাত্রী। মধ্যবিত্তের বেড়ে ওঠার এই এক সুবিধে তখন.... সবগুলো পরিবারের মধ্যেই কোথায় যেন এক ভীষণ মিল। সব বিষয়ে uniqueness বা সবার চেয়ে ভিন্ন হবার কোনো স্যাঁতস্যাঁতে প্রতিযোগিতা নেই।সব কিছুতেই এ-বাড়িতেও যা, ও-বাড়িতেও প্রায় একই নিয়ম-কানুন আর পছন্দ-অপছন্দের ছড়াছড়ি। বরং দু'বাড়ির কোনো কিছু হুবহু মিলে গেলে সেটা যেন এক বাড়তি পাওয়া; সে শাড়ি-কাপড়, জামা-জুতো, কাপ-প্লেট, গৃহশৈলীর সৌন্দযবর্ধক তৈজসপত্র, যাই-ই হোক-না কেন। 'ব্র্যান্ড' নামক দৈত্যটা মধ্যবিত্তের শক্ত কাঁধে তখনও চড়াও হতে পারেনি। একই ভাবে বাচ্চাদের স্কুল নির্বাচন নিয়েও ছিল না অতিমাত্রার কোনো বাড়াবাড়ি বা জোরাজুরি। স্কুলের মান ভিত্তিক ভালো-মন্দের ফারাক থাকলেও; সাধারণতঃ 'স্কুল দেখে' বাসা নয়, বরং 'বাসা-দেখে' সেই বাসার অবস্থানগত নৈকট্যার ভিত্তিতে কাছের স্কুলগুলো বিবেচনা করা হতো। অতঃপর, ওগুলোর মধ্য থেকেই ছেলেমেয়েদেরকে স্কুলের ভর্তি পরীক্ষায় বসিয়ে দিতেন বাবা মায়েরা। ভর্তি পরীক্ষার টেকা-টেকির মাধ্যমে নির্ধারিত হতো বাচ্চাদের 'বিদ্যালয় গন্তব্য'। ডিসেম্বরের হিমহিম ঠান্ডার মধ্য দুপুরে; এক হাতে বার্ষিক পরীক্ষার উত্তীর্ন-পত্র এবং সেই ভাঁজে গোলাপি ও সবুজ কাগজের দুটি বুক লিস্ট বুকে চেপে, বাড়ি ফিরতাম লম্বা ছুটির আমেজ মেশানো 'নতুন ক্লাশে' ওঠার আনন্দে নাচতে নাচতে। হ্যাঁ, 'নাচতে নাচতে'-ই বলা চলে। কারণ, বাচ্চাকে গাড়ি করে ড্রাইভার সাহেব 'স্কুল থেকে বাড়ি' আর 'বাড়ি থেকে স্কুল' পৌঁছে দিচ্ছেন - এমন দৃশ্য ঐসময় প্রায় হাতে গোনা। বরং পাড়াভিত্তিক ছেলেমেয়েরা ; যারা দল বেঁধে হেঁটে বাড়ি ফিরতো, তাদের প্রতি 'গাড়ি চড়ুয়া বাচ্চাগুলো'র বিদায়কালীন চোখে 'নিরব জ্বলুনী'ই দেখেছি যেন । অতিমাত্রায় সরলতায় কেউ কেউ তো বলেই বসতো, "ইস্ দোস্ত, আমিও যদি তোদের মতো দলবেঁধে বাড়ি ফিরতে পারতাম..।" 

 

প্রতিটা পাড়াতেই একাধিক একই স্কুলের ছেলেমেয়ে পাওয়া যাবেই ;যারা নিজেরাই যুক্তি করে, দলবেঁধে স্কুলে আসা-যাওয়ার ব্যবস্থাপত্রটা এঁটে নিতো নির্দ্বিধায়। ওসব নিয়ে ভাবার মতো ফুরসৎ বাবা-মায়ের ছিল না বললেই চলে। ছেলেমেয়েরা সময় মতো হাত-পা নিয়ে ঘরে ফিরেলই হলো। তাছাড়া, এদিক সেদিক করলে পাড়ায় তাদের ছোট-